# ঝুট সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিবেন না : শামীম ওসমান
# ব্যবসায়ীর বুক ফাটছে বলতে পারছে না: সেলিম ওসমান
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শাসনগাঁও বিসিক শিল্প এলাকা সারাদেশে পরিচিত। দেশের পোশাক খ্যাাতের রপ্তানির সিংহভাগ আয়ের অন্যতম অবদান রাখে বিসিক শিল্প এলাকা। এখানে প্রায় সাড়ে ৫শ’র বেশি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী রয়েছে। তবে এই গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের অভিযোগ এক শ্রেনীর সন্ত্রাসীরা প্রভাব বিস্তার করে জুট সেক্টরকে। জুটের ন্যায্য মূল্য না দিয়ে কম টাকা দিয়ে মালিকদের থেকে জুট নিয়ে যায়। কিন্তু এই জুট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তেমন একটা ব্যবস্থা নেয়া হয় না।
সম্প্রতি সময়ে জুট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের দুই সাংসদ। এমনকি জুট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হলে লাল পতাকা নিয়ে নামার ঘোষনা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান। সচেতন মহল থেকে শুরু করে সর্ব মহলে প্রশ্ন উঠেছে জুট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কেন প্রশাসন ব্যবস্থা নেন না। কিংবা এই জুট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কেন মালিকরা প্রশাসনে অভিযোগ করেন না। তাহলে কি এই ভাবে জুট সন্ত্রাসীদের কাছে মালিকরা জিম্মি থাকবে।
এদিকে সম্প্রতি জুট সন্ত্রাসীদের নিয়ে বিব্রত অবস্থা রয়েছে নারায়ণগঞ্জের দুই এমপি। তার মাঝে ৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান জুট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মুখ খুলেছেন। এর আগে একই বিষয়ে বিব্রত হয়ে মুখ খুলেছেন ব্যবসায়ী সংগঠন বিকেএমই এর সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। কিন্তু দুই সাংসদ বলেছেন তাদের পরিবারের হলেও যেন ছাড় দেয়া না হয়।
একাধিক ব্যক্তি জানান, নারায়ণগঞ্জের পোশাক শিল্প মালিকরা জুট নিয়ে সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ বিসিক শিল্পনগরীর মালিকদের জিম্মি করে কম মূল্যে জোরপূর্বক জুট কিনে নেয়। মালিকদের এমন অভিযোগ বহু বছরের। তবুও জুট সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন থেকে সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এসব জুট সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে উদ্যোগী হওয়ার জন্য।
চলতি বছর ৪ জানুয়ারি আহ্বান জানিয়েছিলেন বিকেএমইয়ের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান। এবার বড় ভাইয়ের সুরে জুট সন্ত্রাসীদের হুশিয়ারি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে শামীম ওসমান। কোন জুট সন্ত্রাসীকে ছাড় দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে দুই সহদোর সাংসদ এই সুরে কথা বললেও এবিষয়ে প্রশাসন নিরব।
বুধবার ফতুল্লার বিসিকে শিল্প মালিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিসিকে এত বড় বড় ব্যবসায়ী ব্যবসা করছে। এখানে মাস্তানরা মাস্তানী করে কীভাবে? আপনারা নিশ্চিন্তে থাকেন। আপনারা কাউকে (জুট সন্ত্রাসীদের) প্রশ্রয় দিবেন না। ঈদের পর র্যাব, পুলিশ, প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে আসবো। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা মাল কী করবেন এটা আপনাদের ব্যাপার।
আপনারা একটা অনুষ্ঠান করুন। শিল্পমন্ত্রণালয় আমাদের সমস্যা সমাধান না করলে আমরা ট্যাক্স দিবো না। আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি শামীম ওসমান কখনো কোন ব্যবসায়ীর কাছে কোন লোক পাঠায় নাই, কোন লোক পাঠাবে না। কেউ যদি আমার কিংবা আমার পরিবারের নাম ব্যবহার করে, তাহলে প্রশাসনকে জানান নয়তো আমাকে জানান।
আমি ব্যবস্থা নিবো। এখানে এত বড় বড় ব্যবসায়ী, এখানে কোথাকার কোন মাস্তান এসে মাস্তানি করে কিভাবে। আমি ব্যবসায়ীদের বলবো, আপনারা নিশ্চিন্ত থাকেন। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, যে যেই দল করুক না কেন, যেই হোক না কেন; আই ডোন্ট কেয়ার ড্যাম। আমি সাদাকে সাদা বলি, কালোকে কালো বলি।
এর আগে ৩ জানুয়ারি সাংসদ সেলিম ওসমান বিকেএমই’র এক অনুষ্ঠানে বলেন, এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘এখান থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে আহ্বান করবো, আমার নারায়ণগঞ্জের মানুষ এই কষ্টে থাকতে পারবে না। আমার ফ্যাক্টরীর ভিতরে প্রবেশ করে আমার মালিককে ধমকা-ধমকি করবে। আমার জুটের দাম নির্ধারণ করবে। কারা তারা, ব্যবস্থা নিন।’ এখন অনেক ব্যবসায়ীর বুক ফাটছে কিন্তু বলতে পারছে না। তাই আমি বলছি, বর্তমানে কিছু উশৃঙ্খল ছেলে-পেলের জন্ম হয়েছে এই নারায়ণগঞ্জে।
আরেকটা আছে ভাইজান গ্রুপ। তারা কিভাবে বিভিন্ন কারখানায় কারখানায় জুট ব্যবসার সৃষ্টি হয়! দেখেন। ‘আমি এখনও মরি নাই। ওরা যদি আমার বাপও হয়, কোন রকমের ছাড় দেওয়া হবে না। আপনারা সরাসরি বলতে না পারলে লিখিত ভাবে অভিযোগ বিকেএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের কাছে জমা দিবেন। এবার প্রয়োজনে লাল পতাকা নিয়ে আপনাদের সাথে বের হবো। সে যদি আমার বাপও হয়, তাহলেও ছাড় দেওয়া হবে না। কোন রকমের ছাড় নাই। কবে নাগাত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে সেই দিকে তাকিয়ে রয়েছে ব্যবসায়ীরা।এস.এ/জেসি


