# এখানে জাতীয় পার্টির ৩/৪ পার্সেন্ট ভোট আছে : আবদুল হাই
# বুকের ভেতর কত কষ্ট জমা আছে, আমরা নৌকায় ভোট দিতে চাই : ভিপি বাদল
# বন্দর ইউনিয়নকে একটি সুন্দর কাউন্সিল উপহার দিব : কাজিম উদ্দিন
এবারের জাতীয় নির্বাচনে বন্দর (নারায়ণগঞ্জ-৫) আসন থেকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেওয়ার জন্য জোর দাবী জানানো হয়েছে। একই সাথে সোনারগাঁসহ নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই যেন নৌকার প্রার্থী দেওয়া হয় সেই দাবি জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল (ভিপি বাদল)। গতকাল বন্দর উপাজেলার বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেল সম্মেলন থেকে এই দাবী জানান তারা। এ সময় তাদের সাথে সহমত পোষণ করেন উজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ও সমর্থকগণ।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, আমরা বন্দর এবং সোনারগাঁসহ নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকা চাই। আমাদের এখানে আওয়ামী লীগের যোগ্য নেতার অভাব নাই। অথচ মহাজোটের কারণে এখন এখান থেকে জাতীয় পার্টি নির্বাচিত হচ্ছে। জাতীয় পার্টির এখানে কত পার্সেন্ট ভোট আছে আমি জানি না। তবে তাদের জামানত থাকবে না। তিন থেকে চার পার্সেন্ট হয়তো জাতীয় পার্টির ভোট থাকতে পারে। তাই এখানে আওয়ামী লীগের নেতাদের বাদ দিয়ে লাঙ্গল দেওয়া হবে! আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করবো।
নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই আমরা নৌকা চাই। আমরা বলবো, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী। তারপরও আমাদের কাঁধে লাঙ্গল দিয়ে রাখছেন, তার ভার বইতে আমরা রাজি নই। যদি জোটগত নির্বাচনও হয় তাহলেও তা অন্যকোন জেলায় দেওয়ার জন্য আমরা দাবি জানাবো। এর আগে আমি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছেও দাবি করেছিলাম যে, আমরা নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকা চাই। আমরা জানাতে চাই যে, এই নারায়ণগঞ্জের মানুষ লাঙ্গল আর চায় না।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল বলেন, আমাকে প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব দিয়েছেন সংগঠন করার জন্য। আমি সংগঠন করতে চাই। সংগঠন করতে এসে কেউ সাংবিধানিক নিয়মকে মানবেন না এটা চলবে না। নিয়ম মানতে হবে। আমরা নৌকা চাই। আমরা বন্দরের মানুষ আমাদের বুকের ভেতর কত কষ্ট জমা আছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা নৌকায় ভোট দিতে চাই।
এ সময় তিনি বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধানকে চেয়ারম্যান (কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন তিনি) সম্বোধন করে বলেন, ভোট ছিনাইয়া নেওয়ার সেই দিন আর আসবে না। আপনার (কাজিম উদ্দিনের) পতাকা, নৌকার পতাকা পত-পত করে উড়বে। এই সম্মেলনের পর প্রত্যেক ওয়ার্ডে সম্মেলন করতে হবে।
এ সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে একই ব্যক্তিকে দুইবারের বেশি দায়িত্ব পালন করার বিরোধিতা করে বলেন, আমি ব্যর্থহীন কন্ঠে বলবো এক ব্যক্তির বারবার নির্বাচন করার প্রয়োজন নাই। মাত্র দুইবার প্রয়োজন। তারপর অন্যকে সুযোগ দিতে হবে। নির্বাচন করার শখ সব মানুষেরই আছে। আমিই বারবার দলের সেক্রেটারী হবো, আর কেউ হতে পারবে না, এটা কি হয়? নতুন মানুষেরও দরকার আছে।
বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ বলেন, এই কাউন্সিলের মাধ্যমে আপনারা শপথ গ্রহণ করুণ এবং আপনাদের নেতা নির্বাচন করুন, সঠিক নেতা। যে নেতা আপনাকে ছায়া দিবে, সঠিক পথ দেখাবে। বিপদে-আপদে পাশে থাকবে, সর্বক্ষণ খোঁজ খবর নিবে, বিবেক দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে আবেগ বর্জন করে আপনারা সেই নেতাকেই নির্বাচিত করবেন।
বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাজিম উদ্দিন প্রধান বলেন, নেতা কর্মীরা কে কোথায় ছিল, কেমন ছিল, কেউ তার খোঁজ নেয়নি। বিশ বছর যাবৎ কাউন্সিল হয়নি বলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যদি প্রার্থীরা সমঝোতা করতে পারে তো ভালো। আর না হলে একাধিক প্রার্থী থাকলে আমরা গোপন ব্যালটের নির্বাচনের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করবো। তাহলে এখানকার ভোটারদের প্রকৃত চাহিদা পূরণ হবে এবং তাদের মন মতো নেতা নির্বাচিত হবে। যাতে সবাই বুঝতে পারে যে, বন্দর ইউনিয়নে সত্যিই একটি সুন্দর সম্মেলন হয়েছে।
গতকাল বিকেল ৩ টায় বন্দর ইউনিয়নের কুশিয়ারা আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৩৮জন। তার মধ্যে ২২৮টি ভোট গ্রহণ করা হয়। সভাপতি প্রার্থী হিসেবে ছিলেন জাকির হোসেন পনির ও মো. নুরুজ্জামান।
এর মধ্যে নুরুজ্জামান ১৭৮ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। জাকির হোসেন পনির পান ৪৪ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন ৩ জন। এর মধ্যে মো. তাইজুল ইসলাম ৯৭ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাছাড়া এডভোকেট জাহাঙ্গীর পান ৭৫ ভোট এবং মো. বাদল পান ৫৫ ভোট। এস.এ/জেসি


