মহানগর বিএনপির সম্মেলন ১৫ জুলাই হোসেয়ারি সমিতি ভবনে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৩, ০৯:০২ পিএম
# প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
জেলা বিএনপির জাকজমকপূর্ণ সম্মেলনের পর এবার চলতি মাসের ১৫ জুলাই মহানগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আমলাপাড়া হোসেয়ারি সমিতি ভবনে দুই পর্বে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।
তিনি যুগের চিন্তাকে জানান, ‘সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজলকে নিযুক্ত করা হয়েছে। ১৫ জুলাই দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দুই ধাপে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।’
মহানগর বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মহানগর বিএনপির সম্মেলনে ৩৪৪ জন কাউন্সিলর ভোট দিয়ে মহানগর বিএনপির আগামীর নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন। সম্মেলনে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মহানগর বিএনপির ৪১ জন, সদর থানা বিএনপির ১০১ জন, বন্দর থানা বিএনপির ১০১ জন ও বন্দর উপজেলা বিএনপির ১০১ জন সদস্য এতে ভোট দেবেন।
এতে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ডেলিগেট হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ইতিমধ্যে সম্মেলনকে সফল করতে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে মহানগরের নেতাকর্মীরা।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের পর কমিটি থেকে ১৫ জন নেতা পদত্যাগ করলেও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি তার অধীন সকল ওয়ার্ড, দুটি থানা এবং ইউনিয়নগুলোতে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করতে সক্ষম হয়েছে।
এছাড়া মহানগর বিএনপির এই আহ্বায়ক কমিটি দেয়ার পর থেকে লাগাতার ভাবে সকল কর্মসূচি সফলভাবে পালন করতে পেরেছে। এছাড়া তৃণমূল বিএনপিতে নবউদ্দিপনা তৈরি হয়। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবেই সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করতে চায় তৃণমূল কর্মীরা।
স্বচ্ছ রাজনীতিক এবং লাগাতার সকল কর্মসূচিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তার উপরই ভর করে আন্দোলনে যেতে চাচ্ছেনা কর্মীরা। তাই সম্মেলনে তার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে আহবায়ক কমিটিতে সদস্য সচিব পদে থাকা আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উতরে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আহবায়ক কমিটি দেয়ার পর থেকে কর্মীদের সাথে উদ্ধত ব্যবহার, মারামারি আর খারাপ আচরণসহ বেশ কিছু অভিযোগ উঠে।
এসব উতরে গেলেও সম্প্রতি বিএনএফ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি হঠাৎ টালমাটাল অবস্থায় পতিত হয়। বিশেষ করে জেলা বিএনপির সম্মেলনের আগে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে গোলাম ফারুক খোকনের সাথে আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মাসুকল ইসলাম রাজিবের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হলে রাজীবের বিএনএফ’র সদস্য সচিব হিসেবে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। তৃণমূলকর্মীদের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে কেন্দ্রও কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হন রাজীব।
রাজীবের বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ ছিল সেই বিএনএফ এর নারায়ণগঞ্জের আহবায়ক ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। যদিও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির বিদ্রোহীরা সাধারণ সম্পাদক পদে টিপুর বিকল্প প্রার্থী দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা করছেন তবে এখন এই বিষয়ে কেন্দ্র কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটি দেখার অপেক্ষায় তৃণমূল কর্মীরা।
পূর্বের ভুল পদক্ষেপের কারণে বর্তমানের রাজনৈতিক সাফল্য যাতে না হয় টিপুর ক্ষেত্রে তৃণমূলের একাংশের এই জোর দাবি। তবে আপাতত মহানগর বিএনপির সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া ভোটাভোটির সম্ভাবনাই ক্ষীণ বলছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।
১৯৯২ সালে শহরের চাষাঢ়া জিয়া হলে সর্বশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে শহর বা পৌর বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছিল। সে সময় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম সভাপতি ও নাজির প্রধান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর মহানগর বিএনপির কমিটিগুলো কেন্দ্র থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়।
২০০৯ সালে শহর বিএনপির জেলা বিএনপির অধীনে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এর আগে ২০০৩ সালে আবুল কালামকে আহ্বায়ক ও রফিক কমিশনারকে সদস্য সচিব করে ও ২০১৭ সালে আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। এস.এ/জেসি


