# কমিটি না থাকায় দুর্বল হচ্ছে তৃণমূল
ঢাকার লাগোয়া হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ আন্দোলন সংগ্রামে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে আসছে। আগামী নির্বাচনে দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য এখানকার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা যে কোন আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে তাদের দাবী। আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপি বা অন্যান্য ছোট বড় রাজনৈতিক দলগুলো কোনভাবেই পিছিয়ে থাকতে নারাজ এ নারায়ণগঞ্জে।
ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নারায়ণগঞ্জ জেলার স্থানীয় সংসদ সদস্যরা মাঠে নেমে নির্বচানের প্রস্তুতির পাশাপাশি নৌকার জন্য ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে নৌকার মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমান টানা ২য় বারের মত জনপ্রতিনিধি হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি। ফতুল্লা শিল্প এলাকার জন্য সারাদেশে পরিচিত। এছাড়া এই আসনের এমপি শামীম ওসমানকে সারাদেশে চিনেন। তাছাড়া তার খেলা হবে ডায়লগ দেশ পেরিয়ে ভারতেও ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাংসদ হিসেবে জানেন স্থানীয় বিরোধী দল থেকে শুরু করে খোদ দলীয় নেতারা।
কিন্তু সাংসদ শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ সবচেয়ে দূর্বল হয়ে আছে। একই সাথে দেড় বছর অতিবাহিত হতে যাচ্ছে ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি নেই। তবে সিদ্ধিরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন হলেও কোন কমিটি ঘোষনা হয় নাই এতে করে পদপ্রত্যাশী নেতারা হতাশ হয়ে রয়েছে। একই ভাবে ফতুল্লা থানা ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠনের কোন আলোচনা নেই। এখানেও নতুন নেতৃত্বে আসা কর্মীরা হতাশ হয়ে আছে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ২০২২ সনের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন জেলা মহানগর এবং থানা উপজেলা সকল স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে বিলুপ্ত হওয়ার পর ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এখনো কমিটি বিষয়ে তেমন কোন আলোচনা নেই। সিদ্ধিরগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ডের সম্মেলন হলেও কোন কমিটি ঘোষনা হয় নাই।
তাছাড়া এখানকার থানা কমিটি হবে তাও জানেন না স্থানীয় নেতারা। তবে অভিযোগ রয়েছে খোদ দলের একটি অংশ শামীম ওসমান অনুসারীরা চায় তাদের বলয়ের কর্মীদের নেতাদের রাখতে। কিন্তু অপর দিকে মেয়র বলয়ের লোকদের মাইনাস করতে চায় এমন অভিযোগ রয়েছে। তবে তারাও কোন ভাবে ছাড় দিবে না।
জানা যায় সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদে আসার জন্য স্থানীয় নেতা কর্মীদের চাঙ্গা রেখে যাচ্ছেন শফিকুল ইসলাম শফিক। তিনি দলীয় কেন্দ্রীয় নেতাদের সহযোগিতা করে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এখানে ইতোমধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগকে শক্তিশালী ভাবে সাজানোর জন্য মাঠে নেমে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
তাই আগামী নির্বাচনের আগে এখানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন। তার সাথে আরও জহিরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলামা রাজু, সিব্বির আহমেদ, মানিক মাস্টারও এখানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদে আসার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
কিন্তু এদিক সিদ্ধিরগঞ্জের ধারে কাছেও নেই ফতুল্লা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। তারা অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। এখানকার ৫টি ইউনিয়নের মাঝে ২টিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হয়েছে। কাশিপুর এবং এনায়েত নগর ইউনিয়নের কমিটি হয়েছে। বাকি ৩টিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হওয়ার কোন আলোচনা নেই। এছাড়া ফতুল্লার স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে কারা আসবে তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত তেমন আলোচনা নেই।
এখানে নতুন নেতৃত্ব তৈরী না হওয়ায় আগামী নির্বাচনের নৌকার প্রার্থীকে পস্তাতে হতে পারে বলে মনে করেন খোদ দলীয় নেতা কর্মীরা। কেননা তারা কার নেতৃত্বে কিভাবে মাঠে নেমে তৃনমূল পর্যায়ে ঘরে ঘরে গিয়ে নৌকার জন্য ভোট চাইবে তারও তেমন কোন নির্দেশনা পায় নাই দলীয় নেতা কর্মীরা। এছাড়া ফতুল্লা নেতৃত্বে যারা আসতে চায় অন্যান্য কমিটি ঘোষনা না হওয়ায় তারাও এখানে হতাশ হয়ে নিরব রয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনের দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে হলে তারা দ্রুত কমিটি দেয়ার দাবী জানান।
এই দিক দিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে অনেক এগিয়ে বিএনপি। ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জে ইতোমধ্যে বিএনপি তাদের আওতাধীন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং থানা কমিটি শেষ করতে পেরেছে। সেই সাথে গতকাল সিদ্ধিরগঞ্জে জেলা বিএনপির সম্মেলনও জাঁকজমক ভাবে হয়েছে। তাদের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে এখন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে।
এছাড়া ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবকলীগ ছাড়াও যুবলীগ, ছাত্রলীগের রাজনীতি এখন অনেকটা স্বস্তিহীনতার মধ্যেই রয়েছে। ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, স্বেচ্ছাসেবকলীগের বাতিল কমিটি আর যুবলীগ চলছে জেলা আওয়ামীলীগের পদবী পাওয়া নেতার নেতৃত্বে। এ যেন যেমন খুশি তেমন সাজোর মেলা চলছে ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জে। যা অনেকটা অভিভাবকহীন। আবার অনেকেই মনে করছেন যে,অনেকটা মৃত্যু পথযাত্রীর মত হয়ে পড়েছে এ সকল দলের রাজনীতি।
তাই রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বলছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের এলাকায় ১৮ মাস যাবৎ স্বেচ্ছসেবক লীগের কমিটি নেই। তাহলে এখানে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হবে কী করে। তিনিই বা কেন এখানে দলকে শক্তিশালী করতে পারছে না। তার বলয়ের নেতারা তাহলে কী করে এমন নারা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে।
সিদ্ধিরগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডের সম্মেলন সফল ভাবে শেষ করেছি। সেই সাথে এখানে স্বেচ্ছাসেবক লীগকে শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। তবে সিদ্ধিরগঞ্জে ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি ঘোষনার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে নাম চেয়েছে।
কিন্তু তাদের মাঝে একাধিক নাম দেয়া নিয়ে বিভেদ তৈরী হওয়ায় এখনো নাম দিতে পারছে না। আর এতে করে আমাদের কমিটি গুলো আটকে রয়েছে। তবে আমরা চাই এখানে দ্রুত কমিটি ঘোষনা হোক। সেই সাথে অতি দ্রুত থানা সম্মেলন করা হোক।
সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জানান, দলকে শক্তিশালী করতে হলে কমিটির প্রয়োজন রয়েছে। সেই সাথে আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলকে পরাজিত করতে সঠিক নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে এখন থেকে মাঠে নেমে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোন কমিটি নেই। যা মেনে নেওয়া যায় না। তাছাড়া কমিটি না থাকায় এখানে সাংগঠনিক ভাবে দল দুর্বল হয়ে রয়েছে। এস.এ/জেসি


