# পরাজিত হওয়ার ভয়ে ভোট চান না খোকন
# ভোটের মাধ্যমে কর্মীবান্ধব নেতা নির্বাচিত করতে চায় তৃণমূল
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনিপর সম্মেলনকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে অনেকটাই উজ্জ্বীবিত ভাব দেখা যাচ্ছে। জেলা বিএনপির সকল নেতাকর্মী ইতিমধ্যেই নানা প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দিয়েছে। তার পাশপাশি ইউনিটগুলোর নেতৃবৃন্দরা ও পছন্দের নেতাকে নিজস্ব মূলবান ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে অনেকটাই প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়াও কাউন্সিলকে ঘিরে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা দফায় দফায় আলোচনা সভা পালন করে যাচ্ছে।
এমতাবস্থায় শোনা যাচ্ছে জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক সাবেক নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক গিয়াসউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভবনা অনেকটাই বেশি। কিন্তু সংশয় দেখা যাচ্ছে সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে। এই পদে পদায়ন হওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই কয়েকজন ত্যাগী নেতা নানাভাবে লবিং করে যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদকের পদে প্রার্থী হিসেবে যারা রয়েছে তাদের সকলেরই দাবি যাতে সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদের ভোটভোটির মাধ্যমে যাতে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
কিছু ইউনিটের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগসহ নানা সূত্রে জানা গেছে, ভোটাভোটির মাধ্যমে নেতা নির্বাচন হোক না চান না জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন। সকল ইউনিটের নেতাকর্মী ঊর্ধ্বে গিয়ে বলয় দ্বারা লবিংয়ের মাধ্যমে কোন সম্মেলন ছাড়াই সাধারণ সম্পাদকের পদে নির্বাচিত হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে গোলাম ফারুক খোকন।
যার পরিপ্রেক্ষিতে নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, বর্তমানে গিয়াস উদ্দিনের মতো স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ নেতার হাতে দায়িত্ব থাকার পরেও কিভাবে নেতাকর্মীদের ভোট হরণ করার চেষ্টা করছে গোলাম ফারুক খোকন। এছাড়াও বাকি প্রার্থী যারা রয়েছে তারা তো কোনভাবেই কারচুপি করার চেষ্টা করছে না। তাহলে এই খোকনের এতো ভয় কিসের এমনটাই প্রশ্ন তুলছে কেউ কেউ সকলেই বলছে সে যদি দলের জন্য যোগ্য নেতা হন। আর কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে থাকেন। তাহলে সকলের ভোটের মাধ্যমেই তিনি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু তা না করে তিনি ভীত হয়ে পরেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৪ বছর পর জেলা বিএনপির জাঁকজমক সম্মেলন নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে একটু উল্লাস কাজ করছে। এছাড়াও নেতাকর্মীদের মূলবান ভোটে যে নেতা নির্বাচিত হবে যার কারণে বর্তমানে ইউনিটের নেতাকর্মীরা অনেকটাই আগ্রহ হয়ে উঠেছে। এর আগে বা বিগত দিনে নেতাকর্মীদের পছন্দ অনুযায়ী কোন নেতা নির্বাচিত হয়নি। কেন্দ্রে যে ভালো লবিং করতে পেরেছে সেই দায়িত্ব পেয়েছে। কিন্তু এবার তার উল্টো সকলের হাতেই নির্বাচিত হতে যাচ্ছে নেতা।
