# শেখ হাসিনা ছাড়া কোন নির্বাচন নয় : ওবায়দুল কাদের
# শেখ হাসিনা পদত্যাগ করলেই কেবল নির্বাচন হবে : ফখরুল ইসলাম
বিএনপির মহাসমাবেশ এবং আওয়ামীলীগের শান্তি সমাবেশ পৃথক দুই কর্মসূচি থেকেই এক দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। রক্ত দিয়ে হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন না হতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করলেই কেবল নির্বাচন হবে। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপি নেতারা এ কথা বলেন।
অপরদিকে গতকাল বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত আওয়ামীলীগের শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি শেখ হাসিনার কাছে পরাজিত হবে, ভেসে যাবে, এজন্য তারা শেখ হাসিনাকে চায় না। তিনি বলেন, ‘বিএনপির দফা একটি-শেখ হাসিনার পদত্যাগ। আমাদেরও দফা একটা-শেখ হাসিনা ছাড়া কোন নির্বাচন নয়। নির্বাচন শেখ হাসিনার আমলেই হবে, নেতৃত্ব দেবেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের মানুষ যাকে ভালোবাসে।’
বিএনপির সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, “এখনো সময় আছে এই ঘোষণার পরপরই পদত্যাগ করুন। অন্যথায় পালাবার পথও খুঁজে পাওয়া যাবে না।” একদফার ঘোষণায় জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও সংসদের বিলুপ্তি দাবি করা হয়। একইসঙ্গে নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও নির্বাচন কমিশন পুনঃগঠন করে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থার দাবি তোলা হয়।
এছাড়া খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি, মিথ্যা-গায়েবি মামলা প্রত্যাহার, ফরমায়েশি সাজা বাতিলের দাবি এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের কথা জানানো হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান। একদফা ঘোষণার বক্তব্যের শুরুতে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো যুগপৎভাবে অবৈধ সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে এই ঘোষণা। জাতিকে তার হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিতেই এই ঘোষণা।”
ঘোষণার আগে ফখরুল আরও বলেন, “এই সংগ্রাম অস্তিত্বের সংগ্রাম। এই সংগ্রাম ১৮ কোটি মানুষের সংগ্রাম। ভোট দিতে চাই। যাকে খুশি তাকে দেবো। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো, যারা যৌথভাবে আন্দোলন করছি। সর্বসম্মতভাবে আমরা যৌথ ঘোষণা দেবো যার যার জায়গা থেকে। প্রায় ৩৪টির মতো দল ও জোট সিদ্ধান্ত নিয়েছি সর্বসম্মতভাবে।”
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, রক্ত দিয়ে হলেও আমরা এবারের নির্বাচন প্রতিহত করব। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে চায় না। সেই কারণে আওয়ামী লীগের আজকের সমাবেশে মানুষ নেই। আবদুস সালাম বলেন, গত ১৪-১৫ বছরে শেখ হাসিনা কোনো কথা শুনেননি। তাই উনার এখন কোনো কথা বলারও দরকার নাই। সরকারের কতিপয় কর্মকর্তা এখনো আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলেন। তিনি তাদের সতর্ক করেছেন।
সরকারের অধীন কোনো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিনও। সমাবেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেই নির্বাচন হবে। প্রধানমন্ত্রী আপনাকে যেতেই হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ দাবি করেছেন, তাদের আজকের সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে- আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। বিএনপির চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন কর্মসূচি শুরুর পর থেকে ১৭ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে বরকতউল্লাহ বলেন, এজন্য আপনাদের বিচার হবে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আপনি নিজে ঠিক করবেন, নাকি আমরা ঠিক করে দেব; আপনাকে যেতেই হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে লুটপাটের রাজত্ব বানিয়েছে। এ সরকারকে আর ক্ষমতায় রাখা যায় না।
অপরদিকে আওয়ামীলীগের শান্তি সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কারও কর্মসূচিতে বাধা দেবে না। কারও কর্মসূচিতে বাধা হবো না। আমাদের অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা দিতে আসলে প্রতিহত করবো। বাংলাদেশ কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করবে না। যাদের হাতে রক্তের দাগ, তাদের সঙ্গে আপস বা সংলাপ নয়।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যেই নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সততাকে পছন্দ করে। তিনি সারারাত জেগে জেগে জনগণের কথা ভাবেন। আমরা এমন নেত্রীকে হারাতে চাই না।’ তারা (বিএনপি) শেখ হাসিনার কাছে পরাজিত হবে, ভেসে যাবে, এজন্য তারা শেখ হাসিনাকে চা না। উন্নয়ন যাদের পছন্দ নয়, তারা শেখ হাসিনাকে চায় না। তার অপরাধ তিনি উন্নয়ন করেছেন। স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি আজকেও অনেক লোক আনার চেষ্টা করেছে। স্বপ্ন দেখেছে। আগেও স্বপ্ন দেখেছিল, ওই স্বপ্ন গভীর রাতে গরুর হাটে মারা গেছে। এখনকার এক দফার স্বপ্নও নয়াপল্টনের কাঁদা-পানিতে আটকে গেছে।’ এসময় তিনি তার চিরাচরিত ঘোষণা দেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খেলা হবে, মোকাবিলা হবে। কোনো অপশক্তির কাছে আমরা আপস করবো না।’ নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, ‘মাঠে আছেন, থাকবেন। বিএনপির এক দফা। আমাদেরও এক দফা-সংবিধান সম্মত নির্বাচন।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন- দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপসহ শীর্ষ নেতারা। এস.এ/জেসি


