# মহানগর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করা সহজ হবে না বলেই মনে করেন অনেকে
সাবেক এমপি এডভোকেট আবুল কালাম এবং মহানগর বিএনপির বর্তমান আহবায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের মাঝে যে বিরোধ চলছে তা মিটানো কি সম্ভভ হবে? বিএনপির কেন্দ্র কি পারবে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে দলকে সংগঠিত করতে?
তার সোজা উত্তর হলো এটা মোটেও সহজ হবে না। কারন আগামী দিনে দেশে যদি কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে এড. সাখাওয়াত হোসেন মনোনয়ন চাইবেন, তার সঙ্গে এড. আবুল কালামের পরিবার থেকেও মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়ন চাইতে পারে তার ছেলে আবুল কাউসার আশা।
আবার এড. আবুল কালাম নিজেও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে তার অনুসারীদের অনেকে মনে করেন। কারন তিনি এখন আগের চেয়ে সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তাহলে মনোনয়নকে টার্গেট করে এই বিরোধ থেকেই যাবে বলে দলের অনেকের ধারনা। তাই বিএনপির কেন্দ্র কিভাবে এই সমস্যার সমাধান করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
কারণ মনোনয়নের প্রশ্ন আসলে পরিস্কারভাবে যে কথাটি বলা যায় বিগত পনেরো বছর এডভোকেট সাখাওয়াত দলের জন্য যে ভূমিকা পালন করেছেন তার একটা মূল্যায়ন হওয়া উচিৎ। ভবিষ্যতে কখনো মনোনয়ন চাইতে পারেন আশা। তবে তার জন্য তাকে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।
এদিকে এবার বেশ জটিল সংকটের মুখে পতিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। এড. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষনার পর এড. কালামপন্থীদের একাংশ বিদ্রোহ করলেও পরবর্তীতে মোটামোটি শান্তিপূর্ণ ভাবেই চলছিলো এই কমিটির কার্যক্রম।
যদিও কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সাবেক এমপি এডভোকেট আবুল কালামের অনুসারীরা বিদ্রোহ করেন এবং এই কমিটি না মেনে তারা পৃথক ভাবে কর্মসূচি পালন করা শুরু করেন। কিন্তু তারপরেও সাখাওয়াত এবং টিপু গোটা মহানগর জুড়ে একমাত্র মহানগর কমিটির ছাড়া বাকী সব কয়টি ইউনিট কমিটি গঠন করে ফেলেন।
তবে কালাম অনুসারীদের মধ্যে সাবেক বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, সিটি কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবদুস সবুর সেন্টু সহ আরো অনেকে অভিযোগ করেন যে তৃণমূল পর্যায়েও তাদের লোকদের বাদ দিয়ে বা অনেক ক্ষেত্রে কম গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়ে করা হয়েছে সকল কমিটি।
তবে সাখাওয়াত হোসেন খানের দাবি তিনি বার বার চেষ্ঠা করেছেন সবাইকে নিয়ে কমিটি করার জন্য। কিন্তু কেউ কেউ তার ডাকে সারা দেননি। তারপরেও তিনি দলকে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির উপর দাড় করাতে সক্ষম হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু তারপরেও সকল ইউনিট কমিটি সম্পন্ন করার পর এখন কেবল মাত্র মহানগর কমিটি বাদ রয়েছে।
সর্বশেষ আগামী ১৫ জুলাই মহানগর বিএনপির সম্মেলন আহবান করা হয়েছিলো। প্রধান অতিথি হয়ে আসার কথা ছিলো বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৫ জূলাইয়ের সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে। জানা গেছে কালাম গ্রæপের কারণেই বাতিল করা হয়েছে এবারের এই সম্মেলন।
তবে এই সময়ে এসে কালাম গ্রুপ কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও সমঝোতা চাইছে বলে জানিয়েছেন এইগ্রæপের নেতারা। তারা এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে সভাপতি হিসাবে মেনে নিতে রাজী। টিপুর আগে বিএনএফ সংশ্লিষ্টতা থাকায় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে তারা আবুল কাউসার আশাকে চান।
তারা বিএনপির কেন্দ্রকে বুঝিয়েছেন যে দলের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ বাদ পরে যাচ্ছেন। তারা দাবি জানিয়েছেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে আবুল কাউসার আশাকে সাধারন সম্পাদক করার জন্য। তারা কেন্দ্রে জানিয়েছেন, আবু আল ইউসুফ খান টিপুর জেলা বিএনএফ এর আহবায়ক থাকার বিষয়টি।
এনিয়ে বিএনএফ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণাদিও উপস্থাপন করেন। একই অভিযোগে কেন্দ্র থেকে জেলা বিএনপির সম্মেলনের আগে সাবেক ছাত্রদল নেতা মাশুকুল ইসলাম রাজীবকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। কালামপন্থীরা মহানগরের সভাপতি হিসাবে এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে মেনে নিলেও টিপুকে মানতে নারাজ।
আবার অন্যদিকে আরেকপি আশঙ্কা করছে বিএনপি কর্মীরা। তারা বলছেন, সাখাওয়াতকে সভাপতি আর আশাকে সাধারন সম্পাদক করা হলে আবারও দলে বিভক্তির সৃষ্টি হবে বলে বিএনপির অনেকে মনে করে। কারন এরই মাঝে গত কয়েক বছরে কালামপন্থীদের সাথে সাখাওয়াতপন্থীদের বেশ দুরুত্ব সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও এই দূরত্বের জন্য কালামপন্থীরা টিপুকেই দায়ী করেন। এই মুহুর্তে এসে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি নিয়ে শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থায় পতিত হয়েছে বিএনপির কেন্দ্র। এন. হুসেইন রনী /জেসি


