দীপ-কালামকে ল্যাং মারতে গিয়ে বেকায়দায় কায়সার-বিরু
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৩, ০৮:৫৭ পিএম
# কমিটি নিয়ে আপত্তি তুললেও তা ধোপে টিকছেনা
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার অন্ত নেই। চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের পরও বিতর্কের সমাপ্তি ঘটেনি। তবে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের হর্তাকর্তা দাবি করা বেশকয়েকজন নেতা কমিটি গঠনে স্বেচ্ছাচারিতা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজস্ব বলয়কে শক্তিশালী এবং বেশকয়েকজন নেতার বলয়কে কোণঠাসা করার পায়তারা করে প্রস্তাবিত কমিটির শীর্ষ পদগুলো দখলের নীলনকশা করেন।
জেলা আওয়ামীলীগ থেকে যোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটির চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেয়া হলে উপজেলা আওয়ামীলীগের হর্তাকর্তা দাবি করা নেতাদের নীলনকশা নৎসাত হয়ে যায়। চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের পর উপজেলা আওয়ামীলীগের হর্তাকর্তা দাবি করা নেতারা হোচট খেয়ে কমিটি প্রত্যাখান করার মিশনে নামেন। তবে উপজেলা আওয়ামীলীগের হর্তাকর্তা দাবি করা নেতারা কোণঠাসা করতে চাওয়া নেতাদের ভারে ন্যুজ হয়ে অনুমোদিত কমিটি প্রত্যাখানের সিদ্ধান্ত থেকে ধীরে ধীরে লেজ গুটিয়ে নিচ্ছেন।
সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সার হাসনাত এবং অনুমোদিত কমিটির ২নং সদস্য পদে থাকা ড. আবু জাফর চৌধুরী বিরু সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের হর্তাকর্তা হিসেবে জাহির করছিলেন। তবে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটিকে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ থেকে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেয়া হলে হোচট খান সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের হর্তাকর্তা দাবি করা এই নেতারা।
কারণ সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি সমন্বিত রাখতে গিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে নিজস্ব বলয়ের নেতাদের শীর্ষ পদে প্রধান্য দিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক কমিটির শীর্ষ পদে থাকা এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের জন্মলগ্ন থেকে পারিবারিকভাবে নেতৃত্বে থাকা নেতাদের মাইনাস করে স্বেচ্ছাচারিতা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটি গঠন করে আজব পরিচিতি সভা করেন।
যার কারণে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের বিতর্কিত প্রস্তাবিত কমিটির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেন সোনারগাঁ তৃণমূলের নেতারা। যার পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে যোজন বিয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূলের প্রত্যাশাকে প্রধান্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ থেকে চূড়ান্তভাবে কমিটি অনুমোদন দেয়া হলে বেকায়দায় পড়েন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সার হাসনাত এবং সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির ২নং সদস্য ড. আবু জাফর চৌধুরী বিরু।
মূলত আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের বলয়কে ভারী করতে প্রস্তাবিত কমিটিতে ডজন খানেক নেতাদের পদায়নের মাধ্যমে জেলা আওয়ামীলীগের নিকট প্রস্তাব করেন। তাদের সে প্রস্তাব জেলা নেতারা গৃহীত না করে কমিটির অনুমোদন দেয়ায় কমিটির প্রত্যাখান করারও প্রচেষ্টা করেছেন। তবে তারা সে সকল নেতাদের কোণঠাসা করার প্রচেষ্টা করছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের বিচক্ষণতায় আবারও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের চূড়ান্ত অনুমোদিত কমিটিতে লাইম লাইটে চলে আসেন।
এরমধ্যে অন্যতম হল নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেনের পুত্র এরফান হোসেন দীপ। জেলার প্রস্তাবিত কমিটিতে যুব ক্রীড়া সম্পাদক পদে থাকার অযুহাতে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটি থেকে এরফান হোসেন দীপকে মাইনাস করে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি প্রস্তাব করেন।
মূলত, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম একজন সক্রিয় নেতা দীপকে রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করতেই উপজেলা আওয়ামীলীগের গুটি কয়েক নেতা উপজেলা আওয়ামীলীগ থেকে মাইনাস করার পায়তারা করেন। তবে গত ৮জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে এরফান হোসেন দীপের সাক্ষাৎ হওয়ার পর থেকেই সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের গুটি কয়েক নেতা নড়েচড়ে বসে। পরবর্তীতে দীপকে ঠেকাতে আরো উদগ্রীব হয়ে পড়েন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের গুটি কয়েক নেতা।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের নেতারা এরফান হোসেন দীপকে মূল্যায়ন করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য রেখে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের চূড়ান্তভাবে কমিটি অনুমোদন দেন। কারণ দীপ দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও মোবারক হোসেন স্মৃতি সংসদের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছিলেন আওয়ামীলীগের পদ পদবী গ্রহণে উদগ্রীব ছিলেন না। যার ফলশ্রুতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের নেতারা জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে যুব ক্রীড়া সম্পাদক পদে মূল্যায়ন করেছে এবং সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের নবগঠিত কমিটিতে সদস্য পদে মূল্যায়ন করেছে।
অপরদিকে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামকে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে কোণঠাসা করে রাখার পায়তারা করে থানা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও প্রস্তাবিত কমিটিতে ডিমোশন দিয়ে ৩নং সদস্য করেন এবং সোনারগাঁয়ের বিতর্কিত আওয়ামীলীগ নেতা ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরুকে ১নং সদস্য করেন।
তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ নেতারা এই বিতর্কিত নেতাকে ডিমোশন দিয়ে ২নং সদস্য পদে পদায়ন করে এবং ১নং সদস্য পদে সম্মানস্বরূপ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদককে মূল্যায়ন করেন। তবে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান নেতৃত্বে থাকা নেতারা নড়েচড়ে বসেন কালামের নবউত্থানে।
কারণ বেশকয়েকদিন আগেই মাহফুজুর রহমান কালাম সংবাদ সম্মেলন করে সোনারগাঁ উপজেলার প্রস্তাবিত বিতর্কিত কমিটি নিয়ে সমালোচনা করেন এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ঘোষণা দেন। যার কারণে কালামের নবউত্থানে বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান নেতৃত্বে থাকা নেতাদের দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এস.এ/জেসি


