রাজীবের বিরুদ্ধে অতীত কর্মকান্ডের অভিযোগ নিয়ে সরব তৃণমূল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৩, ০৬:২৩ পিএম
আগামীকাল জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন এবং যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীবের মধ্যে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে গোলাম ফারুক খোকনকে নিয়ে যেখানে বিতর্ক কম সেখানে রাজীবকে নিয়ে অতীতের নানা অভিযোগ আবার সামনে আসেছে।
বিশেষ করে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, এক সময় বিএনপি ভাঙতে যিনি ছিলেন সক্রিয়, শহীদ জিয়ার আদর্শ ছেড়ে নিয়েছিলেন জেলা ‘বিএনএফ' এর সদস্য সচিব পদ এবার সেই মাসুকুল ইসলাম রাজীবই চাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হতে।কিনেছেন মনোনয়ন পত্র।
দুঃসময়ে বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এমন নেতার সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে তৃণমূল বিএনপি। এছাড়াও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ফেনসিডিলসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রাজীব। জাতীয় নির্বাচনের আগে এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হতে চাওয়ার পেছনে বিএনপির চলমান আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র দেখছে তৃণমূল।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, টানা ১৬ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি যখন বলছে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে তারা কোন নির্বাচনে অংশ নেবে না তখনই বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার তৈরি বিতর্কিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ঘোষণা দিয়েছে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার। ২০১৩ সাল গঠিত এই দলটিকে বিএনপি নেতারা বরাবরই ' গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র' হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, একদিকে বিএনএফ ও মাদক সংশ্লিষ্টতা অপর দিকে বিগত সময়ে দলীয় কার্যক্রমে নিস্ক্রিয় ছিল রাজিব। তবুও আড়াইহাজারের এক নেতার হাত ধরে তিনি বর্তমানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক। বিএনপির ওই নেতারা মনে করেন মূলত নির্বাচনের আগে সরকার বিরোধী যে আন্দোলন চলছে বিএনপির সেই আন্দোলন যেন নারায়ণগঞ্জে শক্তিশালী না হয় সে জন্যই যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে সদস্য সচিব হতে চাইছেন রাজিব।
যুক্তি হিসেবে তারা বলছেন, রাজিব মূলত এখনো বিএনএফ নেতা। ২০১৩ সালে গঠিত বিএনএফ নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সদস্য সচিব রাজিব। সেই কমিটি এখনো বিলুপ্ত হয়নি, কিংবা রাজিব সেই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছে এমন দাবিও তিনি করছেন না। বিএনএফ যেহেতু সরকারের ইশারায় চলে সেহেতু সেই ইশারাতেই রাজিব সদস্য সচিব হতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এতে করে একদিকে সে নারায়ণগঞ্জে সরকার বিরোধী আন্দলনে নিস্ক্রিয়তা আনতে পারবে। অপরদিকে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দলে ভাঙন তৈরি করতে চাইলে সে বড় ভুমিকা রাখতে পারবে।
বিএনপির ওই নেতারা কেন্দ্রেও অভিযোগ করে বলেছেন, ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন রাজিব। ডিবির তৎকালীন ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেছিলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের উপ পরিদর্শক (এস আই) তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম পাঠানটুলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাদা রংয়ের প্রাইভেট কারে থাকা (ঢাকা মেট্রো গ-২৫৮২০৫) ফেনসিডিলসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে রাজিব একজন।
আড়াইহাজার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান সুমন বলেন, মাসুকুল ইসলাম রাজীবের বিরুদ্ধে জাতীয় গণমাধ্যমের রিপোর্ট থেকেই জেনেছি যে, তিনি বিএনএফের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদকসহ ফৌজদারী আইনে মামলা রয়েছে। এসব নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আসলে আমি মনে করি যে, গিয়াস উদ্দিন সাহেবের সাথে একজন যোগ্য এবং বিতর্কহীন নেতা জেলা বিএনপির নেতৃত্বে আসুক।
তবে বিএনএফের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মাসুকুল ইসলাম রাজীব। মাসুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, ‘আমি বিএনএফের সাথে কোনকালেই যুক্ত ছিলাম না। আমি তখন ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট ছিলাম। ২০১৩ সালের তৎকালিন সময়ে একটি সাদা কাগজে ১০/১২টি নাম বের হয়েছিল। ওই সময়ে আমি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসবের প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম।’ এন. হুসেইন রনী /জেসি


