নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে পরিস্থিতি ভিন্নখাতে নিতে চাইছেন গিয়াস উদ্দিন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৩, ০৯:৪৩ পিএম
# সময় মতো সমস্যার সমাধান করলে আজ তাকে পানিতে নামতে হতো না
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান আবারও চরম হুমকি দিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন সহ বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিনকে তার নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন তারা অনেক ধৈর্য্য ধরেছেন। ধৈর্য্যের বাধ ভেঙ্গে গেলে বিএনপি আর ‘মা বলে গো বলতে পারবে না’। বিএনপি আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এছাড়া তিনি আরো নানা রকম হুমকি দিয়ে বক্তব্য রাখেন।
তাই শামীম ওসমানের এই বক্তব্য সম্পর্কে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তার বক্তব্য প্রদান করেন। এ বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমরা বরাবরই দেখে আসছি উনি যখন স্কুল কলেজর বাচ্চাদের সামনে গিয়েও বক্তব্য রাখেন অথবা মৃত ব্যক্তির কুলখানিতে গিয়ে বক্তব্য রাখেন তখনও তিনি হুমকি দিয়ে কথা বলেন, অশ্লীল বাক্য ব্যবহার করেন। অথচ তিনি একজন সংসদ সদস্য। তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার কাছ থেকে কি শিখবে?
আমাদের পরিস্কার বক্তব্য হলো রাজনীতিতে রাজনীতির কথা হবেই। জনগনের সামনে আমরা আমাদের কথা বলবো, তারা তাদের কথা বলবেন। জনগনই বিচার করবেন তারা কাদের কথা গ্রহন করবেন। তিনি এতো বছর এমপি থেকেও এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থ হয়েছেন। নিজের ব্যর্থতার কথা স্বীকার না করে তিনি হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। এতোদিনে যদি তিনি সমস্যার সমাধান করতেন তাহলে আজ তাকে পানিতে নামতে হতো না। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো পানিতে নামলেই কি মানুষ সব কিছু ভুলে যাবে?
তিনি যদি এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেন এবং জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তাহলে তো আমাদেরকে হুমকি দেয়ার প্রয়োজন পরে না। মানুষ সন্তুষ্ট হলে মানুষতো এমনিই তাকে ভোট দেবে। এলাকার সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ লাগবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলেই আজ তিনি পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য হুমকি ধমকির পথ বেঁছে নিয়েছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আরো বলেন তিনি যখন আমাদের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দেন তখন শক্তিধর কারো উপর ভর করার চেষ্টা করেন।
এর আগেও তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষেপানোর চেষ্টা করেছে। এবার তিনি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে ক্ষেপানোর চেষ্টা করছেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনী কাজ করছে, আমরা নাকি সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলছি। আসলে তিনি এবার সেনাবাহিনীর উপর ভর করতে চাইছেন। আমাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে ক্ষেপাতে চাইছেন। এতেই বুঝা যায় নিজের কোনো শক্তি না থাকায় তিনি অন্য শক্তিমানদের উপর ভর করে এসব হুমকি দিচ্ছেন।
কিন্তু আমি দ্ব্যার্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের সেনাবাহিনী গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে এসেছে। ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনী কাজ করছে। কিন্তু আমরা জানি তাদেরকে ঠিক মতো টাকাপয়সা দেয়া হচ্ছে না। টাকাপয়সা দিলে তারা সবার চেয়ে দক্ষতার সহিত আরো আগেই এই সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারতো।
এছাড়া ফতুল্লার যে এলাকায় গিয়ে তিনি পানিতে নামলেন সেই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্বতো সেনাবাহিনীর নয়। এই দায়িত্ব এমপি নিজের হাতে রেখেছেন বলেই আমরা জানি। তাই এখানে সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ তিনি আনলেন কেনো? নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে তিনিই দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর কথা বলছেন বলে আমরা মনে করি। শামীম ওসমানের বক্তব্য প্রসঙ্গে গিয়াস উদ্দিন আরো বলেন, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মধ্যবর্তী অঞ্চল হলো ফতুল্লা অঞ্চল।
আরো অনেক আগেই এই অঞ্চলকে সিটি করপোরেশনের আওতায় নেয়া উচিৎ ছিলো। কারণ ইউনিয়ন পরিষদ হলো গ্রামের মর্যাদা সম্পন্ন। সরকার ইউনিয়ন পরিষদকে যে ক্ষুদ্র বাজেট দেয় এই বাজেট দিয়ে ফতুল্লার মতো শহরাঞ্চলের সমস্যা সমাধান করা মোটেও সম্ভব নয়। তাই আমরা ফতুল্লাকে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু এমপি তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করার জন্য ফতুল্লার ইউনিয়নগুলিকে সিটি করপোরেশনে যেতে দিচ্ছেন না।
এতে উন্নয়নের দিক থেকে একেবারেই পিছিয়ে পরছে ফতুল্লা। তাই তিনি আমাদেরকে হুমকি দিয়ে তিনি আমাদের কথা বলা বন্ধ করতে চাইছেন। কিন্তু তার প্রতি আহবান রইলো অশ্লীল বাক্য ব্যবহার করে হুমকি দেয়া বন্ধ করুন। জনগনের স্বার্থে সুস্থ্য ধারার রাজনীতি করুন। এসব করে আর বেশিদিন জনগনের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে পারবেন না ইনশাআল্লাহ। এস.এ/জেসি


