জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খোকনের বাড়িতে হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড়
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৩, ০১:০২ পিএম
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম ফারুক খোকনের বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ওই সময়ে হামলাকারীরা এলাকার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে বাড়িতে থাকা ৫টি গাড়ি ভাঙচুর ও বাড়িতে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও প্রায় ১০টির ও উপরে সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করে।
এতে করে খোকনের বাড়িতে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। গত ৩ জুলাই রাত সাড়ে ৮টায় রূগগঞ্জ মুড়াপাড়া এলাকার গোলাম ফারুক খোকনের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জেলা, মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিন্দার ঝড় তুলেছেন।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, ঘটনার কিছুক্ষনের মধ্যেই যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হুন্ডা-গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে দৌড়ে চলে আসে আর গোলাম ফারুক খোকনকে বাসা থেকে প্রডেক্ট দিয়ে বেড় করে। মুড়াপাড়া এলাকায় মিছিল করে। আর শত শত নেতাকর্মী দেখে তারা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের গুন্ডা বাহিনীরা পালিয়ে যায়। জানা গেছে, রাতে আরেক দফা হামলা হওয়ার আভাস পাওয়া গেলে ও এটা আর হয়ে উঠেনি। আর ৪ জুলাই আওয়ামী লীগের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বেড় হলেও কোন হামলা হয়নি।
এ ঘটনার বিষয়ে গেলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, গতকাল রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫টি গাড়িতে করে নেতাকর্মীরা আমার মুড়াপাড়ার বাসায় আসে। আমরা সেখানে রাজনৈতিক বিষয়সহ নানা বিষয়ে আলাপ আলোচনা করছিলাম তার পাশাপাশি ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের এক পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের পাভেল, শম্ভু, শহীদ ও তাওলাদের নেতৃত্বে শতাধিক যুবক লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হানা দেয়।
তারা ওই ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে। বাড়ির ভেতরে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। আর তারা পরিকল্পিতভাবে ‘বিদ্যুতের লাইন কেটে এই হামলা করেছে। আর আমার বাসার প্রায় ১০টির মতো সিসি ক্যামেরা তারা ভেঙ্গে ফেলেছে। হামলার কিছুক্ষনের মধ্যেই আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হুন্ডা-গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ও আমাদের উদ্ধার করে।
তখনও আশেপাশে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুন্ডা বহিনীরা ছিল। কিন্তু বিএনপির শত শত নেতাকর্মী দেখা তারা আর কিছু করতে পারেনি। যার কারণে রাতে পরিস্থিতি ঠান্ডা গেলেও সকাল থেকে পরিস্থিতি আবারো খারাপ শোনা যাচ্ছিল। জানা গেছে, তারা রাতে মিছিল নিয়ে আবারো বাহির হতে পারে। যার কারণে আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের এলার্ড করে রেখেছি।
এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, গতকাল গেলাম ফারুক খোকনের ভাইয়ের সাথে দেখা করতে আমরা কয়েকজন নেতাকর্মী তার রূপগঞ্জের বাড়িতে যাই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে। সেখানে আমরা রূপগঞ্জ আওয়মী লীগ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলা শিকার হই।
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর আমরা গাড়ি নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ চলে আসি। এসময় আমরা খোকনকে চলে আসতে বললেও সে পরিবারকে রেখে আসবে না বলে জানায়। আমরা একসঙ্গে অনেক নেতাকর্মী বের হওয়ায় পরবর্তীতে তারা আমাদের উপর আর কোনো হামলা করতে পারেনি। আর আজকে এখন পর্যন্ত কোন হামলার ঘটনা আমরা শুনতে পায়নি যার কারণে বলতে হচ্ছে পরিস্থিতি আপাদত ঠান্ডা হয়ে গেছে।
জানা গেছে, এর আগে ও ২২ মে মুড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আমার বাড়িতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করে এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
এর পর থেকেই ক্ষমতাসীন দলের লোকজন আমাদের বাড়ির আশেপাশে মহড়া দিচ্ছে। এখন সেখানে তারা যুবলীগের অফিস বানাচ্ছে। ২২ জুন আমাদের লোকজন বাধা দিলে প্রথমে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আবার পুলিশের উপস্থিতিতে কাজ শুরু হয়। এন.হুসেইন রনী /জেসি