কিন্তু জানা যাচ্ছে, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী গোলাম ফারুক খোকন একটি পক্ষ তৈরি করেছে তারা যাতে যেকোন মূল্যে সম্মেলনটা বন্ধ করে দেয়। তারা নেতাকর্মীদের মাঝে নানা গুজব ছড়িয়ে সকল নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করছে। যার মূল কারণ হলো তিনি চাচ্ছেন যে ভোটাভোটির মাধ্যমে যাতে নেতা নির্বাচিত না হয়। তার ধারনা ভোটাভোটি হলে তার নিশ্চিত পরাজয়। সেই ভয়ে তিনি বর্তমান জেলা বিএনপির মূল কমিটিতে এসে ও জেলা যুবদলের আহ্বায়কের পদটি ছাড়ছেন না।
কিন্তু সে ধারনা করছে জেলা বিএনপির মূল পদে না আসতে পারলে তিনি আবারও সেই আহ্বায়ক পদে ফিরে যাবেন। এছাড়াও বর্তমানে জেলা বিএনপির সম্মেলন নিয়ে অনীহা করছে খোকন। সে চাইছে যাতে কেন্দ্রীয় বিএনপি কোন ভোটাভুটি ছাড়াই পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন হলে তার অনেকটাই সুবিধা হবে। যে কারণে তিনি তার রাজনীতি গুরু নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়াকে দিয়ে জোরদার লবিং রেখেছে।
যে কারণে তার এই ধরনের কর্মকান্ডে অনেকটাই অসন্তোষ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন। তিনি ও চান নেতাকর্মীদের ভোটের মাধ্যমেই যাতে কর্মীদের পছন্দের নেতা নির্বাচিত হয়। জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২৫শে নভেম্বর শহরের আলী আহমেদ চুনকা পৌর মিলনায়তনে জেলা বিএনপি’র সর্বশেষ সম্মেলনে তাকে বাদ দেয়া হয়।
সর্বশেষ সম্মেলনে তৈমূর আলম খন্দকারকে সভাপতি ও কাজী মনিরুজ্জামানকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধরণ সম্পাদক করা হয়েছিল। তার পর থেকে কোন কাউন্সিল ও হয়নি। আর নেতাকর্মীদের পছন্দের নেতাও নির্বাচিত হয়নি শুধু কেন্দ্রে যাকে তাকেই নেতাকর্মীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচিত করতে নেতাকর্মীরা নানা উল্লাস হয়ে উঠলেও সেটার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গোলাম ফারুক খোকন।
এছাড়াও সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে যতগুলো পদে পদায়ন হয়েছে এই গোলাম ফারুক খোকন তার রাজনীতি শুরু দিপু ভূঁইয়ার আর্শীবাদেই পদায়ন হয়েছেন তিনি। আর সে কখনো রাজনীতিতে লড়াকু ভূমিকা পালন করেনি। তার রাজনীতি ইতিহাসই হচ্ছে এসি রুমে বসে রাজনীতি করার ইতিহাস তা ছাড়া রাজপথের নেতা হিসেবে নেতাকর্মীরা তাকে অনেকটাই কমই চিনে। এমনকি দলীয় কোন কর্মসূচিতে ও আসলে এই গোলাম ফারুক খোকন নিজস্ব কিছু ভ্যানগার্ডের দ্বারা সার্পোট নিয়ে থাকেন।
কিন্তু বর্তমানে এই রাজনীতি করার সময় নেই সকল নেতাকর্মীকেই রাজপথে নেমে সকল নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। সেই লক্ষে এবার জেলা বিএনপির কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটের মাধ্যমেই যোগ্য নেতা হবে এমনই চায় তৃণমূল। নেতাকর্মীরা বলছে, দেখা যাচ্ছে জেলা বিএনপির কাউন্সিলের নির্বাচনটা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্ট্যাইলে যারা ক্ষমতায় আছে তারই স্বাদ গ্রহণ করতে চাচ্ছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় থেকে মনে করছে না এবার যদি সম্মেলন না হয় তাহলে তাদের ব্যর্থতার ভার কাঁদে নিতে হবে।
আর এই সম্মেলন না হতে পারলে বর্তমান জেলা বিএনপির যে কমিটি রয়েছে সেটাও আগামীতে না থাকতে পারে। সব মিলিয়ে খোকনের এমন কর্মকান্ডে বিগত দিনের মতো ভেঙ্গে পরতে পারে জেলা বিএনপির কমিটি। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছে, বর্তমানে নেতাকর্মীদের মাঝে যে উজ্জ্বীবিততা কাজ করছে ভোটাভোটির মাধ্যমে নেতা বাছাই করার। তা যদি সুষ্ঠুভাবে কোন জালিয়াতি না হয়ে সম্পূর্ণ হয়। তাহলে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এটার সুফল ভোগ করতে পারবে। এস.এ/জেসি


