গিয়াসউদ্দিনকে নিয়ে আক্রমনাত্মক বক্তব্য দেয়াথেকে সরলেন শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৩, ০৮:৫২ পিএম
# চার কারণে বিরত থাকতে পারেন এমপি
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান কি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে আক্রমন করা থেকে সরে এসেছেন? সম্প্রতি তিনি আর গিয়াস উদ্দিনকে আক্রমন করে কোনো বক্তব্য দিচ্ছেন না। এখন আর তার মাঝে গিয়াস বিরোধী তেমন কোনো তৎপরতাও নেই। অথচ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক হওয়ার পর শামীম ওসমান তাকে আক্রমন করে একের পর এক বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের উপর হামলা করার জন্য গিয়াস উদ্দিনকে দায়ী করে বক্তব্য রেখেছেন। আরো নানা রকম অভিযোগে অভিযুক্ত করে গিয়াস উদ্দিনকে আক্রমন করেছেন শামীম ওসমান। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জে শামীম ওসমানের এক অনুসারী গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলা করারও চেষ্টা চালিয়েছে। তখন অভিযোগ উঠেছিলো এমপি শামীম ওসমানের ইন্দনেই এই মামলা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
যদিও শেষ পর্যন্ত পুলিশ তদন্ত করে অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি বলে জানা গেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এসে এই ধরনের তৎপরতা থেকে সরে এসেছেন শামীম ওসমান। এখন আর শামীম ওসমান গিয়াস উদ্দিনকে আক্রমন করে কোনো কথা বলছেন না। তাই কি কারণে এমপির মাঝে এমন পরিবর্তন এলো এটা নিয়ে অনেকের মাঝেই নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন গিয়াস উদ্দিনকে ঘিরে শামীম ওসমানের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছেন মূলত চারটি কারন থাকতে পারে।
১) যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি। শামীম ওসমান সরকার দলীয় একজন এমপি তাই তিনি বিরোধী দলের নেতাকে তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে কোনো রকম বাধা দিতে পারেন না। বাধা দিলে মার্কিন ভিসা নীতির আওতায় পরবেনতো বটেই তার উপর আন্তর্জাতিক ভাবেই তিনি বাঁধার সম্মূখীন হবেন। কেনো না সরকারী দলের একজন প্রভাবশালী এমপি হিসাবে শামীম ওসমান কি করেন এটা সারা গণতান্ত্রিক বিশ্বই নজরে রাখার কথা। তাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন শামীম ওসমান এবং তার পরিবার। মূলত এ কারণেই তিনি গিয়াস উদ্দিনকে অযথা আক্রমন করা থেকে দূরে সরে এসেছেন বলে অনেকে মনে করেন।
২) মিডিয়ার সমালোচনা। বিশেষ করে তিনি যখনই গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য রাখছিলেন তখনই তার এই বক্তব্য সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছিলো। লোকাল মিডিয়াগুলিও ফলাও করে এসব বক্তব্য ছাপাছিলো। সঙ্গে সঙ্গে চলছিলো সমালোচনা এবং গিয়াস উদ্দিনও পাল্টা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে গিয়াস উদ্দিনের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যাচ্ছিলো। এটা বুঝতে পেরে হয়তো তিনি আপাতত গিয়াস উদ্দিনকে আক্রমন করা থেকে বিরত রয়েছেন।
৩) শামীম ওসমান হয়তো চেয়েছিলেন গিয়াস উদ্দিন যাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি হতে না পারেন। তিনি মামুন মাহমুদকে চেয়েছিলেন সভাপতি হিসাবে। কিন্তু শামীম ওসমানের গিয়াস বিরোধী বক্তব্যের কারণে উল্টো ফল হয়েছে। বিএনপির ভেতরে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তার গ্রহনযোগ্যতা আরো বেড়েছে আর মামুন মাহমুদের গ্রহণযোগ্যতা কমেছে। কারন মামুন মাহমুদ শামীম ওসমানের লোক হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন। হয়তো দেরীতে হলেও শামীম ওসমান এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
৪) শামীম ওসমান তার ইমেজ পরিবর্তন করছেন। বিগত দিনগুলিতে তাকে বিভিন্ন টকশোতে যোগ দিতে দেখা গেছে। এতে তিনি একজন সুশীল রাজনীতিবিদের ইমেজ গড়ে তুলতে সচেষ্ঠ হচ্ছেন। তার অতীতের সেই গডফাদার ইমেজ মুছে যাচ্ছে। সর্বশেষ তিনি বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানের সঙ্গে একটি টাকশোতে যোগ দিয়েছিলেন। রুমিন বিএনপির রাজনীতিতে বেশ সন্মানের জায়াগায় রয়েছেন। তাই স্থানীয় রাজনীতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে শামীম ওসমানের নতুন করে গড়ে উঠা এই ইমেজের ক্ষতি হতে পারে। যার ফলে তিনি আক্রমনের রাজনীতি থেকে সরে আসতে পারেন।
নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল মনে করেন শামীম ওসমান যদি বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ হন তাহলে এই চারটি বিষয় মাথায় রেখেই তিনি রাজনীতি করবেন এবং করছেন। যার ফলে তিনি সংঘাতের রাজনীতি ত্যাগ করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কতোটুকু পরিবর্তন হয়েছেন সেটা বুঝা যাবে আগামী দিনগুলিতে যখন বিএনপির আন্দোলন তুঙ্গে উঠবে এবং বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে তখন। এস.এ/জেসি


