# তার অনুসারীদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ মানুষ
# পাড়া-মহল্লায় সন্ত্রাসীরা ঘাঁটিতে নাম বিক্রি হয় নেতাদের
ফতুল্লা থানা এলাকার সাধারণ মানুষ মনে করেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি পঞ্চাশ ভাগও সুষ্ঠু হয় তাহলেও জিততে পারবেন না বর্তমান এমপি শামীম ওসমান। তিনি হেরে যাবার অন্যতম দুটি কারণের মধ্যে প্রথমত, ফতুল্লা থানা এলাকায় তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। দ্বিতীয়ত, গোটা এলাকায় সন্ত্রাস আর ভূমিদস্যুতার বিস্তার লাভ করেছে।
ফতুল্লা থানায় মোট পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এসব ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা পরিদর্শন করে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা মনে করেন একজন সংসদ সদস্য হিসাবে শামীম ওসমান জনগণের ব্যাপারে মোটেও আন্তরিক নন। গত দশ বছরে দুই বার এমপি হয়েও তিনি তাদের কোনো খোঁজ খবর রাখেননি।
ফলে তিনি জানেনও না ফতুল্লার কোন এলাকায় কি সমস্যা রয়েছে। ফতুল্লা থানা এলাকার সাধারন মানুষ আরো জানিয়েছেন শামীম ওসমানযে তাদের এলাকায় আশানুরোপ কোনো উন্নয়ন করেন নাই কেবল সেটাই নয় বরং বিগত বছর গুলোতে গোটা ফতুল্লা থানা এলাকা একেবারে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। ধ্বংস হয়ে গেছে পরিবেশ।
ভরাট করা হয়েছে সরকারী বেসরকারী সব খাল-বিল জলাশয়। গাছ কেটে সাফ করে ফেলা হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় সমস্য হয়ে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটে পানি জমে জনগনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শামীম ওসমান ফতুল্লায় কোনো ড্রেনেজ ব্যাবস্থা গড়ে তুলেননি।
ফলে পরিস্থিতি এখন এতোটাই খারাপ হয়েছে যে জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার বহু বাড়িঘর এরই মাঝে পরিত্যাক্ত হয়ে পড়েছে। যার ফলে ফতুল্লার সাধারণ মানুষ এখন শামীম ওসমানের উপর চরম ভাবে ক্ষুব্দ। তারা একবার সুযোগ পেলেই তার উপর চরম প্রতিশোধ নেবে বলে অনেকে মনে করেন। মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে কঠোর জবাব দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন বলে এলাকাবাসীর অনেকে জানান।
অপরদিকে গোটা ফতুল্লা থানা এলাকায় এখন ওসমান পরিবারের নামে সন্ত্রাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। গোটা ফতুল্লা থানা এলাকার গার্মেন্টগুলির পুরো ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছে ওসমান পরিবারের অনুগত সন্ত্রাসীরা। এরা শামীম ওসমান, আজমেরী ওসমান এবং অয়ন ওসমানের নাম ব্যবহার করছে। ফতুল্লার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সন্ত্রাসীরা ঘাঁটি গেড়ে বসেছে।
কেবল ঝুট সন্ত্রাস নয় বরং কেউ কোনো বাড়ি নির্মান করতে চাইলে সন্ত্রাসীরা এসে তাদের কাছ থেকে ইট বালু সিমেন্ট কিনতে বাধ্য করছে। এমন কি বাড়ির দরজা, জানাল, রং এবং বিদ্যুতের কাজও সন্ত্রাসীদের দিতে হচ্ছে। কেউ রাজী না হলে বাড়ি নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে। এভাবে সাধারন মানুষকে একেবারে জিম্মি করে ফেলা হয়েছে।
যার ফলে সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে ফতুল্লার সাধারণ মানুষ একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। এছাড়া গোটা ফতুল্লা থানা এলাকাজুড়ে ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া ভাবে মানুষের জমিজমা দখল করা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। ভূমিদস্যুরা। এ ক্ষেত্রে আজমেরী ওসমান, সাইফ উল্লাহ বাদল, শওকত আলী এবং মীর সোহেল আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাকর্মীদের নাম ব্যাবহার করছে।
এরা নানা রকম কাগজপত্র সৃজন করে সাধারন মানুষের জমিজমা বাড়িঘর দখল করে নিচ্ছে। তাই এসব কারণে মানুষ যদি একবার ভোট দেয়ার সুযোগ পায় তাহলে তারা যে আর শামীম ওসমানকে ভোট দেবে না এটা এখন দিবালোকের মতোই পরিষ্কার ফলে সন্ত্রাস আর উন্নয়ন বঞ্চনার কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে শামীম ওসমান হেরে যাবেন বলেই মনে করেন ফতুল্লার সাধারণ মানুষের অনেকে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


