# সবাই উজ্জীবিতভাবে অংশগ্রহণ করবে
# সবাই সক্রিয় ভূমিকা রাখবে : আনোয়ার
# উপজেলা বিএনপির রাজনীতির রূপ রেখা পরিবর্তন হয়েছে : হিরণ
# পেছনে তাকানোর সময় নেই : লিটন
# প্রচুর ব্যস্ত, চার মাস পর দিব বক্তব্য : শাহেন শাহ
# সকল ইউনিট ঐক্যবদ্ধ আছে : রানা
মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলায় সম্মেলনের পর দীর্ঘ হয়েছে নেতাকর্মীর তালিকা। এবার তাদের নিজেদের প্রমাণ করার পালা। সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে বর্তমানে অনেকটাই উত্তপ্ত অবস্থায় বিরাজমান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সংগঠন গোছাতে ও ব্যাপক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের।
সেই সাথে বর্তমানে সম্মেলনের মাধ্যমে দফায় দফায় জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের দেখা গেছে সকল ইউনিটে যোগ্যতা যাচাই বাছাই করে কমিটি গঠন করতে। তারা পাশাপাশি নিজের সাংগঠনটিক শক্তি বাড়াতে ও নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা মিলছে একটি উজ্জ্বীবিতভাবের। ইতিমধ্যে দীর্ঘ বছর পর জাঁকজমকপূর্নভাবে জেলা বিএনপির আওতাধীন সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদের সাথে সম্বয়ন করে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেই সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিন সভাপতি নির্বাচিত হয় ও সেই কমিটি সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এবার পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের মাধ্যমে তাদের সংগঠনের তৎপরতা আরো গতিশীল হয়ে উঠবে। তাদের সাথেই তাল মিলিয়ে মহানগর বিএনপির সকল ইউনিট কমিটি গঠন করে। সম্মেলনের ডাক দিয়েছিলেন তারা।
জানা গেছে, চলতি মাসের ১৫ জুলাই এই সম্মেলনের ডেট ফিক্সড করা হয়েছিল। এছাড়াও সম্মেলনকে ঘিরে মহানগরীর আওতাধীন সদর থানা, বন্দর উপজেলা, বন্দর থানারসহ সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় দিক নির্দেশনা অনুযায়ী মহানগর বিএনপির সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তা নিয়ে মহানগরের আওতাধীন সকল নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি বৃথা গেছে বললেই চলে।
কারণ তাদের ধারণা ছিল এই সম্মেলনের মাধ্যমে মহানগর বিএনপির সংগঠনিক শক্তি আরো বৃদ্ধিপাবে কিন্তু কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকেই আপন করে নিশ্চুপ হয়ে পরেছেন সকল ইউনিটের নেতৃবৃন্দ। জানা গেছে, আসছে বিএনপির ১ দফা আন্দোলনসহ আরো ব্যাপক আন্দোলণ সংগ্রাম যেদিকে লক্ষ্যে করে যদি সম্মেলন হয়ে যেতো তাহলে সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে যেতো মহানগর বিএনপির রাজনীতি এমনটাই দাবি, নেতাকর্মীদের।
এছাড়া তারা আরো দাবি করছে, বর্তমানে মহানগরীর যতগুলো ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা কমিটিগুলো দীর্ঘদিন পর গঠন হয়েছে। যার কারণে নেতাকর্মীদের মাঝে একটি উৎফুল্লভাব বিরাজমান রয়েছে। আর যেদিন কেন্দ্র সম্মেলনের ডেট দিবে আবার তখনই আবার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাঝের সকল দিনগুলোতে মহানগর বিএনপির সাথে তাদের সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার দাবি জনিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে নগর বিএনপি থাকাকালীন জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতি ও এটিএম কালামকে সাধারণ সম্পাদক করে নগর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর নগর বিএনপিকে মহানগর বিএনপির নামে করা হয়। কিন্তু মহানগর বিএনপি কারার পর এই ১৪ বছরে আর মহানগর বিএনপির সম্মেলন হবে বা হচ্ছে তা শোনা যায়নি। কিন্তু ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় কমিটি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটিতে যারা আছেন আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপু। আর কমিটি গঠনের পর নানা মনমালিন্যের কারণে সংগঠনিটিকে নিয়ে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা গেলে ও মহানগর বিএনপির মূল দ্বারার নেতাকর্মীরা দফায় দফায় মহানগর বিএনপির আওতাধীন ১৭টি ওয়ার্ড, ৭টি ইউনিয়ন, ৩টি থানা কমিটি গঠন সম্পূর্ন করেন। যার মাধ্যমেই তারা সম্মেলন নিয়ে গর্জে উঠে ছিলেন।
