# তৃণমূল কর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছেন তারা
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি একেএম শামীম ওসমানের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার কারণে একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তিন নেতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান এডভোকেট আজাদ বিশ্বাসের রাজনীতি চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে।
বিপরীত সাবেক এমপি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির দায়িত্ব পাবার পর যেভাবে শামীম ওসমান তার সমালোচনা করেছেন তাতে তার অবস্থান বিএনপিতে আরো মজবুত হয়েছে। শামীম ওসমান বার বার মামুন মাহমুদের প্রতি বিশেষ সহানুভুতি বা ভালোবাসা প্রকাশ করে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বার বার বলেছেন মামুন মাহমুদকে নাকি গিয়াস উদ্দিন হত্যা করতে চেয়েছেন। যদিও এই অভিযোগটি একেবারেই মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে।
কারন মামুন মাহমুদের উপর হামলা কারীরা চিহ্নিত হয়েছে এবং তারা সব কিছু স্বীকার করেছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এই ঘটনায় গিয়াস উদ্দিন বা তার ছেলে মোটেও জড়িত ছিলেন না। তাই নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ মনে করেন এই মূহুর্তে মূলত গিয়াস উদ্দিনই হলেন শামীম ওসমানের আসল প্রতিপক্ষ, যাকে শামীম ওসমান সমিহ করেন। অথচ গিয়াস উদ্দিনের আগে এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার এবং কাজী মনিরও জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন, মামুন মাহমুদ ছিলেন সাধারন সম্পাদক। কিন্তু তাদেরকে শামীম ওসমান মোটেও গোনায় ধরেননি বা পাত্তা দেননি।
কিন্তু গিয়াস উদ্দিনকে যথেষ্ট পাত্তা দিচ্ছেন শামীম ওসমান। তাই এরই মাঝে বিএনপির ভেতরে গিয়াস উদ্দিনের অবস্থান বেশ পাকাপোক্ত হয়ে গেছে। বিপরীতে শামীম ওসমানের সাথে সখ্যতার কারনে বিএনপির নেতাকর্মীরাতো বটেই নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষেরও আস্থা হারিয়েছেন মামুন মাহমুদ এবং আজাদ বিশ্বাস। এরই মাঝে আজাদ বিশ্বাস দল থেকেই অনেকটা ছিটকে পরেছেন। বিএনপিতে এখন আর তার কোনো অবস্থান নেই। আর মামুন মাহমুদের অবস্থানেও ধস নেমেছে। এখন সবাই মনে করেন মামুন মাহমুদ শামীম ওসমানেরই লোক। ফলে শামীম ওসমানের নির্দেশনার বাহিরে গিয়ে বিএনপির জন্য তেমন কিছু করতে পারবেন না মামুন মাহমুদ।
অপরদিকে আজাদ বিশ্বাসতো দুই ওসমান এমপির আশির্বাদে বিগত পনেরো বছর ধরে বিনা ভোটে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান হয়ে বসে আছেন। তিনি যে ওসমান এমপিদের লোক এটা এখন একেবারে দিবালোকের মতো পরিস্কার। তাই বিএনপির কেন্দ্র এবং তৃনমূলের নেতাকর্মীরা এসব বিষয় দেখেশুনে আজাদ বিশ্বাসকে একেবারে ঘৃনার চোখে দেখেন। তারপরেও এডভোকেট তৈমুর আর ফতুল্লার শাহআলম যতোদিন দলে ছিলেন ততোদিন আজাদকে এক ধরনের সমর্থন দিয়ে এসেছেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আজাদ বিশ্বাস একেবারে প্রকাশ্যে ওসমান এমপিদেও দালালী শুরু করেন এবং সরকারী দল আওয়ামী লীগের পক্ষ্যে প্রকাশ্যে ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। এতে বিএনপির কেন্দ্র তাকে নেতৃত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং রাজনৈতিক ভাবে একেবারে কোনঠাসা হয়ে পরেন বা তার রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটে। এদিকে আরো একজন নেতা ওসমান পরিবারের ফাঁদে পা দিয়ে দল থেকে একেবারে বহিষ্কার হয়েছেন। তিনি এখন শত চেষ্টা করেও আর বিএনপিতে ভিরতে পারছেন না। অথচ এই জেলায় তিনি বিএনপির সবচেয়ে জাদরেল নেতা ছিলেন।
তিনি হলেন এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকের মতে দল থেকে বার বার নিষেধ করার পরেও তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন কেবল মাত্র ওসমান এমপিদের পরামর্শে। লোভে পরে তাদের পরামর্শে তিনি এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেন বলে মনে করেন বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকে।
যার ফলে তিনি দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। নিজের রাজনীতির মৃত্যু ঘটিয়েছেন। ফলে এতে পরিস্কার বুঝা যায় বিএনপিতে শামীম ওসমানের যে বন্ধু তার আর শত্রুর প্রয়োজন পরে না। তাই শামীম ওসমানের সাথে সখ্যতা করতে গিয়ে বিএনপিতে রাজনৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন এডভোকেট তৈমুর, মামুন মাহমুদ এবং আজাদ বিশ্বাস। এস.এ/জেসি


