এমপি’র বাড়ির কাছের ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষ, রাস্তায় পড়ে ছিলো ককটেল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৩, ০৭:০২ পিএম
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর বাড়ির কাছে ভোট কেন্দ্রে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রের সামনে রাস্তায় অবিষ্ফোরিত ককটেল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সোমবার (১২ জুন) দুপুরে কৃষ্ণপুরা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। এর আগে সকালে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নাগেরচর মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে ভোটার ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌর নির্বাচনের ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীর ও শব্দর আলী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা হয়। এসময়ই উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর বাড়ির সামনের সড়কে অবিস্ফোরিত দুই ককটেল পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইবি স্বপ্নডানা একাডেমী ভোট কেন্দ্রের বাইরে সকাল থেকেই অবস্থান নেন উট পাখি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন ও ডালিম প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী সব্দর আলী ভূঁইয়া। এসময় দুই প্রার্থীর শতাধিক কর্মী সমর্থকরাও সেখানে জড়ো হলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুষলধারে বৃষ্টির সময় দুপুর সোয়া বারোটার দিকে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হলে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় বিশ মিনিট ধরে তাদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পালটা ধাওয়া ও মারামারি হয়। একাধিক ককটেল বিস্ফোরণও হয়।
এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনসহ চারজন আহত হলে দু'পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ চার রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে উভয়পক্ষের কর্মী সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এসময় পুলিশ স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর বাস ভবনের নিকটে সংঘর্ষস্থল থেকে অবিস্ফোরিত দুইটি ককটেল জব্দ করে। পরে গুরুতর অবস্থায় আহত কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনকে রূপগঞ্জের ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তার কর্মী সমর্থকরা। এছাড়া আহত অপর তিনজনকে আড়াইহাজারের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
তবে সংঘর্ষের ঘটনা নয় বরং কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে জানিয়েছে আড়াইহাজার থানার ইন্সপেক্টর (অফিসার ইনচার্জ) এমদাদুল ইসলাম তৈয়ব। তিনি বলেন, কথা কাটাকাটির হয়েছে। তবে কোন সংঘর্ষ হয়নি। তাছাড়া নির্বাচনে পক্ষ বিপক্ষ থাকে। আমরা ঘটনাস্থলে যথেষ্ঠ পুলিশ মোতায়ন করেছি।
আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আড়াইহাজার উপজেলায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ বিশেষ অবস্থান আছে। নির্বাচনে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
দুপুর ১২টায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে প্রায় ১০টি কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে উৎসব মূখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুরুষ এবং নারীরা পৃথক ভাবে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিচ্ছে।
এখনো পর্যন্ত কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বা আমাদের চোখে পড়েনি। এখনো সবাই সুষ্ঠভাবে ভোট দিচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ি আমাদের স্টাইকিং, মোবাইল, কেন্দ্র পুলিশ পর্যাপ্ত মোতায়েন করেছি। এর বাইরেও র্যাব, এক্সিকিউটিব মেজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট কাজ করছে। ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে টুকটাক কথা-কাটাকাটি হয়। তবে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।
উল্লেখ্য, সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এদিকে, ১১টি ভোটকেন্দ্রে ২৪ হাজার ৪শ’ ৬৫ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র সুন্দর আলী।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন ৩জন। তারা হলেন- আড়াইহাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি হাবিবুর রহমান, আড়াইহাজার পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মামুন উর রশিদ।এন.হুসেইন রনী /জেসি