চলতি মাসের ১৫ জুলাই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলে ও ইউরোপিয়া একটি প্রোগ্রামের কারণে এটি স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতাকর্মীরা নানা প্রস্তুতিগ্রহণ করে রেখেছিলেন কিন্তু সেটা আর বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু নেতাকর্মীরা দাবি, করছে বর্তমানে মহানগর বিএনপির আওতাধীন সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা অনেকটাই উজ্জ্বীবিত যার মাধ্যমে আন্দোলণ সংগ্রামে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি আর ইউনিট ঐক্যবদ্ধ হয়ে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারবো।
এ বিষয়ে সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা যুগের চিন্তাকে বলেন, মহানগর বিএনপির সম্মেলন স্থগিত করার মূল কারণ হলো ইউরোপি ইউনিয়ন এছাড়া ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ যারা আসছে বাংলাদেশে। আর বিএনপির যে গ্রুপটা রয়েছে বাংলাদেশে সেই গ্রুপের লিডার হলো মহানগর বিএনপির সম্মেলনে যাকে প্রধান অতিথি কর হয়েছিল আমির খসরু। সেদিন তার একটু ব্যস্ততার কারণে মহানগর বিএনপির সম্মেলন সাময়িক স্থগিত করেছে। কিন্তু আমরা সদর থানা বিএনপি বর্তমানে রাজনীতিতে অনেকটাই উজ্জ্বীবিত আছি। আর সকল আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবো।
সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধান যুগের চিন্তাকে বলেন, সদর থানা হিসেবে মহানগর বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে ভেন্যু থেকে শুরু করে প্লেকার্ড পর্যন্ত সকল দায়িত্ব আমাদের হাতেই ছিল। আমরা নানা প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে ছিলাম। এমনই অবস্থায় দলীয় একটি ইউরোপিয় প্রোগ্রামের কারণে মহানগর বিএনপির আওতাধীন সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এটা আবার শীঘ্রই একটি ডেটের মাধ্যমে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। যার কারণ বর্তমানে আমরা অনেকটাই উজ্জ্বীবিত ও উৎফুল্ল। আর সদর থানা বিএনপির সকল সময় মহানগর বিএনপির সাথেই ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাবে।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণ যুগের চিন্তাকে বলেন, মহানগর বিএনপির সম্মেলনে যাকে প্রধান অতিথি কর হয়েছিল আমির খরসু তিনি একটি জরুরী মিটিংয়ে এটেন্ড করতে হবে ১৫ জুলাই যে কারণে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে বন্দর উপজেলা বিএনপির রাজনীতির রূপ রেখা পরিবর্তন হয়েছে। আর এখানের নেতাকর্মীরা বর্তমানে অনেকটাই উৎফুল্ল যার কারণে আগামী আন্দোলন সংগ্রামে মহানগর বিএনপির সম্মেলন না হওয়ায় আন্দোলণ সংগ্রামে কোন ব্যাঘাত ঘটবে না বলে আমরা আশাবাদী।
বন্দর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ লিটন যুগের চিন্তাকে বলেন, মহানগর বিএনপির সম্মেলনকে লক্ষ্য করে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করে রেখেছিলাম। আর আমাদের কমিটি গঠনের পর থেকেই আমাদের বন্দর উপজেলার নেতাকর্মীরা অনেকটাই উৎফুল্ল আর উজ্জ্বীবিত হয়ে রয়েছি। আর আগামী আন্দোলন সংগ্রামে মহানগর বিএনপির সম্মেলন হয়নি এটা নিয়ে ভাবার কোন সময় নেই আমরা সকলেই বর্তমানে রাজপথে আন্দোলনমুখী রাজনীতিতে রয়েছি। যার কারণে এখন পিছনে কি হলো সেটা নিয়ে ভাবার সময় আমাদের নেই আমাদের শুধু দফায় দাফায় আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি শাহেন শাহ যুগের চিন্তাকে বলেন, মহানগর বিএনপির সম্মেলন নিয়ে এখন কিছু বলতে চাচ্ছি না এখন আমি একটু ব্যস্ত আছি। চার মাস পরে বক্তব্য দিব।
বন্দর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক রানা যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমানে বিএনপির রাজনীতি অনেকটাই উৎফুল্ল যার কারণে দফায় দফায় আন্দোলনসহ কমিটি ঘোষণা হতে দেখা যাচ্ছে সেই ধারাবাহিকতায় ১৫ জুলাই মহানগর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দলীয় একটি প্রোগ্রামের কারণে এটি স্থগিত করা হয়েছে।
কিন্তু বর্তমানে বন্দর থানা বিএনপি অনেকটাই উজ্জ্বীবিত আর সকল বিষয়ে ও আন্দোলন সংগ্রামে সদা সর্বদা প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। যার কারণে আমরা আশাবাদী সম্মেলনকে নিয়ে মহানগর বিএনপির কোন মাথা ব্যাথা নেই কারণ সকল ইউনিটের নেতাকর্মী এখন ঐক্যবদ্ধ। এস.এ/জেসি


