# নভেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে নেতৃত্বগুন বিকশিত
দীর্ঘ ১৪ বছর পর জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। সরকার দলীয় নানা বাধার মাঝেও আগামী ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বৃহত্তম নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কাউন্সিল। যাকে ঘিরে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসব আমেজ বিরাজ মান করছে। সম্মেলনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা নানাভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে।
জানা গেছে, জেলা বিএনপির সভাপতি পদে অপ্রতিদ্বন্দ্বী গিয়াস উদ্দিন। সভাপতি পদে তার কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে রয়েছে বেশ সংশয়, এই পদে বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব যে আহ্বায়ক কমিটিতে থেকে গিয়াস উদ্দিনের সাখে এক হয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা বিএনপির নাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীদের কাছে উজ্জ্বল করেছেন সেই গোলাম ফারুক খোকন, আরেক পাশে রয়েছেন জেলা বিএনপির কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক যাকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা ভিপি রাজীব হিসেবে চিনে থাকে সেই মাসকুল ইসলাম রাজীব।
এই দুই নেতাই বর্তমানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মনোনয়ন ক্রয় করেছেন। আর লড়াই ও করে যাচ্ছেন। এছাড়াও রাজধানীর সাথে অনেকটাই কাছাকাছি হিসেবে রয়েছে নরায়ণগঞ্জ। যার পরিপ্রেক্ষিতে সকল বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃৃন্দের চোখ থাকে এই নারায়ণগঞ্জের দিকেই। তাই কোন নেতা রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত তা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা খুব ভালো করেই যানে। যার কারণে যার দ্বারা দলকে সুসংগঠিত করা যাবে সংগঠনেক চাঙা করা যাবে এমনই একজনের হাতে এই সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব যাবে।
যার কারণে নেতাকর্মীদের মুখে মুখে একটি নেতার নামই বেশ প্রচলিত ও ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে। সে আর কেউ নয় রূপগঞ্জ বিএনপির একজন পরীক্ষিত নেতা গোলাম ফারুক খোকন। যে বিগত দিন থেকেই দলের জন্য নানা ত্যাগ শিকার করে এসেছে। তা ছাড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন ও সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকনের নেতৃত্বেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি দফায় দফায় দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে চমক দেখিয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসীকে।
এই দুই নেতৃত্বের কারণে নারায়ণগঞ্জের মানুষের মুখে একটাই কথা দেখা যাচ্ছিল যে ১৫ বছর পর বিএনপির রাজপথে আবারো গর্জে উঠেছে। যা বিগত দিনে যারা জেলা বিএনপির দায়িত্বে থাকা নেতাকর্মীদের কর্মকান্ডে শোনা যায় নাই। যে কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছে, জেলা বিএনপির সভাপতি বর্তমানে গিয়াস উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন, আর সাধারণ সম্পাদক পদে যদি গোলাম ফারুক খোকনকে দেওয়া হয়। তাহলে আগামীতে জেলা বিএনপি রাজপথে আরো চমক দেখাতে পারবে ও আরো শক্তিশালী হবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের পর এই প্রথম গিয়াস ও খোকনের নেতৃত্বের কারণে একটি জাঁকজমকপূর্ন সম্মেলন উপহার পেতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। এছাড়া ও এই দুই নেতার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি বিগত দিন থেকে আরো স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। যার কারণে কেন্দ্রের নেতাকর্মী মুখে মুখে এই গিয়াস ও খোকনের কমিটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। এছাড়াও বলা চলে ১৫ নভেম্ববর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকেই আওয়ামী লীগের নেতকার্মীরা যেমন একটু লড়ে চড়ে বসেছে।
এমনকি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে এই গিয়াস ও খোকনের নেতৃত্বকে নিয়ে কথা বলতে। যা বিগত দিনের কমিটি থাকাকালীন দেখা যায়নি। আর বিগত দিনের কমিটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানাভাবে যোগাযোগ সম্পর্ক ও তল্পিবাহক থাকলেও এখনকার কমিটির সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে শত্রুর সম্পর্ক বললেই চলে। এ ছাড়াও ইতিমধ্যে জেলা যুবদল, জেলা ছাত্রদল, জেলা শ্রমিকদল, জেলা কৃষকদল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এই দলের সকল নেতাকর্মীই বর্তমানে মন থেকে গোলাম ফারুকেই জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হিসেবে দেখতে চায়। এমনকি রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ, ফতুল্লা, আড়াইহাজারের সকলের পছন্দের নেতা হিসেবে স্থান পেয়েছে এই খোকন।
যার কারণে অনেক জনপ্রিয়তায় অবস্থান করছে এই নেতা। এছাড়াও রূপগঞ্জের ছাত্রদল, যুবদলের দায়িত্ব থাকাকালীন নিজস্ব ব্যবসার পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত রাখতে কাজ করে গেছেন। আর সকল নেতাকর্মীদের নিয়মিত খোঁজ খবর রেখেছেন। যার কারণে রূপগঞ্জে এই নেতাকে বিপক্ষের নেতাকর্মীরাও মূল্যায়ন করে চলে। এই নেতা জাতীয়তাবাদী দলের একজন আদর্শের সৈনিক তা না হলে ক্ষমতায় না থেকেও দলের জন্য অনেক কিছু হারিয়েছে। আর দফায় দফায় মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন।
জানা গেছে, ২২মে মুড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গোলাম ফারুক খোকনের বাড়িতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করে এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এর পর থেকেই ক্ষমতাসীন দলের লোকজন মহড়া বাড়ির আশেপাশে মহড়া দিচ্ছে। এখন সেখানে তারা যুবলীগের অফিস বানাচ্ছে। এই দলের জন্য অনেক বার ক্ষমতাসীন দলের হামলার শিকার হয়েছেন। আর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হওয়ার পর এই নেতাকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সকল নেতাই আপন করে ফেলেছেন।
যার কারণে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে তাকে দেখতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে সকলেই। আর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দাবি করছে, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদকের পদে এই গোলাম ফারুকের মতো যোগ্য নেতা থাকলে আগামীতে এই জেলা বিএনপির সকল আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারবে। এস.এ/জেসি


