এক বছরে ইউনিয়নের ২৫ জনকে পিটিয়েছে রাসেল বাহিনী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৩, ০১:৫৯ পিএম
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের প্রয়াত নাসিরউদ্দিনের ছেলে উঠতি যুবক রাসেল উদ্দিন রাসেলকে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সদস্য হিসেবে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগ কিংবা আওয়ামীলীগের কোন অঙ্গসংগঠনের সাথে জড়িত না থাকলেও কয়েক নেতাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার কারণেই তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূল কর্মীদের।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজনীতিতে জড়িত না থাকলে নানা কুকর্মের জন্য কুখ্যাত রাসেল ও তার বাহিনী। গত একবছরে নানা ঘটনায় শুধু এক শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় ২৫ জনকে মারধর করেছেন রাসেল গং। এনিয়ে একটি তালিকা করে আওয়ামীলীগ নেতার কাছেও জমা দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা।
জানা গেছে, রাসেল বাহিনী চরকিশোরগঞ্জ এলাকার মো. আউলাদ হোসেন, মো. ফয়সাল, মো. ফয়েজ মিয়া, মো. এমদাদুল হক বাবু, মো. রোমান, মো. বশিরউদ্দিন, মো. আব্বাস, মো. আলাউদ্দিন মোল্লা, মো. ফাহিম শেখ, মো.ফরহাদ মিয়া, এবাদুল্লাহ মাদবর, হাজী আবুল কাশেম চেয়ারম্যান, আব্দুল আলী শেখ, বোরহান মিয়া, মো. সুফিয়ান।
মো. জামান, মো. শাহাদাত, মো. সুফিয়ান, মো.বারেক মোল্লা, আব্দুর রহমান শেখ, মো. আজিজুল, মো. আলামিন, আয়নাল চোধুরী, মহিউদ্দিন প্রধান, মো. আনোয়ার দেওয়ান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকার মানুষ রাসেল বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ। সর্বশেষ ২১ জুন রাসেলকে প্রধান আসামী করে নারায়ণগঞ্জ আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. হারুন অর রশীদ শেখ। মামলায় বাদী রাসেলের বিরুদ্ধে জমিসংক্রান্ত বিষয়ে চাঁদা দাবি করার কথা উল্লেখ করেন। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা দাবি করেছেন, রাসেলের মতো একজন বিতর্কিত বাচ্চা ছেলেকে উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে নাম প্রস্তাবনা করাটা মোটেও উচিৎ হয়নি।
শম্ভুপুরা ইউনিয়নসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের সিনিয়র তৃণমূল নেতারা যেখানে প্রস্তাবিত কমিটিতে ঠাঁই পাননি সেখানে এই যুবক অর্থের বিনিময়ে তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের। এনিয়ে শম্ভুপুরা বাজার, ময়নাকান্দি ও হোসেনপুরে তীব্র প্রতিবাদ সভা করেছেন তৃণমূলের বয়োজ্যেষ্ঠ আওয়ামীলীগ নেতারা।
তারা বলছেন, শম্ভুপুরা ইউনিয়নের যে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট আওয়ামীলীগের কমিটি রয়েছে সেখানকার কোন নেতাকে না নিয়ে রাজনীতিতে হাতে খড়ি নেই এমন ছেলেকে সরাসরি থানা আওয়ামীলীগের সদস্য পদে নাম প্রস্তাব করাটা একেবারেই বেমানান। এখানে যে অসঙ্গতি রয়েছে এটা পরিষ্কার।
শম্ভুপুরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগেরর সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক মোল্লা বলেন, রাসেল নামের যেই যুবককে সদস্য পদে উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে সে কখনো ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগ কিংবা শ্রমিকলীগসহ কোন অঙ্গসংগঠনেও জড়িত ছিলনা। এমন একটা বাচ্চা ছেলের নাম উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে সদস্য পদে নাম প্রস্তাব করাটা সমীচিন হয়নি।এন.হুসেইন রনী /জেসি


