নারায়ণগঞ্জ শব্দটা আসলেই মাথায় আসে মাদক সমস্যার কথা। পুরো জেলা মাদক এর কালো থাবায় বিপর্যস্ত। মাদক সমস্যা নারায়ণগঞ্জের এক কালো অধ্যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলীতে মাদক সমস্যা ব্যাপক আকার ধারন করেছে। সূত্র মতে, বক্তাবলির বালুরচর, কানাইনগর সহ গোটা বক্তাবলীজুড়ে মাদকের রমরমা ব্যবসা ও সেবন চলছে অহরহ।
নদীঘেষা ও জনঘনত্ব কম হওয়ায় মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের প্রথম পছন্দ যেনো বক্তাবলী। এ জনপদে হাত বাড়ালেই মাদক মেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহীনির অপ্রতুল্যতা, মাদক ব্যাবসায়ীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সখ্যতা ও কথিত সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় চলে এ মাদক কারবার। তবে যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে এ সমস্যা প্রবল আকারে দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তারা আক্ষেপ করে বলেন মাদকটা একেবারে শেষ করে দিছে এই এলাকাটারে। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেগুলো এখন বড়দের দেখাদেখি মাদক সেবন করছে অহরহ। শুধু তাই নয়, মাদক বিক্রেতারা ছোটো ছোটো বাচ্চাদের তাদের সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করে অকালেই শেষ করে দিচ্ছে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ।
তারা আরোও বলেন, গোপনে নয় , এই এলাকায় প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে মাদক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায়না। পুলিশদের ও তাদের সাথে সখ্যতা দেখা দেয়। তবে এসব সমাধান হবে কিভাবে। মোট কথা বক্তাবলী যেনো মাদক সেবী ও বিক্রেতাদের অভয়ারন্যে পরিণত হয়েছে।
এই ব্যাপারে কথা বলতে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শওকত আলীর সাথে কথা বললে তিনি এ ব্যাপারে নিজের ব্যার্থতা স্বিকার করে বলেন আমি অবগত আছি এই সমস্যাটা নিয়ে। আমি মাদকের ব্যাপারে একেবারে আপোষহীন। কারন ১ জন মাদকসেবী একটা পরিবার তথা গোটা সমাজকেই ধ্বংশ করে দিতে পারে।
তবে এই সমস্যা সম্পূর্ন নির্মূল করতে আমি ব্যার্থ হয়েছি তা অস্বীকার করছিনা। এর কারন হিসেবে তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় এখানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যা অনেকটাই কম। মাদক বিক্রেতা ও সেবীরা প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
শুধু তাই নয় এরা গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই কাজে আরো প্রবল ভাবে যুক্ত হয়। কেউ কেউ পুলিশের সাথে সখ্যতা করে ম্যানেজ করে এই ব্যবসা চালিয়ে যায়। ফলে এদের নির্মূল করা অনেকটা কঠিন। তবে প্রতিটা ওয়ার্ডে প্রতিটা মেম্বারকে নির্দেশনা দেওয়া হবে কোন পরিবার কিংবা কোনে ব্যাক্তি এসব এর সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করতে।
তিনি আরোও বলেন, এ সমস্যা নির্মূলে সবাইকে প্রথমত সামাজিক ভাবে সচেতন হতে হবে। পরিবারকে তাদের সন্তানকে কঠোর ভাবে মনিটরিং করতে হবে। তার সন্তান কোথায় যায়, কি করে, কাদের সাথে মিশে এগুলো দেখতে হবে। তবেই এ সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব। তবে বক্তাবলী বাসী তথা গোটা সুশীল সমাজ চায় বক্তাবলীবাসী মাদকের এ ভয়ানক থাবা থেকে মুক্ত হোক। পরিছন্ন বক্তাবলী গড়ে উঠুক। এন. হুসেইন রনী/ জেসি


