জেলার পর মহানগর বিএনপির সম্মেলন নিয়ে তৃণমূলে আগ্রহ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৩, ০৮:৩৪ পিএম
# সবগুলো ইউনিটের সম্মেলন হওয়ায় সাংগঠনিক শক্তি বেড়েছে কয়েকগুন
দীর্ঘ ১৪ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মহানগর বিএনপির উৎসব মুখর সম্মেলন। এই সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক আলাপ আলোচনা চলছে মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের মাঝে। ইতিমধ্যে জানা গেছে, ঈদের আগে সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও এবার সময় পিছিয়ে নিয়ে ঈদের পরে সম্মেলন হবে বলে জানিয়েছে দলটির একাধিক নেতৃবৃন্দ। যার কারণে এখানো সম্মেলনের তারিখ বা ভেন্যু কোথায় হবে তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, কিন্তু আলোচনা সাপেক্ষে রয়েছে।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকটাই উৎফুল্ল যার কারণে সংগঠনের রূপ রেখা পরিবর্তনে ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এর আগে ১৭ জুন বহুল পরীক্ষিত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সম্মেলন ঘিরে জেলা বিএনপির আওতাধীন সকল নেতকার্মী বর্তমানে অনেকটাই উজ্জ্বীবিত।
তাদের মতোই দলকে উজ্জ্বীবিত করার জন্য মহানগর বিএনপির এই পদক্ষেপ। তারপরও কেন্দ্র যদি ভোটাভোটির মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করতে চায় তাহলে সভাপতি নির্বাচিত দেখা গেলে ও সাধারণ সম্পাদকে পিছিয়ে পরতে পারে আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে নগর বিএনপি থাকাকালীন জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতি ও এটিএম কালামকে সাধারণ সম্পাদক করে নগর বিএনপি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর নগর বিএনপিকে মহানগর বিএনপির নামে করা হয়। কিন্তু মহানগর বিএনপি কারার পর এই ১৪ বছরে আর মহানগর বিএনপির সম্মেলন হবে বা হচ্ছে তা শোনা যায়নি। কিন্তু ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় কমিটি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটিতে যারা আছেন আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, যুগ্ম আহ্বায়ক আ. সবুর খান সেন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী নুরুদ্দীন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ আতাউর রহমান মুকুল, যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন অনু, যুগ্ম আহ্বায়ক ফাতেহ মো. রেজা রিপন, যুগ্ম আহ্বায়ক এমএইচ মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু কাওসার আশা, এছাড়া আরো সদস্যবৃন্দ প্রমুখ।
তারপর থেকেই সংগঠনটিতে দেখা মিলে অভ্যন্তরীন কোন্দল যার কারণে মহানগর বিএনপি দুইভাবে বিভক্ত হয়ে পরে। জানা গেছে, আতাউর রহমান মুকুল ও আব্দুস সবুর খান সেন্টুর নেতৃত্বে কমিটি থেকে ১৫ জন নেতকার্মী বিদ্রোহ করেছিলেন। যার কারণে সংগঠনটিতে সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলার দেখা মিলেছে এমনকি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো এই একই সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যসহ নানা কর্মকান্ড এছাড়াও মূল কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে পাত্তা না দিয়ে দফায় দফায় পাল্টা কমিটি গঠন।
কিন্তু রোজার ঈদের পর থেকেই তা আবার চুপষে পরে। এদিকে রোজার ঈদের থেকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ও মূল কমিটির নেতাকর্মীরা মিলে দফায় দফায় সকল ইউনিয়ন ওয়ার্ড ও থানা কমিটি গঠন সম্পূর্ন করেন। সর্বশেষ চলতি মাসের ১৫ জুন বন্দর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের মাধ্যমে ১৭টি ওয়ার্ড, ৭টি ইউনিয়ন, ৩টি থানা কমিটি গঠন সম্পূর্ন করেন। আর এই কমিটি গুলো মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠার এই প্রথম কমিটি গঠন হয়। যার কারণে এই প্রথম সম্মেলন ও করতে যাচ্ছে তারা।
ঈদের আগেই মহানগর বিএনপির সম্মেলন নিয়ে আলোচনা থাকলে ও ঘোষণা হয়েছে ঈদের পরেই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তা নিয়ে চলছে জাঁকজমক সম্মেলনের প্রস্তুতি নেতকার্মীদের দাবি, জেলা বিএনিপর মতো যেন সুশৃঙ্খল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এই মহানগর বিএনপির।
কিন্তু এই কমিটিতে যারা মহানগর বিএনপির কমিটির সাথে বিদ্রোহ করেছিলেন তারা বলছেন, বর্তমানে এই কমিটি হওয়ার পর থেকেই মহানগর বিএনপির আওতাধীন যতগুলো ওয়ার্ড ইউনিয়নের কমিটিগুলো রয়েছে সবগুলো তাদের হাতেই গঠন করা যার কারণে দেখা এই সম্মেলন নিয়ে কোন কাজ হবে না। যার কারণে দেখা যাচ্ছে, বিদ্রোহীরা ও সম্মেলনে না অংশ নিতে পারে।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন খানই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে চলছে নানা দ্বিধাদ্বন্দ্ব। এই পদে বসতে কেউ আলোচনায় না আসলে ও গোপনে ঠিকই লবিং করে যাচ্ছে। যার কারণে বোঝা যাচ্ছে সাধারণ সম্পাদক পদে রদ-বদল হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে অনেক বেশি। এস.এ/জেসি


