গিয়াসউদ্দিনের জন্য কেমন হলো দুই থানা বিএনপি’র কমিটি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৩, ০১:১৩ পিএম
সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির হাল ধরার পর থেকে এই জেলায় সাংগঠনিক ভাবে বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বিএনপি। অল্প সময়ে তিনি সারা জেলায় একেবারে ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যন্ত দলকে নতুন করে সাংগঠনিক ভাবে দাড় করাতে সক্ষম হতে হচ্ছেন।
আজ নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি আরো শক্ত অবস্থান তৈরীতে সক্ষম হবে বলে ধারনা করছেন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতি পর্যকেবক্ষক মহল। তবে গিয়াস উদ্দিন তার নিজের নির্বাচনী এলাকার দুটি থানায় যে কমিটি গঠন করেছেন সেই দুটি কমিটির মাঝে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটি তার শতভাগ অনুগত হলেও ফতুল্লা থানা কমিটি শেষ পর্যন্ত কতোটা অনুগত থাকবে সেই প্রশ্ন উঠেছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম এবং সাধারন সম্পাদক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন দুইজনেই গিয়াস উদ্দিনের পূরনো কর্মী হিসাবে পরিচিত। কিন্তু ফতুল্লা থানায় যাদেরকে সভাপতি, সাধারন সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে তাদের মাঝে নি:সন্দেহে শহীদুল ইসলাম টিটু এবং রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী সাংগঠনিক ভাবে বেশ দক্ষ।
কিন্তু ফতুল্লার অনেকে মনে করেন, কোনো এক সময় জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন ফতুল্লা থানা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। ফতুল্লার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মতে এই দুই নেতা কোনো মতেই নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনের অনুগত নন।
এদের মাঝে শহীদুল ইসলাম টিটুর রাজনৈতিক গুরুও গিয়াস উদ্দিন নন, বরং অন্য একজন। আর রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর রাজনৈতিক গুরু হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। তবে এডভোকেট বারী ভূইয়া আগাগোরাই গিয়াস উদ্দিনের লোক। কিন্তু তার যে বয়স হয়েছে এই বয়সে তিনি কতোটা গিয়াস উদ্দিনের পারপার্স সার্ব করতে পারবেন সেই প্রশ্ন রয়েছে।
ফতুল্লা’র বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকের মতে শহীদুল ইসলাম টিটু নিজেই একজন উচ্চভিলাসী নেতা। তিনি কুতুবপুরের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর শেল্টাওে ফতুল্লার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তবে তিনি ফতুল্লার স্থায়ী বাসিন্দা নন। তার আদি নিবাস নোয়াখালী।
জানা গেছে বিএনপি’র কেন্দ্র নেয়াখালীর যে সকল নেতৃবৃন্দ রয়েছেন তারাই টিটুকে শেল্টার দেন এবং তাদের অনেককে টাকা পয়সা দিয়ে সহযোগীতা করেন টিটু। তাই আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে টিটু নিজেও বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে তিনি এরই মাঝে অনেককে বলেছেন। তাই নেয়াখালীর কেন্দ্রীয় নেতাদের শেল্টারে থাকার কারণে টিটু নিজেকে অপ্রতিরোধ্য মনে করেন। ফলে শেষ পর্যন্ত টিটু কতোখানি জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনের অনুগত থাকবেন সেই প্রশ্ন রয়েছে।
অপরদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী ফতুল্লার স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রভাবশালী চৌধুরী পরিবারের সন্তান। তবে তার মাঝে অনেক সময় অহংকার বোধ কাজ করে বলে নেতাকর্মীদের অনেকে মনে করেন। ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী শেষ পর্যন্ত কতোটা সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের অনুগত থাকবেন সেই প্রশ্ন রয়েছে।
কেননা প্রথমত তিনি এখন নজরুল ইসলাম আজাদকে রাজনৈতিক গুরু মেনে রাজনীতি করছেন। দ্বিতীয়ত গিয়াস উদ্দিন যখন এমপি ছিলেন তখন রিয়াদ গিয়াস উদ্দিনের সাথে তীব্র বিরোধে জরিয়েছিলেন। এই সময়ে এসেও রিয়াদের সাথে গিয়াস উদ্দিনের সম্পর্ক খুব একটা মধুর নয় বলেই জানা গেছে। তাই আগামী দিনগুলিতে রিয়াদ কতোটা জেলা সভাপতি মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনের অনুগত থাকবেন এটা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন রয়েছে।
প্রসঙ্গত বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক হওয়ার পর থেকে বিগত দিনগুলিতে এই জেলায় অনেকটাই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বিএনপির রাজনীতি। তিনি আহবায়ক হওয়ার কারনেই এই জেলায় একেবারে তৃনমূল পর্যায়ে নতুন করে বিএনপিকে ঢেলে সাজানো সম্ভব হয়েছে।
জেলা ব্যাপী তিনি একজন দক্ষ সংগঠক হিসাবেও পরিচিত। তাই ফতুল্লা থানা সহ জেলার বিভিন্ন থানা ইফনিটগুলিতে যদি কোনো বিচ্ছৃংখলার সৃষ্টি না হয় তাহলে রাজনৈতিক ভাবে লাভবান হবে বিএনপি। ফলে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীকে অবশ্যই দলের চেইন অব কমান্ড মেনে চলতে হবে। মানতে হবে জেলা সভাপতি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বকেও। এন. হুসেইন রনী /জেসি


