বিএনএফ’র টিপুকে মেনে নিচ্ছেন বিএনপি কর্মীরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৩, ০৮:৩২ পিএম
# ‘বিএনএফ’ নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনার মুখে টিপু
# টিপুই ছিলেন নারায়ণগঞ্জে বিএনএফ এর মূল কারিগর
জেলা বিএনপি শতভাগ সাফল্যের সাথে তাদের সম্মেলন শেষ করেছে। সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং গোলাম ফারুক খোকন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে গিয়াসউদ্দিনের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও গোলাম ফারুক খোকনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়ান মাসুকুল ইসলাম রাজীব। সাবেক ছাত্রদল নেতা রাজীব বিএনপির সক্রিয় কর্মী হলেও বিএনপিকে কোনঠাসা করতে তৈরি হওয়া বিএনএফ এ নারায়ণগঞ্জের তালিকায় সদস্য সচিব হিসেবে তার নাম থাকায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে দেওয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়।
এ নিয়ে একপর্যায়ে বিএনএফের সাথে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে রাজীবকে কারণদর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়। এই যাত্রায় রাজীব উতরে গেলেও বিএনএফ নারায়ণগঞ্জের আহবায়ক আবু আল ইউসুফ খান টিপুর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তৃণমূলরা। তারা বলছেন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন টিপু। অথচ তিনিই ছিলেন বিএনএফ নারায়ণগঞ্জের আহবায়ক। এই পদ এখনো বিলুপ্ত হয়নি। রাজীবকে যদি শাস্তির সম্মুখীন হতে হয় তাহলে টিপু কী এই শাস্তির আওতার বাইরে। রাজীবকে টিপুই বিএনএফ এ সংশ্লিষ্ট করেছিলো। সামনে মহানগর বিএনপির সম্মেলন।
সেখানে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনএফ এর আহবায়ক টিপুকে পদ দেয়া মানেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে বিএনএফ এর আহবায়ককেই পদায়ন করা। আর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে সম্মেলন হোক অথবা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতাতেই হোক সেখানে বিএনএফ’র আহবায়ক এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুকেই কী মেনে নিচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আর কেন্দ্রীয় নেতারাও কী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনএফ’র আহবায়ক আবু আল ইউসুফ খান টিপুর চেয়ে ভালো কোন বিকল্প খুঁজে পাচ্ছেন না এমন প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
এদিকে মাঠের রাজনীতিতে এই মুহুর্তে রাজনৈতিক ভাবে অনেকটাই বেকায়দায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলছে কিছু সূত্র। মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর কারণে সাখাওয়াত হোসেন খানের রাজনৈতিক অগ্রগতি বেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে সাম্প্রতিক সময়ে এসে নারায়ণগঞ্জের জনপ্রিয় মিডিয়াগুলিতে তীব্রভাবে সমালোচিত হচ্ছেন আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
তার কারনেই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে হোঁচট খেয়েছেন উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা মাসুকুল ইসলাম রাজিব। রাজিব কোনো এক সময় ‘বিএনএফ’ এর নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন বলে তাকে নিয়ে বিরাট প্রশ্ন তোলা হয়। ঠিক নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনের আগ মুহুর্তে তাকে নিয়ে এই প্রশ্ন উঠে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ভাবে রাজিবকে শোকজও করা হয়। যদিও রাজিব সঙ্গে সঙ্গেই শোকজের জবাব দেন কিন্তু ততোক্ষণে ক্ষতি যা হবার হয়ে যায়। তারা নৈতকতা কিছুটা দূর্বল হয়ে পরে।
রাজিবকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো একজন ‘পিউর’ রাজিবকে ‘ভেজাল’ রাজিবে পরিণত করলো কে? বিএনএফ এ রাজিবের নাম কে দিয়েছিলো? এটা নিয়ে এরই মাঝে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিস্তর রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। এই কাজটিযে মহানগর বিএনপির বর্তমান সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু করেছিলেন এটা জানেন বিএনপির সকলে। এরই মাঝে বিভিন্ন মাধ্যমে এই রিপোর্ট ফলাও করে প্রচার হয়েছে।
তাই বিএনপির অনেকেই বলেছেন টিপুর কারণে বিতর্কিত হলেন রাজিব। কারণ তখন এই টিপুই ছিলেন নারায়ণগঞ্জে বিএনএফ এর মূল কারিগর। তাই এরই মাঝে দলের ভেতরে তাকে নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে জানতে চাইছেন টিপু কিভাবে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব হলেন? তাই বিএনপির অনেকে মনে করেন টিপুর কারনেই বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির অগ্রগতি।
আবার বর্তমান মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যখন নারায়ণগঞ্জ সিটি করেপোরেশন নির্বাচন করেছিলেন তখন টিপুই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন যে সাখাওয়াত হোসেন ওসমান এমপিদের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা নিয়েছেন কিন্তু সেই টাকা তিনি নির্বাচনে খরচ না করে খেয়ে ফেলেছেন। তখন বার বার টিপু প্রকাশ্যে মিডিয়ায় এমন বক্তব্য দিয়েছেন।
তবে বিএনপির অনেকে মনে করেন এড. সাখাওয়াত টিপুকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতিতে তার যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। তাকে নানা রকম চাপ সামলাতে হচ্ছে। টিপুর কারণে অনেকেই এখন আর সাখাওয়াতের কাছে যেতে চান না। তাই বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকে মনে করেন আগামী দিনগুলিতে টিপুকে নিয়ে সাখাওয়াতকে আরো ভুগতে হবে। এস.এ/জেসি


