প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে কালামের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সোনারগাঁ আ.লীগ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৩, ০৭:৫১ পিএম
# মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, হত্যা মামলার আসামী জায়গা পেয়েছেন
# কালামের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন : সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া
# সংবাদ সম্মেলন করে তিনি মিথ্যাচার করছেন : কায়সার হাসনাত
# জয় বাংলা বলেনি এমন লোকও আছেন : ইসহাক মিয়া
# উনার আঙ্গিকে সঠিক কথা বলেছেন : মুকুল
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে বিতর্ক থামছেনা। একের পর এক আওয়ামীলীগ নেতারা উপজেলা আওয়ামীলীগের এই প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে আপত্তি তুলছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান প্রস্তাবিত কমিটির সদস্য মাহফুজুর রহমান কালাম।
তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নিজে প্রার্থীতা করার ইচ্ছা জানিয়ে শুক্রবার (৩০ জুন) বিকেলে সোনারগাঁ পৌরসভার নিজ বাড়ি চামেলী ভিলাতে ঈদুল আযহা পরবর্তী পূনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সোনারগাঁ উপজেলা প্রস্তাবিত কমিটিতে হত্যা, ডাকাতি ও মাদক মামলার আসামিকে পদ দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন।
সাংবাদিকদের সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সংবাদ সম্মেলন ও পরিচিতি সভা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে কালাম বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কখনো আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির পরিচিতি সভা হতে দেখিনি। এটা সাংগঠনিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। এই প্রস্তাবিত কমিটিতে মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, হত্যা মামলার আসামী জায়গা পেয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা জীবনে ছাত্রলীগ, যুবলীগ করে নাই তাদেরকে কমিটিতে রাখা হয়ে। নতুন প্রস্তাবিত কমিটির অনেক সদস্যই বিতর্কিত। পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ, সংগঠনের নেতাকর্মীরা মনোক্ষুন্ন ও হতাশ হয়েছেন। এ ধরনের বিতর্কিত কেউ কোনোভাবেই সংগঠনের দায়িত্বশীল পদ-পদবিতে আসতে পারে না।
তবে মাহফুজুর রহমান কালামের বক্তব্য নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আমরা যাচাই-বাছাই করে সদস্য দিয়েছি। কোনো মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতাকে দেওয়া হয়নি। কালামের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
কালামের অভিযোগের বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমরা ইউনিয়নগুলোর সম্মেলনকরে প্রস্তাবিক কমিটি করেছি। সেখানে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। তাহলে সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যাচার করার কারণ কি। প্রস্তাবিত কমিটিতে যাদের নাম এসেছে তাদের উনিও চেনেন। তাহলে উনি বলুক কে কে মাদকব্যবসায়ী, কারা মাঠের রাজনীতিতে ছিল না।
এসব মিথ্যাচার তিনি অকারণে করছেন। আর আমরা সাংবাদিকদের নানা নিউজের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করে প্রস্তাবিত কমিটিতে কারা আছেন সেই নামগুলো দিয়েছি। গঠনতন্ত্রেও কোথায় আছে যে প্রস্তাবিত কমিটির ব্যক্তিদের পরিচয় করে দেওয়া যাবে না। এসব ভিত্তিহীন কথা উনি কেন বলছেন তার উত্তর উনিই ভালো দিতে পারবেন। কারা মাদকসেবী, মাদকবিক্রেতা, হত্যা মামলার আসামি তিনি সেই নামগুলো পরিষ্কার করেন।’
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি ইসহাক মিয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, এই প্রস্তাবিত কমিটিতে জীবনে জয় বাংলা বলেনি এমন লোকও আছেন। তবে কারা মাদকসেবী, মাদকবিক্রেতা এবং হত্যা মামলার আসামি তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে বলতে পারবো।
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম মুকুল যুগের চিন্তাকে বলেন, কালাম ভাই বিজ্ঞ রাজনীতিক। তিনি জেনে শুনেই হয়তো বলেছেন। কমিটিতে যারা মাঠের রাজনীতি করেন তাদের আমি চিনি, বাকিদের সম্পর্কে সেভাবে বলতে পারবোনা। কালাম ভাই উনার আঙ্গিকে যেটা ভালো মনে করেছেন সেটিই বলেছেন।
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি যুগের চিন্তাকে বলেন, কারা রাজাকার আছে সেটা আমরা বলতে পারবো না। খুনের মামলার আসামি, মাদকসেবী, মাদকবিক্রেতা কমিটিতে স্থান পেয়েছে কিনা এটা যারা কমিটি করেছে তারাই ভালো বলতে পারবে।
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে যদি কারো নামে বিতর্ক উঠে এবং তা প্রমাণ হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং যাচাই বাছাইয়ের করে কমিটি দেয়া হবে। কমিটির বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদেরও জানানো হবে। এস.এ/জেসি


