মহানগর বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে নিস্ক্রিয় বিদ্রোহী গ্রুপ
লিমন দেওয়ান
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৩, ০৬:৫১ পিএম
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে মহানগরীর রাজনীতি অনেকটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আর তার পাশাপাশি সকল নেতাকর্মীদের মাঝে ও রয়েছে ব্যাপক উৎফুল্লতা। এদিকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু সকল নেতাকর্মীদের সাথে সম্বেলন নিয়ে আলাপআলোচনা করে একটি চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন।
কিন্তু অন্যদিকে মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা ব্যাপক তোপ দেখিয়ে এবার নিস্কীয়র পথে চলে গেছেন। ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই নেতাকর্মীদের থেকে পা পিছিয়ে নিয়েছেন তারা। কিন্তু মহানগর বিএনপির কমিটি থেকে বিদ্রোহী হওয়ার সময় সকল নেতাকর্মীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সর্বক্ষেত্রে পাশে থাকবে আর দলীয় সকল আন্দোলন সংগ্রামে মহানগর বিএনপির আলাদা ব্যানারে ব্যাপকভাবে পালন করবে।
কিন্তু দিন যতই ঘনিয়ে আসছে তাদের মাঝে আর সেই উজ্জ্বীবিতা হারিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে বিদ্রোহীদের মধ্যে অনেকেই তাদের কাছ থেকে পা পিছিয়ে নিয়ে মূল মহানগর বিএনপির কমিটির সাথে এসে পরেছে। যার কারণে বোঝা যাচ্ছে মহানগর বিএনপির রাজনীতি থেকে বিদ্রোহী নামের কালো ছায়া নেই বললেই চলে।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, তারেক রহমানের নির্দেশে দেওয়া কমিটিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বিদ্রোহীতা করে আতাউর রহমান মুকুল বলয়ের নেতাকর্মীরা এখন দিশেহারা হয়ে উঠেছেন। এমনকি বর্তমানে মহানগর বিএনপির মূল কমিটির নেতাকর্মীরা তাদের আওতাধীন সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়ন কমিটি গঠন করে এবার সম্মেলন নিয়ে মহানগর বিএনপির রাজনীতি সগরম রেখেছেন।
তার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর এই সম্মেলনে নেই বিদ্রোহী নেতাকর্মীদের কোন ভোটসহ পাবে না তারা কোন দায়িত্ব যার কারণে সম্মেলনের পর পরই বিদ্রোহীরা মহানগর বিএনপির রাজনীতি থেকে পুরোদমে মিশিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্ববর এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহ্বায়ক ও এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে মহানগর বিএনপিকে আরো গতিশীল করার লক্ষে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এই কমিটিকে না মেনে কমিটি থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুলের নেতৃত্বে মূল কমিটি থেকে বিদ্রোহীত করে।
আর আলাদা ব্যানারে মহানগর বিএনপির সকল দলীয় কার্যক্রম পালনে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেন। বিদ্রোহীরা হলেন, ১নং যুগ্ম-আহ্বায়ক এড. জাকির হোসেন,যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী নুরুদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা।
এবং সদস্য আওলাদ হোসেন, হান্নান সরকার অ্যাডভোকেট বিল্লাল হোসেন, মনোয়ার হোসেন শোখন, আলমগীর হোসেন, ফারুক হোসেন, শহীদুল ইসলাম রিপন, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা, আমিনুর ইসলাম মিঠু, মো. ফারুক হোসেন ও অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু।
এই বিদ্রোহীরা আতাউর রহমান মুকুলের দিক নির্দেশনায় আলাদাভাবে আলাদা ব্যানারে দলীয় কর্মসূচি পালন করবে। সেই কথা মতো গুটি কয়েকজন নেতাকর্মী বন্দর থেকে নিয়ে এসে শহরে ৫/৬টি দলীয় কর্মসূচি পালন করেই হাঁপিয়ে যায় তারা। যার কারণে দলীয় বড় বড় কয়েকটি কর্মসূচি পালনে দেখা যায়নি।
তাদের কিন্তু হাঠৎ তারা কোথা বেড়িয়ে এসে পদক্ষেপ নিলো মহানগর বিএনপির মুল কমিটির সাথে পাল্টা পাল্টাভাবে কমিটির ঘোষণা দিবেন। সেই উদ্দেশ্য তারা সদর থানা, বন্দর থানা, বন্দর উপজেলা, ১৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির কমিটিসহ কয়েকটি কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। তারপর পরই হাপিঁয়ে গেছেন।
তারা কিন্তু ট্রেনের গতিতে দফায় দফায় মহানগর বিএনপির মূল কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব একত্রিত হয়ে ১৭টি ওয়ার্ড ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি থানা একটি উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের মাধ্যমে অনুমোদন দেয়। যার কারণে মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে একটি আলোর দিশা দেখা দিয়েছে।
সেই পরিপ্রেক্ষিতে নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে সম্মেলনের আয়োজন করছে তারা। ইতিমধ্যে সম্মেলনের ডেট ও ফিক্সড করা হয়ে গেছে। চলতি মাসে ১৫ তারিখে চাষাঢ়ায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনকে ঘিরে মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক প্রার্থীরা নেতাকর্মীদের ধারে ধারে গিয়ে যোগাযোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু কয়েকদিন আগেও বিদ্রোহী নেতাকর্মীদের দ্বারা মহানগর বিএনপির মূল কমিটি ভাঙ্গার মিশন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কমিটি গঠনের পর আন্দোলণ সংগ্রামসহ কমিটি গঠনের তৎপরতা থেকে কোনভাবেই সেটা আর হয়ে উঠেনে। এছাড়াও অতি নিকটে চলে এসেছে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন।
যাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নেতাকর্মীরা যে যার মতো করে ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রামের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি আরো গতি শীল করতে ইতিমধ্যেই প্রথমে জেলা বিএনপির কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করা হয়। তারপর পর এবার মহানগর বিএনপির কমিটিও সম্মেলনের অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আর তার পর পরই অঙ্গ সংগঠনের কমিটিগুলো গঠনের আশাঙ্খা রয়েছে। কিন্তু নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, বর্তমানে বিএনপির দুদিন হলেও সকল নেতাকর্মীরা এক সঙ্গে মিলে কাজ করলে সকল দুদিনকে ও সুদিন মনে হয়। কিন্তু বিদ্রোহীরা অতি লোভে তাদের কপাল তারই নষ্ট করছে।
তাদের মধ্যে যারা আন্দোলণ সংগ্রামকে ব্যাপকভাবে ভালোবেসে রাজপথে আছেন তারাই শুধু মহানগর বিএনপির মুল কমিটি সাথে একত্মতা প্রকাশ করছে যেমন ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী নূর উদ্দিন তাদের মতো করেই আরো নেতাকর্মীরা এখন মহানগর বিএনপির মূল কমিটির সাথে একত্মতা প্রকাশের আশায় রয়েছেন।
এছাড়াও জানা গেছে, দীর্ঘদিন নানা হাঁকডাক দিয়ে বিদ্রোহীরা হারিয়ে গেছেন আর কয়েকদিন রাজপথে কোন রকমভাবে বিদ্রোহীদের দেখা গেলেও মহানরগ বিএনপির সম্মেলনের ডাকের সাথে সাথেই নিক্রীয় হয়ে গেছেন বিদ্রোহী গ্রুপ। এন.হুসেইন রনী /জেসি


