এক দফা আন্দোলন নিয়ে ঢাকার রাজপথ কাঁপাতে প্রস্তুত ফতুল্লা বিএনপি
মো. আরিফ হোসেন
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৩, ০৯:১৩ পিএম
# তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এইটাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য : টিটু
# ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা এই মহাসমাবেশকে সফল করবো : বারী ভূঁইয়া
# তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন : হাজী শহীদুল্লাহ
সরকার পতন ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আগামী ১২ ই জুলাই এক দফা ও কর্মসূচি ঘোষনা করেছে বিএনপি। যতটুকু জানা গেছে ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হবে। রবিবার ৯ ই জুলাই রাজধানীর নয়া পল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।আর এই ঘোষনার পর থেকেই বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দরা এই ঐতিহাসিক সমাবেশকে সফল করতে নেতৃবৃন্দদের নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকার যে কোন বড় বড় আন্দোলন সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা নিয়ে রাজপথে কাপিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জের মিছিল গুলোই ঢাকার রাজপথ গরম করেছে। তাই এবারো নারায়ণগঞ্জের নেতৃবৃন্দেরা কতটা দায়িত্ব নিয়ে এই সমাবেশকে সফল করতে ভূমিকা পালন করতে পারবে এইটাও দেখার অপেক্ষায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
দীর্ঘ ১৪ বছরেরও বেশি সময় যাবৎ ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বিএনপি। আর এই সময়ের মধ্যেও অনেক অত্যাচার জুলুম, হামলা, মামলার শিকার হলেও নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকেই আন্দোলন সংগ্রাম করে গেছে। বিশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে ফতুল্লা থানা অনেক গুরুত্বপূর্ন।এই ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক ভাবে ব্যাপকভাবে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে সর্বক্ষেত্রে।
অনেকের মতেই ফতুল্লা থানা বিএনপিকে একটি শক্তিশালী কমিটি করার একমাত্র ভূমিকা যার ছিলো তিনি হলেন জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন। তার হাত ধরেই ফতুল্লা থানা বিএনপি একটি যোগ্য নেতৃত্বে আসতে পেড়েছে। শুধু তাই নয় যেমন গুরু তেমন শিষ্য ফতুল্লা থানা বিএনিপর সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট বারী ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ফতুল্লা পাঁচটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরাও ব্যাপক ভাবে উজ্জীবিত।
আগামী ১২ তারিখ কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ঐতিহাসিক এই মহাসমাবেশকে সফল করতে ফতুল্লা থানার নেতৃবৃন্দ ও তার আওয়াতাধীন ৫ টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নিয়ে অনেকটাই প্রস্তুত রয়েছেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, আমাদের তো এ আন্দালন চলমান। আমাদের আন্দোলন হলো তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচনের দাবিতে এবং আগামী ১২ তারিখ যে সমাবেশ হতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ইতিমধ্যে আমরা নিয়ে নিয়েছি ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর রহমতে আমরা সকাল ১২ টার দিকেই চেষ্টা করবো সমাবেশ স্থলে ঢুকার জন্য। প্রতিটা ইউনিয়ন ওয়ার্ডে সব জায়গাতে নেতাকর্মীদের নক করা হয়েছে। আমি এবং আমার সেক্রেটারি অল্প কিছু লোক নিয়ে বসেছিলাম সেই ভাবে বড় করে প্রস্তুতি সভা করতে পারিনি।
আমাদের প্রস্তুতি অনেকটাই সম্পন্ন আশা করছি এই সমাবেশ সফল হবে। আগামীতে আমাদের আরো কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলন হবে এবং আমাদের প্রধান উদ্যেশ্য গণতন্ত্র প্রতিষ্টা করা কারণ বর্তমানে এই দেশে গণতন্ত্র বলতে কিছুই নেই। এই দেশে শুধু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াই দেশে গণতন্ত্র এনে দিয়েছিলেন যা এখন আর নেই। আমাদের প্রথমত দাবি গণতন্ত্র যখন প্রতিষ্ঠিত হবে প্রতিটা ক্ষেত্রেই আপনার জবাবদিহিতা থাকবে। তবে আপনারা জানেন আগামীতে একটা নির্বাচন ডিসেম্বরে আমরা চাই সেই নির্বাচনটা হোক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এটাই আমাদের মূল আন্দোলন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রাবী ভূঁইয়া বলেন, সবার সাথে আমারা আলাপ আলোচনা করছি। কারো সাথে আমাদের ভার্চূয়াল আলোচনা হয়েছে কারো সাথে ব্যক্তিগত আলোচনা হয়েছে। আমারা ১২ তারিখ সমাবেশ সর্ব শক্তি নিয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির যে ৫ টি ইউনিয়ন সকলে সম্মিলিত ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা এই মহাসমাবেশকে সফল করবো ইনশাআল্লাহ। আর এই সমাদেশের মাধ্যমেই দেশের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। আর এই মহা সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা যে সকল নির্দেশনা দিবে আমরা সেই সকল নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রাম করে যাবো।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ সভাপতি হাজী শহীদুল্লাহ জানান, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি আছে ইনশাআল্লাহ ফতুল্লা থানা থেকে বিএনপির যতো নেতাকর্মী আছে, কর্মী সমর্থন যারা আছে এবং আমজনতা যারা আছে আমরা সবাই সেই সমাবেশে যুক্ত হবো। শুধু তাই নয় এই সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ এবং বিশেষ করে ফতুল্লা থানা বিএনপি ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে। বিগত দিনে হয়তো অনেক আন্দোলন হয়েছে কিন্ত এখন আমাদের এক দফা এক দাবি শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রতিষ্ঠা করা। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে এই দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে। এস.এ/জেসি


