মহানগরের নয়া কমিটিতে আসতে বিতর্কিতদের ছড়াছড়ি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৩, ০৩:৪৫ পিএম
# এদের হাতে নতুন কমিটি গেলে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ মেরুদণ্ড হীন হয়ে পড়বে
# সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতাদের নয়া কমিটিতে দেখতে চায় তৃণমূল
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে পরিচিত আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ। বিগত দিনে সরকার বিরোধী থাকা থেকে শুরু করে বিএনপির-নৈরাজ্যে রুখতে ব্যাপক ভ‚মিকা পালন করে গেছে। এছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে ঐক্যবদ্ধ ও রাজপথে শক্তিশালী রাখতে সকল সময়েই ভ‚মিকা ছিল এই মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের।
কিন্ত ২০১৭ সালে গঠিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগে বসে ছিল হতাশার বাতাস যারা কমিটির দায়িত্বে ছিল তারা রাজপথে ভ‚মিকা না রেখে স্বেচ্ছাসেবকলীগের নাম বিক্রি করে নানা জায়গায় বিতর্ক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছে। এমনকি কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক শামীম ওসমানকে খুশি করানোর জন্যই কাজ করতেন তা ছাড়া তারা সংগঠন নিয়ে কোন চিন্তা ভাবনাই করতেন না।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল আহম্মেদের বিরুদ্ধে রয়েছে আওয়ামী লীগ করেও নৌকার সাথে কাজ না করে সিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে কাজ করা অভিযোগ যে কারণে মহানগর । আর সাধারন সম্পাদকে বলা চলে বন্দরের বিষফোঁড়া দুলাল তিনি সিএনজি থেকে শুরু করে মাদক স্পট, বাড়ি দখলসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে এমন অভিযোগ নিয়মিতই তার বিরুদ্ধে আসে বললে চলে।
যার কারণে তৃণমূলের দাবি এরা আবারো কমিটিতে স্থান পেলে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতি ধ্বংসের পথে ঝুকবে। জানা গেছে, বিলুপ্ত হওয়ার দেড় বছর পর আবারও আসছে মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে যা চলতি মাসেই সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হবে।
কিন্তু এবার ও বিতর্কিত ও কর্মীবিহীন নেতারা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্ব গ্রহন করতে উঠে পরে লেগেছে। যাদের দ্বারা এখন পর্যন্ত নগরীতে বড় কোন শোডাউনসহ বিএনপির নৈরাজ্যে-রুখতে কোন ভ‚মিকা দেখা যায়নি। অপর দিকে তারা যে যার যার বলয়ের লোকদের হয়ে কাজ করতে আবারো কমিটিতে স্থান পেয়ে ছড়ি ঘুরাতে চাচ্ছে।
ইতিমধ্যে জানা গেছে, নতুন কমিটিতে আসতে বিতর্কিত ও কর্মীবিহীন কয়েকজন নেতা আলোচনায় আসতে চাচ্ছে কিন্ত তাদের নেই কোন রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড তারা অন্যর উপরে ভর করে রাজনীতি করতে মরিহা। যেমন দেওভোগের বাসিন্দা কায়কোবাদ রুবেল তিনি বর্তমানে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে নিজেকে জাহির করে কিন্তু তিনি যে নেতার শেল্ডারের উপর ভর করে রাজনীতিতে আসতে চাচ্ছে সেটা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই না।
অপর থেকে আসতে চাচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক তাকে বলা চলে কর্মীবিহীন নেতা এছাড়া তাকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে দুই নৌকায় ভর দিয়ে চলা নেতা বলে থাকে। এই নেতা ও নাকি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হয়ে বসে আছেন।
যা দল বা সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর বললেই চলে, অপর দিকে রয়েছে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু তিনি ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল আহম্মেদের মতোই মহানগর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক থাকা কালে সিটি নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতা করায় মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এছাড়া ও ছাত্রলীগের কমিটি কালে তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ সব মিলিয়ে তাকে ও এক বিতর্কিত নেতা বললেই চলে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২০ জুলাই শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন করা হয়। তখন সভাপতি করা হয়েছিল মো. জুয়েল হোসেনকে যিনি বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আর সাধারণ সম্পাদক করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বন্দরের বিষফোঁড়া সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধানকে।
কিন্তু তারা সংগঠনের দায়িত্ব পেয়ে তারা দলের স্বার্থে কোন কাজ না করে তারা আলাদিনের চেরাগের মতো করে ব্যাবহার করেছেন। এদিকে সভাপতি সংগঠনের নাম বিক্রি করে বিভিন্ন জায়গায় বেজায়গায় বিভিন্ন অপর্কমের সাথে জাড়িয়ে পরে। কিন্তু সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কোন ভ‚মিকাই ছিলো না।
অপর দিকে সাধারন সম্পাদক ও বন্দরের মাদকদ্রব্য থেকে শুরু করে সকল অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পরে। এমনকি এই দুই নেতাই ওসমান পরিবারকে খুশি করার রাজনীতিতে ব্যস্ত সময় পার করে থাকেন। বর্তমানে আবার কয়েকজনের নাম দফায় দফায় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগে আলোচনায় আসছে যাদের দ্বারা এই সংগঠনটি বিষফোঁড়ায় পরিনত হবে।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে বার বার নিজেরে নাম আলোচনায় রাখতে চাচ্ছেন। শফিকুল ইসলাম শফিক যিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে মহানগর স্বেছাসেবক লীগের হয়ে কাজ করতে চাচ্ছে। কিন্তু ইতিমধ্যে কয়েকদিনে ও সংগঠনের জন্য এই শফিকের কোন বড় শোডাউন নেতাকর্মীদের চোখে পরেনি।
এছাড়াও এই শফিকের নামে রয়েছে নানা অভিযোগ তাকে সিদ্ধিরগঞ্জের নেতাকর্মীরা দুই নৌকায় পা দিয়ে চলা নেতা হিসেবেই চিনে থাকে। এই নেতা নির্বাচনের সময় স্থানীয় শামীম ঘেঁষাদের সাথেও সমন্বয় করে চলে আবার এদিকে মেয়রের নেতাকর্মীদের সাথে ও আতাঁত করে চলে। এই দুই নৌকায় পা দিয়ে চলা নেতারা সংগঠনের জন্য বিপদজনক বলে দাবি করছেন তৃনমূলের নেতাকর্মীরা।
এদিকে মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী কায়কোবাদ রুবেল জেলা আওয়ামী লীগের বহিস্কিত নেতা জাহাঙ্গীর আলমের উপর ভরসা করে মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন। এই রুবেলের কোন নিজস্ব কর্মীবাহিনী নেতা বললেই চলে। তিনি দেওভোগে নিজ এলাকার রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত এলাকা ছেড়ে তিনি বেড় হয়না বললেই চলে।
এছাড়া এই সভাপতি প্রার্থী রুবেল দুই নং রেলগেইটের টয়লেটের চাঁদা তুলে থাকে। এমন নেতাকে দায়িত্ব না দিলে সংগঠন বিশ্খৃলায় পরিনত হবে। এছাড়াও আরেক সাধারন সম্পাদক প্রার্থী যিনি সাবেক সভাপতি জুয়েলের হুবুহু বললেই চলে তিনি সাবেক মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু।
যিনি রাজনীতি করে থাকে শামীম ওসমানকে খুশি করাতে এছাড়া তার সংগঠন তো দূরের কথা কোন রাজনীতিতেই তার কোন ভ‚মিকা নেই। শুধু শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান যেখানে তারা ও সেখানে বললেই চলে বিন্দু যেমন তাদের ঠিকাদারী নিয়ে বসে আছে বললেই চলে।
এদের হাতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নয়া কমিটির দায়িত্ব দিলে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্বেচ্ছাচারিতা বিনষ্ট হয়ে সংগঠনে দিধাদ্ব›দ্ব সৃষ্টি হবে। যার কারণে তৃণমূলের দাবি, কিছুদিন টাইম নিতে হলেও যোগ্য ও ত্যাগী নেতা যাচাই বাছাই করে সকল আমল নামা চেক করে নয়া কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হোক তাহলে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে মহানগরী এলাকায় মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ একটি ব্যাপক ভ‚মিকা পালন করতে পারবে। এন.হুসেইন রনী /জেসি


