Logo
Logo
×

রাজনীতি

এক দফার ‘চ্যালেঞ্জিং লড়াইয়ে’ সতর্ক বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৩, ০৫:২২ পিএম

এক দফার ‘চ্যালেঞ্জিং লড়াইয়ে’ সতর্ক বিএনপি
Swapno


# সব জেলার চেয়ে সর্বোচ্চ নেতাকর্মী নিয়ে সমাবেশে যোগ দেবো : মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন

# মহানগর বিএনপি থেকে ১০ হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করবে : সাখাওয়াত হোসেন

 

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র ছয় মাস বাকি। তত্ত্বাবধায়ক কিংবা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন না করলে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে শুধু সরকার পতন নয়, এক দফার আন্দোলন বিএনপির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

 

এদিকে বিএনপির নেতৃবৃন্দ যে কোন মূল্যে আজ থেকে (১২ জুলাই) থেকে শুরু করা আন্দোলন সফল করতে চায়। আর কারণে জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতাদের হাজারো নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকার সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্র। এবারে আন্দোলনের সুচিন্তিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দফায় দফায় মিটিং করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করছেন জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপির ইউনিটগুলো। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এখন কোন ধরণের মতানৈক্যকে আমলে না নিয়ে এবার আন্দোলনকেই সফল করতে মরিয়া বলে জানিয়েছে নেতৃবৃন্দ। 

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘ঢাকার মহাসমাবেশে লোকসমুদ্রে পরিণত হবে। আমরা জেলার সবগুলো ইউনিটকে সুশৃঙ্খলভাবে ঢাকার সমাবেশে অংশগ্রহণের রোডম্যাপ দিয়েছে। কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা না করে এই সমাবেশের সব থেকে বড় অংশগ্রহণ করবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। আমরা নেতাকর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে এবারের এই এক দফা আন্দোলনের বিষয়াদি সম্পর্কে।

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে গণমানুষের স্রোত ঢাকার সমাবেশে দেখা যাবে। কোন ধরণের হুমকি-ধমকি, বিভ্রান্তি করে নেতাকর্মীদের দমানো যাবেনা। আমরা কর্মীদের বলেছি, আমাদের লক্ষ্য পূরণে চ্যালেঞ্জ থাকবে আমরা সবাই কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। দমন-নিপীড়ন গত ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলায় নেতাকর্মীরা এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এবারের এক দফা দাবি আদায়ের মিশন এই সম্মেলন থেকে বেগবান হবে।’ 

 

 

এদিকে বিএনপির একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে,  আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবে বিএনপি। সমাবেশ করার বিষয়ে সোমবার ডিএমপি পুলিশ থেকে ২৩ শর্তে অনুমতি পাওয়া গেছে। আজকের সমাবেশ থেকে সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে এক দফা ও রাষ্ট্র সংস্কারের যৌথ রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।

 

 

এদিন নিজ নিজ জায়গা থেকে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকেরাও একই দাবি ও কর্মস‚চি ঘোষণা করবে। চ‚ড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়ে সমমনা দল ও জোটগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি।  এক দফা আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপি ও তাদের শরিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তথ্যানুসন্ধানী মিশন ঢাকায় আছে। সামনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলও আসছে।

 

 

এই সময়কেই এক দফার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার জন্য মোক্ষম সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাঁরা বলছেন, এবার আন্দোলন সফল করতে না পারলে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। দেশের গণতন্ত্র আরও হুমকির সম্মুখীন হবে। কাজেই এই আন্দোলনের সফলতার বিকল্প কিছু ভাবার অবকাশ নেই। 

 

 

সমাবেশে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘একদফা দাবি আদায়ে আমরা নেতাকর্মী, আমাদের সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা ইউনিটগুলোকে নেতাকর্মী নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দেয়ার সকল প্রস্তুতি নিয়েছি। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি থেকে ১০ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে আমরা ঢাকার সমাবেশে উপস্থিত থাকবো। কোন ধরণের বাধা বিপত্তি আমাদের এই আন্দোলন সংগ্রামে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবেনা। নেতাকর্মীরা এই আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই দাবি আদায় করবে।’ 

 

 

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে,  বিএনপির এক দফার আন্দোলনে যাওয়ার আগে ১২ জুলাইয়ের সমাবেশ সফল করতে নানা প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। ওই সমাবেশে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি জনগণের বড় ধরণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করেছে। বিশেষ করে সমাবেশকে কেন্দ্র করে মাইকিং করা হচ্ছে, যা আগে দেখা যায়নি। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক লোক জমায়েতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

 

 

তবে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, এক দফার আন্দোলনকে ঘিরে গ্রেপ্তার ও মামলা-হামলার পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও চোখ রাঙাচ্ছে বিএনপিকে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বলছেন, বিএনপির চূড়ান্ত পর্যায়ের আন্দোলনকে টার্গেট করে ক্ষমতাসীনেরা অবশ্যই মাস্টারপ্ল্যান করে রেখেছে। এক দফার আন্দোলনের কর্মস‚চি পালন শুরু হলেই তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করবে।

 

 

মামলা-হামলা ও গ্রেপ্তার বাড়িয়ে দেবে, নির্যাতন-নিপীড়নের মাত্রা বাড়াবে, কোনো সন্দেহ নেই। আবার পুরনো কায়দায় বিএনপি ও সমমনা দলগুলোকে প্রলোভনও দেখাবে। এতে করে গুরুত্বপ‚র্ণ সময়ে বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনাও ঘটতে পারে। একই সঙ্গে শান্তিপ‚র্ণ আন্দোলনকে সহিংস রূপ দিতে সরকারের তরফ থেকে আসতে পারে নানা উসকানিও। তবে এসব বিষয়ে এবার খুব সতর্ক আছে দলের হাইকমান্ড।  এন.হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন