# তাকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র : ভিপি বাদল
# পুনরায় স্বপদে বহাল করায় আমি তাদের নিকট কৃতজ্ঞ : মামুন
২০২১ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে গোগনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় মুহাম্মদ উল্লাহ আল মামুনকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সেই থেকে প্রায় দেড় বছর যাবৎ সভাপতি হিসেবে নাজির উদ্দিন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদটি শূন্য হিসেবে আছে।
তবে ভবিষ্যতে এই ধরণের কাজ আর না করার শর্তে মুহাম্মদ উল্লাহ আল মামুনকে আবারও সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল করা হয়েছে। গত ১৭ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলের (ভিপি বাদল) স্বাক্ষর সম্বলিত মামুনকে পুনরায় বহাল সংক্রান্ত একটি চিঠি পৌছে দেওয়া হয়। গতকাল যুগের চিন্তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলদেশ আওয়ামী লীগের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বার্থ, আদর্শ শৃঙ্খলা তথা গঠনতন্ত্র ঘোষণাপত্র পরিপন্থী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততার জন্য ইতিপূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ আপনাকে বহিষ্কার/অব্যাহতি প্রদান করেন। গত ১৭ ডিসেম্বর গণভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি আপনাকে সংগঠনের স্বার্থ বিরোধী কোন কাজ না করার শর্তে ক্ষমা করে দেন।
গত ১৫ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মির্জা আজমের নির্দেশক্রমে আপনাকে সংগঠনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার জন্য আদেশ দেওয়া হলো।
পদ ফিরে পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মুহাম্মদ উল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাকে পুণরায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল করায় আমি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চির কৃতজ্ঞ।
আমি আমার অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে সুন্দরভাবে কাজ করার চেষ্টা করবো। সবাইকে সাথে নিয়ে কমিটি গঠনসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করবো। দলের সুনাম নষ্ট হয় এমন কোন কাজ করবো না।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি মামুনকে স্বপদে বহাল রাখার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই আদেশ মোতাবেক আমি জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে মুহাম্মদ উল্লাহ আল মামুনকে স্বপদে বহাল থেকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করার জন্য চিঠি পাঠিয়েছি। আগের ভুলগুলো না করার শর্তে তাকে এই পদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর ডিক্রিরচর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি পদে নাজির মাদবর এবং সাধারণ পদে আল মামুনকে নির্বাচিত করা হয়। এরপর ২০২১ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে গোগনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে এবং জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মন্তব্য করাসহ নানা কারণ দেখিয়ে একই বছর ৯ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল স্বাক্ষরিত একটি প্যাডে মামুনকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেই সিদ্ধান্তের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপরিশ পাঠায়। সেই থেকে একটানা প্রায় দেড় বছর কমিটিতে শুধুমাত্র সভাপতি হিসেবে নাজির উদ্দিন দায়িত্ব পালন করেন। তাই গত ১১ জানুয়ারি আলীরটেক ইউনিয়নের এক আলোচনায় সভায় সদর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইব্রাহীম মোল্লার নাম ঘোষণা করেন ভিপি বাদল এবং সাথে তার সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সওদাগর খানকে।
এর আগে, ২০০৩ সালের ডিস্বেম্বর মাসে সাহাবউদ্দিন আহমেদ মন্ডলকে সভাপতি ও মো. হায়দার আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। পরে ২০০৬ সালে আল মামুনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৪ সালে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে এখন মুহাম্মদ উল্লাহ আল মামুনের সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় এখন থেকে পুনরায় সদর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এস.এ/জেসি


