Logo
Logo
×

রাজনীতি

আন্দোলন ও নির্বাচনে মুখোমুখী হচ্ছেন শামীম-গিয়াস

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৩, ০৮:৪৪ পিএম

আন্দোলন ও নির্বাচনে মুখোমুখী হচ্ছেন শামীম-গিয়াস
Swapno

 

# বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে অনেকটা নিরপেক্ষ রয়েছে প্রশাসন

 

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে এই আসনের বর্তমান এমপি একেএম শামীম ওসমান শিবিরে নানা রকম শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। কারন আগামী দিনে আন্দোলন ও নির্বাচনে নিশ্চিৎ ভাবেই মুখোমুখী হচ্ছেন এই দুই নেতা। বিশেষ করে গিয়াস উদ্দিনের সাংগঠনিক দক্ষতাকে মোটেও অবজ্ঞা করতে পারছেন না তারা। এমন কি খোদ শামীম ওসমানের মাঝে গিয়াস উদ্দিনের উথ্যান এবং সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে আরো আগেই উদ্বেগ উৎকন্ঠা লক্ষ্য করা গেছে।

 

কারন শামীম ওসমান বেশ ভালো করেই রাজনীতিবিদ গিয়াস উদ্দিনকে চিনেন। ফলে গিয়াস উদ্দিন এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক হওয়ার পর থেকেই তাকে টার্গেট করে এমপি শামীম ওসমান নানা বক্তব্য দিতে থাকেন। গিয়াস উদ্দিনকে তিনি না ভাবে ঘায়েল করার চেষ্ঠা করেন। কিন্তু কোনো মতেই গিয়াস উদ্দিনকে দমাতে পারেননি শামীম ওসমান। বরং শামীম ওসমানের এমন তৎপরতার কারনে আরো বেশি কের বিএনপির নেতাকর্মীরা ঝুকেন গিয়াস উদ্দিনের দিকে এবং এক পর্যায়ে তিনি সফল সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি হন।

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলের মতে ২০০৬ সালে শামীম ওসমান যখন প্রথম এই আসনের এমপি নির্বাচিত হন তখন ওই নির্বাচনের আগে গিয়াস উদ্দিনই পেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। কিন্তু ওই নির্বাচনে বক্তাবলীর আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ উল্লাহ বিশেষ তৎপরতা চালিয়ে গিয়াস উদ্দিনের সেই মনোনয়ন ছিনিয়ে শামীম ওসমানকে এনে দেন যা কিনা শহীদ উল্লাহ বহুবার তার লেখায় প্রকাশ করেছেন। মূলত ওই নির্বাচনেই গিয়াস উদ্দিন বুঝতে পারেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আর তার আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা হবে না।

 

কেনো না শামীম ওসমান এমপি হওয়ার পর তখন সারা দেশে নারায়ণগঞ্জের একজন গডফাদার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পাঁচ বছর তিনি এমপি থাকাকালে গিয়াস উদ্দিনকে নারায়ণগঞ্জে আসতে দেননি। অথচ গিয়াস উদ্দিন তখনো বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। মূলত এসব কারনেই এক পর্যায়ে গিয়াস উদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের মাত্র ১৭ দিন আগে বিএনপিতে যোগ দিয়ে বিএনপির মনোনয়ন পন গিয়াস উদ্দিন। আর সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে গিয়াস উদ্দিন বিপুল ভোটে পরাজিত করেন শামীম ওসমানকে।

 

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করা সহ তার রাজনৈতিক আদ্যোপান্ত জানেন শামীম ওসমান। এক কথায় এসব কারণ সহ আরো নানা কারনেই এ সময়ে এসে শামীম ওসমানের ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছেন জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত এই সভাপতি। তাই নির্বাচন যদি নূন্যতমও অবাধ ও সুষ্ঠু হয় এবং সেই নির্বাচনে যদি অংশগ্রহন করেন গিয়াস উদ্দিন তাহলে শামীম ওসমানের জেতার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ মানুষ।

 

এদিকে আগামী কোরবানীর ঈদের পরে নারায়ণগঞ্জ সহ সারা দেশেই আন্দোলন নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করেন এরই মাঝে দেশে পাল্টে গেছে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি। এক সময় দেশের কোথাও বিএনপি মানববন্ধনের মতো সাদামাঠা কর্মসূচি দিয়েও মাঠে নামতে পারে নাই। বিএনপি কোনো কর্মসূচি দিলেই মারমুখী থাকতো পুলিশ। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে লাঠিপেটা আর গায়েবী মামলা দেয়াতো ছিলো মামুলি বিষয়, সরাসরি গুলি চালাতো পুলিশ এবং সর্বশেষ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন যুবদলের এক সদস্য।

 

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর থেকে পাল্টাতে থাকে পরিস্থিতি। সর্বশেষ ভিসা নীতি ঘোষনা হওয়ার পর থেকে প্রশাসনের মাঝে বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ফলে অনেকটা বিনা বাধায় বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলো তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারছেন। এমতাবস্থায় গিয়াস উদ্দিন এরই মাঝে সারা জেলায় বিএনপিকে ঢেলে সাজিয়েছেন তাতে নারায়ণগঞ্জের রাজপথেও হতে পারে তুমুল আন্দোলন।

 

তাই আগমী দিনের আন্দোলন কিভাবে মোকাবেলা করবেন এটা নিয়েও শামীম ওসমান সহ আওয়ামী লীগের ভেতর বেশ অস্বস্তি রয়েছে বলে সূত্রমতে জানা গেছে। তাই আগামী দিনে রাজপথ এবং নির্বাচন উভয় ফ্রন্টে গিয়াস উদ্দিনের সাথে শামীম ওসমানের লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা এরই মাঝে বেশ পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন