Logo
Logo
×

রাজনীতি

দুুর্নীতির বরপুত্র যুবলীগ নেতা মতির গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির খবরে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৩, ০১:১৫ পিএম

দুুর্নীতির বরপুত্র যুবলীগ নেতা মতির গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির খবরে
Swapno

# দল কোন দুর্নীতিবাজের দায় নেবেনা : আনোয়ার হোসেন
# আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে : এড. দিপু
# কারো ব্যক্তিগত কুকর্মের দায় একান্তই তার নিজস্ব : মজিবুর


অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক ও সিদ্ধিরগঞ্জ ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সংবাদে তোলপাড় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে।

 

 

রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে মতি ও তার বাহিনী যে অঢেল বিত্তসম্পদের মালিক হয়েছেন এসব এখন আর হজম করতে না পারায় তার থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। এলাকা ও এলাকার বাহিরে কাউন্সিলর মতি ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের কমতি ছিলনা।

 

 

আইনের সম্মুখীন হতে না হওয়ায় মতি ও তার বাহিনী অপরাধের সাম্রাজ্য কায়েম করে সবকিছুকে পাত্তাই দেয়নি। তবে দুদকের মামলায় শেষ পর্যন্ত মতিকে তার পরিণতির সম্মুখীন হতে হলো। এদিকে যুবলীগ নেতা মতির কুকর্মের দায় কোন ক্রমেই আওয়ামী লীগের উপর বর্তায় না বলে মত দিয়েছেন জেলার আওয়ামী লীগ নেতারা।

 

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, যুবলীগ নেতা মতি কেন, কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ভুল ত্রুটি, অন্যায়ের দায় দল কখনো বহন করবেনা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট বলেছেন, কোন দুর্নীতিবাজের পক্ষে তিনি এবং দল থাকবেনা।

 

 

আমরা শেখ হাসিনার কর্মী, তাই তার কথাই আমাদের কথা। মতির কুকর্ম একান্ত তার ব্যক্তিগত। এখানে দল কোন দুর্নীতিবাজের দায় নেবেনা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, কে কোথায় দুর্নীত করলো তা দেখভাল করার জন্য দুদক এবং প্রচলিত আইন আছে।

 

 

এখানে মতির মতো যুবলীগ নেতাই হোক আর যেই হোক, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কারো ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় কখনো আওয়ামী লীগের মতো স্বচ্ছ রাজনৈতিক দলের উপর বর্তায়না। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান যুগের চিন্তাকে বলেন, মতি আমাদের দলের যুবলীগ নেতা।

 

 

সে আমাদের সাথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে এসেছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে এটা আমরা জানি। কিন্তু কোথায় গিয়ে কি কি দুর্নীতি করেছে  কোন কুকর্ম করেছে সেটা তো দল এবং দলের নেতাকর্মীরা জানেনা। কারো ব্যক্তিগত কুকর্মের দায় কখনোই দলের উপর বর্তায়না।

 

 

মতির দুর্নীতির যে তদন্ত হচ্ছে তা আইনের নিজস্ব গতিতেই চলবে। দল কিংবা দলের নেতাকর্মীরা কোন ব্যক্তির কুকর্মের জন্য দায়ী না। প্রসঙ্গত, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ যুবলীগের আহবায়ক মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

 

 

দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপপরিচালকের দায়ের করা মামলায় (নং ৭(২)২২) নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজীনগর সুমিলপাড়া এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে কাউন্সিলর মতির বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

 

 

এব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আদালত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ১৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মতিউর রহমান (মতি) ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

 

দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ২০২২ সালের ২২ ডিসেম্বও দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. ইব্রাহীম আদালতে মতি ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক চার্জশিট দাখিল করেন।
 

 

সূত্র জানায়, তদন্তকালে আসামি মতিউর রহমানের মতির নামে ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ও তার স্ত্রী রোকেয়া রহমানের নামে ৮ কোটি ১৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পায় দুদক।  এর আগে ২০২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মতিউর রহমান ৬ কোটি ৬২ লাখ ৮২ হাজার টাকা ও তার স্ত্রী রোকেয়া রহমান ২ কোটি ৪২ লাখ ৫৯ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব প্রদর্শন না করে মিথ্যা তথ্য দেন।
 

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রথম মামলায় কাউন্সিলর মো. মতিউর রহমানের (মতি) বিরুদ্ধে ৬ কোটি ১ লাখ ৭২ হাজার ২৬৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৫ হাজার ৬৩৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

 

অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকে ৮২ কোটি ৫১ লাখ ৪২৪ টাকা জমা করে পরবর্তীতে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে অবস্থান গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে অপর মামলার এজাহারে কাউন্সিলর মতির স্ত্রী রোকেয়া রহমানের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৬১ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৭ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন।

 

 

 বিভিন্ন ব্যাংকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩৯৫ টাকা জমা করে সেখান থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৮ টাকা উত্তোলন করে তা স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরপূর্বক অবস্থান গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।    এন. হুসেইন রনী    /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন