# কবে ঘোষণা হবে সদর-বন্দরের ওয়ার্ড কমিটি
# সিদ্ধিরগঞ্জে ওয়ার্ড কমিটির হদিস নেই
# যাচাই-বাছাইয়ের পরে কমিটি ঘোষনা করা হবে : আনোয়ার
ঘনিয়ে আসছে আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি গুরত্বপুর্ণ হওয়ায় এবার আগে থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা জোরালোভাবে এখানে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন। একই সাথে তারা নৌকার জন্য ভোট চেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ে সদর বন্দর এলাকার ১৭ টি ওয়ার্ডের সম্মেলন হলেও এখনো কমিটি ঘোষনা হয় নাই।
তৃনমূল নেতাদের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুই মেরুর প্রভাবমুক্ত না হওয়ায় সম্মেলন হওয়া কমিটি গুলো এখনো ঘোষনা হয় নাই। কবে নাগাদ ঘোষণা হবে তাও জানেন না পদ প্রত্যাশী নেতা কর্মীরা। অনেকে মনে করেন, এক প্রভাবশালী সাংসদের ছত্রছায়ায় ওয়ার্ডকমিটিগুলো বগলদাবা করতে বাধ্য হয়েছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ডগুলোতে কমিটি করার দুঃসাহসও দেখাতে পারছেন না তারা।
দলীয় সূত্র মতে, জেলা মহানগর আওয়ামী লীগ মানেই উত্তর দক্ষিন মেরুর দুই নেতাকে বুঝানো হয়। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারীদেরকে উত্তর মেরুর হিসেবে চিনেন দলীয় নেতা কর্মীরা। তাদের বিপরীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকদের বুঝানো হয়। ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে এই দুই মেরুর দুই জনপ্রতিনিধির কমিটি গঠনে প্রভাব বিস্তার রয়েছে। আর এই কোন্দলের কারনেই নতুন কমিটি ঘোষনা না হওয়ায় পদপ্রত্যাশী নেতারা হতাশ হয়ে রয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ যেন কোনো ভাবেই প্রভাবমুক্ত হতে পারছে না এমন অভিযোগ উঠেছে তৃনমূল নেতা কর্মীদের থেকে। প্রায় সব সময়ই কারও না কারও প্রভাবের মধ্যে থেকে আটকে যাচ্ছে তাদের সাংঠনিক প্রক্রিয়া। সবশেষ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের বেলায় এমনটাই ঘটেছে। যেখানে একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের অধীনে ১৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলন হওয়ার ৪ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো কমিটি ঘোষনা হচ্ছে না। সম্মেলন হওয়া কমিটি গুলো ঘোষনা না হওয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্মেলনও শুরু হচ্ছে না। মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ডে সম্মেলন হওয়া কমিটি কবে নাগাত ঘোষনা হবে তাও জানেন পদপ্রত্যাশী নেতৃবৃন্দ। একই সাথে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন যেন অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না। আর এতে করে দল যেমন দুর্বল হচ্ছে তেমনি নতুন নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না।
দলীয় সূত্র বলছে, এই বছরের ১৫ জানুয়ারী বন্দরের ২২ ও ২৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে তা ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে। সফলতার সাথে সদর বন্দর এলাকার ১৭ টি ওয়ার্ডের সম্মেলন শেষ হয়। কিন্তু কোন ওয়ার্ডে কমিটি ঘোষনা হয় নাই। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মতে যাচাই বাচাই শেষ হরে কমিটি ঘোষনা করা হবে। একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদস শামীম ওসমানের নিদের্শনা পেলে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ড কমিটি সম্মেলন শুরু হবে। সেই সাথে ওয়ার্ড সম্মেলনের কাজ শুরু করেও দুই মেরুর প্রভাবের কারণে কমিটি ঘোষনা আটকে রয়েছে বলে জানান দলীয় একাধিক নেতৃবৃন্দ।
এর আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে গত বছরের ২৫ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পরে ওই দিন অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তা স্থগিত করা হয়। কিন্তু এখানে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবকে দায়ী করছেন না মহানগর আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সম্মেলন না হওয়ার পিছনে সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে না পারাকেই দায়ী করা হয়েছিল বলে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানিয়েছে।
উল্লেখ্য এর আগে, ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তৎকালীন শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
কমিটি গঠনের প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের অধীনে থাকা ওয়ার্ড কমিটিগুলোর ১৭টি ওয়ার্ডে সম্মেলন হলেও কমিটি ঘোষনা করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। মাঝে মাঝে কমিটি ঘোষনা নিয়ে আলাপ আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটা আর সফলতার মুখ দেখে না। বারবার আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটি। তবে এই কমিটি ঘোষনা না হওয়ার পিছনে প্রভাবকেই দায়ী করা হচ্ছে। যা বিভিন্ন সময় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের আলোচনাতেও উঠে এসেছে।
দলীয় সূত্রমতে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম বাবু এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমান। এই তিন এমপি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট এমপিদের মতামতের উপর ভিত্তি করেই গঠন করা হয়েছিল। এখানে অন্য কারও মতামমতকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি কিংবা কেউ মতামত প্রকাশ করার সাহসও করেননি। তাদের প্রভাব বিস্তারে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। তাদের ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকতে হচ্ছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, অপেক্ষা করেন। ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি যাচাই বাচাইয়ের পরে ঘোষণা করা হবে। এখনো যাচাই-বাচাই কার্যক্রম চলছে। তার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এস.এ/জেসি


