ঈদের পরপরই মহানগর বিএনপির সম্মেলন, তারিখ চূড়ান্ত হয়নি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৩, ০২:১৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জে ৩১ বছর পর সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হতে যাচ্ছে মহানগর বিএনপির। ঈদের পরপরই মহানগর বিএনপির সম্মেলন অনষ্ঠিত হবে বলে বলে জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। তবে সম্মেলনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা খুব দ্রুত সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ঈদের আগে করারও চেষ্টা করেছিলাম। তবে ঈদের পরপরই আমরা সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। যেহুতু ঈদের মধ্যে নেতাকর্মীদের সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাত এবং সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগের একটা মাধ্যম সেহুতু সম্মেলনের তারিখটা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে ঈদের পর খুব দ্রুত সম্মেলন জাকজমকভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।
সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ২০১১ সালে গঠন হওয়ার আগে বর্তমান মহানগর বিএনপি মূলত শহর কিংবা পৌর বিএনপি হিসেবে পরিচিত ছিল। মহানগর বিএনপির ইউনিট হিসেবে এটি প্রথম কোনো সম্মেলন নারায়ণগঞ্জে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা না থাকলে শহরের মিশনপাড়া হোসিয়ারি সমিতি মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মহানগর বিএনপির অনেকেই আগামী ১৫ জুলই ঈদের পর সম্ভাব্য সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন। আবার কেউ কেউ এরআগে ৮ জুলাই বিকল্প তারিখ রাখার প্রস্তাব করেছেন। তবে সম্মেলনের অনুমতি পাওয়া ও অতিথিদের সময় পাওয়া সাপেক্ষে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।
২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়। এতে আহ্বায়ক করা হয় এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব করা হয় এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে। এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন ১৫ নেতা।
তবে বিদ্রোহ সত্ত্বেও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি তার অধীন সকল ওয়ার্ড, দুটি থানা এবং ইউনিয়নগুলোতে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া মহানগর বিএনপির এই আহবায়ক কমিটিতে বিরোধিতা থাকলেও অন্যান্য সময়ের চেয়ে তৃণমুল নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণও অনেক বেশি ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, মহানগর বিএনপির সম্মেলনে ৩৪৪ জন কাউন্সিলর ভোট দিয়ে মহানগর বিএনপির আগামীর নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন। সম্মেলনে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মহানগর বিএনপির ৪১ জন, সদর থানা বিএনপির ১০১ জন, বন্দর থানা বিএনপির ১০১ জন ও বন্দর উপজেলা বিএনপির ১০১ জন সদস্য এতে ভোট দেবেন।
এতে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ডেলিগেট হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়াও এতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর কথা রয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৯২ সালে শহরের চাষাঢ়া জিয়া হলে সর্বশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে শহর বা পৌর বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছিল। সে সময় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম সভাপতি ও নাজির প্রধান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর মহানগর বিএনপির কমিটিগুলো কেন্দ্র থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়।
২০০৯ সালে শহর বিএনপির জেলা বিএনপির অধীনে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এর আগে ২০০৩ সালে আবুল কালামকে আহ্বায়ক ও রফিক কমিশনারকে সদস্য সচিব করে ও ২০১৭ সালে আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
ঈদের পরে মহানগর বিএনপির সম্মেলনের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। এরপর তফসিল ঘোষণা করা হলে সে তফসিল অনুযায়ী হবে সম্মেলন। এন.হুসেইন রনী /জেসি


