# এবার মোকাবেলা করতে হবে ভিন্ন ধরনের আন্দোলন ও নির্বাচন
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচন্ড চ্যালেঞ্জের মুখে পরেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নানা কারনে এই চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সচেতন মহল। তারা মনে করেন বিগত দুটি নির্বাচনের মতো এবার আর সহজে পার পাবেন না শামীম ওসমান এমপি। তাকে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
এসব চ্যালেঞ্জের মাঝে প্রথম চ্যালেঞ্জটি হলো শামীম ওসমানকে অবশ্যই একটি বড় ধরনের আন্দোালন মোকাবেলা করতে হবে। প্রায় নিশ্চিৎ ভাবেই বলা চলে যে এই আন্দোলন শুরু হচ্ছে এই কোরবানীর ঈদের পরেই। বিএনপি সহ প্রায় সব বিরোধী দলই এবারের এই আন্দোলনে যোগ দেবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। নির্বাচনকালীন তদারকি সরকারের এক দফা দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হবে বলে পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে।
বিএনপি, জামায়াত, চরমোনাই ও বামপন্থী সংগঠনগুলিতো বটেই সরকারের সহযোগী হিসাবে পরিচিতি জাতীয় পার্টিও এবারের এই আন্দোলনে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা পরিস্কার হয়ে উঠেছে। এরই মাঝে জাতীয় পার্টি সংসদের ভেতরে এবং বাহিরে সরকারের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। আর ইসলামী আন্দোলন সরকারী দলকে বাদ দিয়ে বাকী সব দলকে নিয়ে মিটিং করে নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে।
এতে পরিস্কার বুঝা যায় এরই মাঝে একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া বাকী সব বড় দল একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বেশ সোচ্চার হয়ে উঠেছে। তাই ইদের পর যদি সব দল মিলে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করে তাহলে বেশ চাপে পরবে সরকার। ফলে সরকারী দলের এমপি হিসাবে নারায়ণগঞ্জেও চাপের মাঝে পরবেন শামীম ওসমান। তাই আগামী দিনগুলিতে শামীম ওসমান কিভাবে এই চাপ মোকাবেলা করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নারায়ণগঞ্জ সহ সারা দেশে বিরোধীদের আন্দোলন মোকাবেলা করেছে পুলিশ প্রশাসন। আর জামায়াতে ইসলামীকে কোনো কর্মসূচিই পালন করতে দেয়া হয়নি সরকার। কিন্তু মার্কিন ভিসা নীতি ঘোষনার পর নতুন করে মাঠে নেমেছে জামায়াত। সরকারও তাদেরকে মাঠে নামার অনুমতি দিয়েছে। তাই আগামী দিনগুলিতে পুলিশ আগের মতো মারমুখী থাকবে না বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল।
ফলে জামায়াতও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নিয়ে মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে কেন্দ্রীয় নেতারা। তাই আগামী দিনের আন্দোলনে একদিকে থাকবে সরকারী দল আওয়ামী লীগ আর অপরদিকে থাকবে বিএনপি সহ সব বিরোধী দল। ফলে সেই আন্দোলন রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করা শামীম ওসমানের জন্য বেশ বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করেন রাজনৈতিক সচেতন মহল। কারণ কোনো রকম জোরজবরদস্তি করে আন্দোলন দমানো হলে গণতান্ত্রিক বিশ্ব সেটা মেনে নেবে না।
অপরদিকে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জতো রয়েছেই। আগামী নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হয় এবং সব দলের অংশগ্রহনে হয় তাহলে বিএনপির প্রার্থীকে মোকাবেলা করতে হবে শামীম ওসমানকে। সেই ক্ষেত্রে এই আসনে এবার বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন প্রার্থী হবেন। আর সেই ক্ষেত্রে বেশ সহজেই গিয়াস উদ্দিনের জিতে যাবার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করেন অনেকে।
কেনো কোনো সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলে এমনিতেই তাদের নানা রকম ব্যর্থতা বাড়তে থাকে। ফলে বাড়তে থাকে জন অসন্তোষ। আর এই সরকারতো বিগত প্রায় পনেরো বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। তাই জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যার্থতার পাহাড় জমেছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সাধারণ মানুষ মোটেও স্বস্থিতে নেই। এছাড়া স্থানীয় ভাবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মানুষকে বিগত কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতা নিয়ে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ সরকার চাইছে এবারও তাদের নিজেদের অধীনে আগামী নির্বাচন করতে। কিন্তু এই সরকারের অধীনে সেই নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলি। আর এমন একটি নির্বাচন দেশে বিদেশে মোটেও গ্রহনযোগ্য হবে না। কারণ নির্বাচনটি অংশগ্রহনমূলক হবে না। তখন এক প্রকার আবারো প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতাই জিতে যাবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। জিতে যাবেন শামীম ওসমানও।
আপাতত সরকার সেই পথেই এগুচ্ছে এবং সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এমন আশা নিয়েই মাঠে নেমেছেন বলে ধারনা পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেটা করাও যে বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে তা বুঝা যাচ্ছে। কারণ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ দেশীবিদেশী চাপ যে বাড়তেই থাকবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই নারায়ণগঞ্জে এসব চ্যালেঞ্জ শামীম ওসমান কিভাবে মোকাবেলা করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। এস.এ/জেসি


