না.গঞ্জ-৫ আসনে নৌকার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আ.লীগ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৩, ০৯:১৬ পিএম
# জাতীয় পার্টির উপর ভর করে থাকতে চাই না : দিপু
আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ বিএনপি। একই সাথে সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটাতে একের পর এক বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করে যাচ্ছে বিএনপি। অপরদিকে বিএনপিকে ঠেকাতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও মাঠে শান্তি সমাবেশ করে যাচ্ছে। কিন্তু এই দিক দিয়ে নিরব ভুমিকায় থেকে সুযোগের অপেক্ষা রয়েছে জাতীয় পার্টি। তারা কোন আন্দোলন সংগ্রামে কিংবা রাজনীতির মাঠে না থেকে সুযোগ সন্ধানীতে রয়েছেন বলে জানান রাজনৈতিক বোদ্ধামহল।
এদিকে আগামী নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জ একটি দাবীতে একমত পোষণ করেছে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। আর তা হলো নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা চান তারা। কেননা নারায়ণগঞ্জে জাতীয়পার্টিকে নিয়ে বেশ বেকায়দায় রয়েছে এখানকার আওয়ামীলীগ। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তারা জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ। আওয়ামী লীগের নেতারা এই আসনে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিতে চান।
কেননা এই আসনে দেড় যুগের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীরা নৌকায় ভোট দিতে পারে না। তাই আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতারা এখানে ভিক্ষা করা প্রার্থী চান না বলেও মন্তব্য করেছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু মন্তব্য করেন মহাজোটের জাতীয় পার্টির নামে রাজাকারের সন্তানরা লালিত পালিত হচ্ছে।
অর্থাৎ রাজাকারের সন্তানরা আওয়ামী লীগের শেল্টার না পেলেও জাতীয় পার্টির আওয়ামী লীগের মহাজোটের সাথে থেকে তারা বিভিন্ন ভাবে রাজাকারের সন্তানদের লালিত পালিত করছে। এছাড়া স্থানীয় ভাবে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে নৌকার এমপি না থাকায় আওয়ামী লীগের নেতারা অবহেলিত হয়ে রয়েছে। তারা তাদের দুঃখ কষ্ট কারো সাথে শেয়ার করতে পারেন না। নিজেদের দলীয় এমপি না থাকায় তাদের দাবী দাওয়া নিয়ে কারো কাছে যেতে পারেন না।
দলীয় সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিগত দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট ও মহাজোটের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হন। এ আসনটি ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে ২০০১ সনে থেকে ২০০৬ পর্যন্ত এই আসনটি বিএনপির দখলে থাকে। এর মধ্যবর্তী সময় ওয়ান এলিভেনের সময় অতিবাহিত হয়। এতে করে ২৩ বছরে আওয়ামী লীগ ৪ টার্ম নির্বাচন পেলেও একবারও নৌকার প্রার্থী পায় নাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। আর এ নিয়ে তাদের মাঝে ক্ষোভ জমে রয়েছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে নেমেছে। তারা আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় না দেয়ার জন্য জোরালো ভাবে মাঠে নেমেছেন। তাছাড়া ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের মহাজোটের সাথে জাতীয় পার্টি নেই। তারা আলাদা হয়ে গেছেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের বর্তমান এমপি সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির এমপি হওয়ায় তাদের সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে তাদের তেমন একটা মিল নেই। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এখানে নৌকার প্রার্থী চান।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে নিয়মিত দলীয় নানা উন্নয়ন প্রচার প্রচারনা করছেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, তিনি বন্দরের বাসিন্দা হওয়ায় সদর বন্দরে তার ব্যাপক পরিচিত রয়েছে। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে তার সমর্থকরা তাকে পেতে চান।
আর এজন্য এই নেতার ব্যানার পোষ্টার ছবি দিয়ে পুরো সদর বন্দর জুড়ে এখন থেকে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সাথে পাল্লা দিয়ে প্রচারনায় রয়েছে নারায়নগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, তারা সকলেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী।
আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, আমরা জেলার ৫টি আসনে আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানাই। নৌকা দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যাকে নৌকা দিবেন আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। তবে আমরা এখানে জাতীয় পার্টির উপর ভর করে থাকতে চাই না। আমরা আমাদের দলীয় প্রার্থী চাই।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল বলেন, জাতীয় পার্টি রাজনীতির নামে পলিটিক্স করতাছে। অর্থাৎ পলিসি থেকে পলিটিক্স। তারা এখন চালাকি করতেছে। আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছাড় না দিলে তাদের কোন বেল থাকতো না। আমরা ভিক্ষা করা প্রার্থী চাই না। যদি মহাজোট থাকেও তাদের অন্য দিকে ছাড় দেয়া হোক। আমরা নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা চাই। একই সাথে দলীয় প্রধান ব্যতিত বেশির ভাগ আসনে যেন দুই বারের বেশি কাউকে যেন প্রার্থী না দেয়া হয়।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, তারা নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা চান। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী চান। এখানে তারা নৌকার প্রার্থী পাওয়ার জন্য দলীয় নেতৃবৃন্দের কাছে দাবী জানিয়ে আসছেন। সদর বন্দর এলাকায় তারা জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ। এছাড়া বিভিন্ন সভায় ২০১৮ সনের নির্বাচনের পর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইও তার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন।
তবে তাদের এই দাবী গত বছরে নাসিক নির্বাচনের সময় দায়িত্বরত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এখানে নৌকা দেয়ার আশ্বাস দেন। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে দলাদলি থাকলেও তারা ৫টি আসনে নৌকার দাবীতে এক মত পোষণ করেছেন। এখানে আসনের জাতীয় পার্টিকে ঠেকাতে তারা জোরালো ভাবে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী নিয়ে মাঠে নেমেছেন। কিন্তু তাদের এই দাবী পুরণ করতে পারে আওয়ামী লীগের দলীয় সভানেত্রী। সেই দিকেই তারা তাকিয়ে রয়েছেন। এস.এ/জেসি


