# আমাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থেকে জাতীয় পার্টি বড় বড় কথা বলে : দিপু
# জাতীয় পাটির চরিত্রই হলো সুবিধাবাদি চরিত্র : আনোয়ার
# আমরা ভিক্ষা করা প্রার্থী চাই না : ভিপি বাদল
আগামী নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে নিয়ে বিএনপি নানা সমালোচনা করে যাচ্ছেন। বিএনপির সাথে তাল মিলিয়ে এখন জাতীয় পার্টিও আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মন্তব্য করছেন। তাদের সমালোচনার মূলকেন্দ্রবিন্দু হলো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটানো। সম্প্রতি জাতীয় পার্টির জি এম কাদেরও ক্ষমতাসীন দলকে নিয়ে সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন। তা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম ওসমান গাঞ্জার নৌকা তাল গাছে উঠবে না বলে মন্তব্য করেছেন। তখন তার এই বক্তব্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের মাঝে রক্তক্ষরণ হওয়ায় তারা এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এমপি সেলিম ওসমান ২০২১ সনের ২৮ অক্টোবর বন্দর গার্লস স্কুলের ভবন উদ্বোধনে গিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে সমালোচনা করে বলেছেন, গাঞ্জার নৌকা তাল গাছে উঠাতে চাচ্ছেন।
গাঞ্জার নৌকা কখনো তাল গাছে উঠবে না। আমরা শেখ হাসিনার নৌকা। আমরা গাঞ্জার নৌকা না। তার এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মাঝে পরেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে লাঙলের জন্য ভোট চান। তিনি যেহেতু লাঙলের এমপি সে হিসেবে লাঙলের ভোট চাইবের এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নৌকা প্রতীক নিয়ে সমালোচনা করবেন তা ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মেনে নিতে পারেন নাই।
অপরদিকে সাংসদ সেলিম ওসমানের পরে জাতীয় পার্টির নেতা জি এম কাদের বলেছেন, দেশ এখন শ্রীলঙ্কা হয়ে গেছে। তার এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের অন্যতম সদস্য আনিসুর রহমান দিপু বলেন, মহাজোটের জাতীয় পার্টির নামে রাজাকারের সন্তানরা লালিত-পালিত হচ্ছে। আমাদের খাবে আমাদের পড়বে আমাদের উপড় অত্যাচার করবে এটা মেনে নেয়া যায় না। আবার বলে বাংলাদেশ নাকি শ্রীলঙ্কা হয়ে গেছে।
বেকুবের ঘরে বেকুব। ও একটা বেয়াদব। ও নিজের বড় ভাইকে মানে নাই নিজের বড় ভাবীকে মানে নাই। সে বিপ্লবী হয়ে গেছে। আমাদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে থেকে জিএম কাদের বড় বড় কথা বলে। জাতীয় পার্টির জি এম কাদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি এই কথা বলেন। তিনি বলেন, শত্রু মিত্র চিনতে হবে। আগামীতে নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর, সোনারগাঁয়ে নৌকা চাই। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে নৌকা চাই। নৌকার মাধ্যমেই বিজয়ী হবো।
তিনি আরও বলেন, জি এম কাদের বিএনপির সুরে সুর মিলিয়ে বড় বড় কথা বলছে। এই বিষয়গুলো অত্যন্ত সচেতনভাবে চিন্তা করতে হবে। এক কাপ চায়ের জন্য এক প্যাকেট বিরিয়ানির জন্য কারও বাড়িতে যাবেন না। নৌকা মার্কাই আসল। নৌকা ছাড়া কোনো গতি নাই। নেত্রী দয়া করে যদি কাউকে কিছু ভিক্ষা দিয়ে থাকে তাহলে ভিক্ষা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। ভিক্ষা নিবো আবার জটিল সময়ে বড় বড় কথা বলবে এটা হতে পারে না। এরা হচ্ছে জাতীয় বেঈমান তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।
জাতীয় পার্টির জিএম কাদের এমন বক্তব্যে রক্তক্ষরণ হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ আওয়মী লীগের নেতারা চুপ করে বসে নাই। তাছাড়া এখানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার এমিপ না থাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা অবহেলিত হয়ে রয়েছে। কেননা এখানে জাতীয় পার্টির এমপি থাকায় তারা তাদের দুঃখের কথা কারো সাথে শেয়ার করতে পারেন না।
তাছাড়া জাতীয় নির্বাচনে এখানে নৌকার প্রার্থী না দেয়ায় তারা নৌকায় ভোট দেয়ার স্বাদ নিতে পারছেন না। তাই ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে এখানে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়েছেন। তবে তাদের এই দাবীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও আশ্বাস প্রদান করেছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, জাতীয় পার্টির এমপিরা আওয়ামী লীগের ছত্র ছায়ায় নানা সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে। আর এখন এসে তারা দর কষাকশির জন্য এগুলো বলছে। আওয়ামী লীগ যেন তাদের ডেকে নেয় এজন্য জাতীয় পার্টি বিএনপির সাথে সুর মিলিয়ে নানা মন্তব্য করছেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানও বলেছে গাঞ্জার নৌকা নাকি তাল গাছে উঠবে না। তার এই মন্তব্যে তখন আমরা প্রতিবাদ জানাই। তাদের চরিত্র হলো এক সময় বিএনপির সাথে থেকে সুবিধা নিবো আবার আওয়ামী লীগের সাথে থেকে সুযোগ সুবিধা ভোগ করবো। জাতীয় পাটির এমপিদের চরিত্রই হলে সুবিধাবাদি চরিত্র। তাই আমরা চাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে যেন নৌকার প্রার্থী দেয়া হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল বলেন, জাতীয় পার্টি রাজনীতির নামে পলিটিক্স করতাছে। অর্থাৎ পলিসি থেকে পলিটিক্স। তারা এখন চালাকি করছে। জিএম কাদেরতো তার ভাইকে মানে না। সে একজন বয়োদব লোক। আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছাড় না দিলে তাদের কোন বেল থাকতো না।
তারা হলো স্বৈরাচার। আমরা ভিক্ষা করা প্রার্থী চাই না। যদি মহাজোট থাকেও তাদের অন্য দিকে ছাড় দেয়া হোক। আমরা নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা চাই। একই সাথে দলীয় প্রধান ব্যতিত বেশির ভাগ আসনে যেন দুই বারের বেশি কাউকে প্রার্থী না দেয়া হয়। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির এমপিদের দুই বারের বেশি দেয়ায় তারা এখন সমালোচনা করে মন্তব্য করেন। তাদের ছেলে সন্তানরা প্রভাব বিস্তার করে। এস.এ/জেসি


