Logo
Logo
×

রাজনীতি

মহানগর বিএনপির এ্যাকশন ভিলেন নেতা এড.টিপু

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৩, ০৭:৪৯ পিএম

মহানগর বিএনপির এ্যাকশন ভিলেন নেতা এড.টিপু
Swapno

 

# টিপুর চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি আর রূঢ় আচরণে বিব্রত তৃণমূল
# কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে বিএনপির কর্মীর হাতাহাতি

 

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর কারণে। দলকে শক্তিশালী করার চেয়ে দলীয় কোন্দলই এখানে বেশি দেখা যায় বলে জানান একাধিক নেতা কর্মী। স্থানীয় নেতা কর্মীদের অভিযোগ রয়েছে মহানগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতার রূঢ় আচরণে নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত বিব্রত।

 

সম্প্রতি দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির দলীয় কর্মসূচি থেকে শুরু করে সম্মেলনে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই হাতাহাতি, ঘুষাঘুষি, চড়-থাপ্পড় মারামারির ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। যা রক্তাক্ত ঘটনা পর্যন্ত হয়েছে। এর পেছনে মুখ্য ভূমিকা খোদ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু নিজেই ঘটিয়েছেন।

 

এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারে মহানগর বিএনপির আওতাধীন সদর থানা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই সম্মেলনের মাঝামাঝি সময়ে এসে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সামনে হাতাহাতি, মারামারি, ঘুষাঘুষির ঘটনা ঘটে। এখানে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বিএনপির সহযোগী সংগঠন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আব্দুর রশিদ নামের এক নেতাকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারেন।

 

একই সাথে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে মহানগর বিএনপির দায়িত্বরত শীর্ষ নেতা টিপু আব্দুর রশিদকে চড় থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারার সাথে কলার ধরে টেনে নেন। প্রত্যক্ষদর্শী নেতারা প্রশ্ন তুলেন তিনি দলের শীর্ষ পদে থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সামনে কী করে এই ধরনের কাজ করেন। তার এমন কর্মকান্ডের জন্যই নেতা কর্মীরা বিরক্ত হন। তার এমন রূঢ় আচরনের জন্য স্থানীয় নেতা কর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও বিব্রত।

 

সেই সাথে তার এমন কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি ইতোমধ্যে বিতর্কিত হয়ে রয়েছে বিএনপিতেও। আবার কেউ কেউ বলছে টিপুর কারণেই মহাগর বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। তাকে নিয়ে নেতা কর্মীদের অভিযোগের শেষ নেই। এছাড়া তার কর্মকাণ্ডের জন্য প্রত্যক্ষদর্শী নেতা কর্মীরা ধিক্কার জানান। কিছুদিন আগে আদালতপাড়ায় এক কর্মীর সাথে মারামারির ঘটনায় জড়িয়েছিলেন টিপু।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগে শনিবার বন্দর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেখানেও ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে বন্দরের বিশৃঙ্খলার ঘটনার নেপথ্যে টিপুর রূঢ় আচরণের কারণে হয়েছে। টিপু থেকে মহানগর বিএনপির নেতারা কর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তার আগে ২৩ মে  কেন্দ্র ঘোষিত মহানগর বিএনপির পদযাত্রায় আড়াই হাজার বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ ও সুমন বলয়ের পক্ষ হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা রাজিব এবং যুবদল নেতা রনির গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

ওই দিন চাষাঢ়ার মিশন পাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাসুকুল ইসলাম রাজিব এবং জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিএনপি নেতা কর্মীদের না থামিয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুর আল হাসান খান টিপুকে পালিয়ে যেতে দেখে স্থানীয় নেতা কর্মীরা।

 

দলীয় সূত্রমতে জানাযায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের পর মহানগর বিএনপি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পরে। তার পর থেকেই পাল্টা বক্তব্যে, পাল্টা কর্মসূচি চলে। বর্তমানে শুরু হয়েছে পাল্টা কমিটি গঠনও। যার কারণে সংগঠনে সৃষ্টি হচ্ছে নানা বিশৃঙ্খলা। তাদের দলীয় কোন্দল থেকে মহানগর বিএনপির সকল দলীয় কর্মসূচিতে যে সাধারণ জনগণ সম্পৃক্ত হতো বর্তমানে তাদের দুই গ্রুপের কর্মকান্ডের কারণে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছে।

 

কেননা তাদের বিতর্কিত কর্মকান্ডে তাদের থেকে বিশ্বাসও উঠে যাচ্ছে মানুষের। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছে, মহানগর বিএনপির এই বক্তব্যযুদ্ধ শেষ হওয়া অনেকটাই জরুরী তা না হলে নারায়ণগঞ্জের বিগত দিনের বিএনপির শহর রাজনীতিতে মহানগরের বিশৃঙ্খলা আরো বৃদ্ধি পাবে। তারই প্রতিফলন ঘটছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সম্মেলনেও।

 

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সম্মেলনে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একজন করে প্রার্থী থাকায় এখানে প্রার্থী নিয়ে কোন হট্রগোল হয় নাই। কিন্তু অনুষ্ঠানের বক্তব্য চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করে আব্দুর রশিদের প্রতি চটে যান মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতা টিপু।

 

মহানগর বিএনপির কমিটি নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার নেপথ্যে স্থানীয় নেতা কর্মীরা টিপুকে দায়ী করছে। নাম প্রকাশ না  করার শর্তে এক নেতা বলেন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদে টিপু যোগ্য না। কেননা তার সাথে কর্মীরা ভালো ভাবে কথা বলতে পারেন না। তিনি যার তার সাথে রুঢ় আচরণ করেন। তার এই আচরণের কারনে আজকে শক্তিশালী দল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। তার কারনেই দলে কোন্দল হয়ে রয়েছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির মাঝে যে বিশৃঙ্খলা তৈরী হয়েছে। তা নিরসন করা না হলে আগামী নির্বাচনে এর জন্য তাদের মাশুল দিতে হতে পারে। কেননা এখন তাদের দুঃসময়। এই দুঃসময়ে যদি নিজেদের মাঝে বিশৃঙ্খলা লেগে থাকে তাহলে তা দলের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। দলের মাঝে বিশৃঙ্খলা তৈরীর নেপথ্যে থাকা নেতারাও তাদের দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। মহানগর বিএনপি যতই বিতর্কের উর্ধ্বে যেতে চায় কিন্তু ততোই তাদের মাঝে বিতর্ক তৈরী হচ্ছে।

 

সভা শেষে কয়েকজন গণমাধ্যমকে আব্দুর রশিদ জানান, আমাকে কেন চড়-থাপ্পড়-ঘুষি মারা হলো আমি কিছুই বুঝলাম না। টিপু ভিইয়ের এই ধরনের কাজ করা ঠিক হলো না। এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

 

গতকালকের সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু, কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া, আজহারুল ইসলাম মান্নান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন