গাড়ি পার্কিংয়ের সময় শামীম ওসমানকে দেখে স্লোগান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৩, ০৪:৩৭ পিএম
# আমাকে দেখা মাত্রই তারা অশালীন ভাষায় গালাগালি করছিল : শামীম ওসমান
যুক্তরাষ্ট্রে শামীম ওসমানকে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার সূত্রপাত ও পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এমপির সাথে তর্কে জড়ানো যুবক বাদল মির্জা। একটি অনলাইনে দেয়া স্বাক্ষাৎকাওে যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী বাদল মির্জা বলেন, আপনারা অবগত আছেন নিউইয়র্ক স্ট্যান্ড বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ একটি টিম যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের সাথে দেখা করে গতকাল সন্ধ্যায় তারা এখানে ফিরেছে।
এখানে আসার পরে আমরা নবান্ন রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে নিউয়র্ক স্ট্যাড বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে ফুল দিয়ে বরণ করে তাদের কাছ থেকে আমরা শুনতেছিলাম তারেক রহমান কি দিক নির্দেশনা দিয়েছে। ওই প্রোগ্রামটা শেষ করে সবাই যখন বাড়িতে চলে গেছে। তখন আমি আর আমার সহযোদ্ধা রাহিন ইসলাম প্রিন্সসহ নিউয়র্কের নবন্ন রেস্টুরেন্টের সামনে আমরা দাড়িয়ে কথা বলতেছিলাম রাত আনুমানিক ১১:৩০ বা ১২ টার ভিতরে। ওই সময় আমাদের পাশে আরো ৮/১০জন বাংলাদেশি ছিল।
তখনই আমরা দেখতে পাইলাম নবান্ন রেস্টুরেন্টের পাশে শামীম ওসমান গাড়ি পার্কিং করতাছিলো। তখন আমার পাশে যে বাংলাদেশি প্রবাসী আছে তারা হঠাৎ শামীম ওসমানকে লক্ষ্যে করে সেখানে বলতে থাকে ভোট চোর, ভোট চোর শামীম ওসমান ভোট চোর, শেখ হাসিনা ভোট চোর, ভূয়া ভূয়া এগুলো প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের মধ্যে কেউ না কেউ এই কথাগুলো তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছে। আরো তারা বলছিলো বোরকা শামীম সহ এই মুহুর্তে খবর এলো শামীম ওসমান পালিয়ে গেলো এমন কিছু একটা কথা বলতাছিলো।
আমি আর আমার সহযোদ্ধা রাহিন ইসলাম প্রিন্স সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন হঠাৎ দেখলাম উনার সাথে ৪ জন ছিলো সে গাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসে আমাদের দিকে আসতে চাইছিলো তখন তার সাথের লোকেরা বলতাছিলে ভাই সেখানে যাইয়েন না। তখন উনি সকলকে ফেলে আমরা ডান কানে ধাক্কা দিয়া বললো তুমি খুশি হইছো তুমি শান্তি পাইছো, আমাকে ভোট চোর বলে তখন আমি তাকে বললাম এখান থেকে যারা আছে কেউ না কেউ করেছে। আর সকলেই ভিডিওর মধ্যে দেখেছে শামীম ওসমান সাহেব বার বার আমার উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছেন।
কিন্তু আমি উনাকে সম্মান দিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু উনি আমাকে বলতাছে তুমি এখান থেকে চলে যাও না হলো আমার এখানে হাজার হাজার ছেলে পেলে আছে তাদেরকে খবর দিলে দৌঁড়ে এখানে চলে আসবে। আমি শামীম ওসমান আমি এইটা, আমি ওইটা, আমার হাত অনেক উপরে। আমার আরো ৫০০ গুন তোমার থেকে পাওয়ার বেশি আছে তুমি কিসের পলিটিক্স করো। আমি তখন উনাকে বললাম আপনি শামীম ওসমান হন আর যেই হন আমরা আপনাকে চিনি। তখন উনি আমাকে বললো তুমি বাংলাদেশের কোথায় থাকো আমার ১০ মিনিট সময় লাগবে না খবর বাহির করতে। তখন আমরা বলেছি ভাই চা খান ।
এদিকে ডিবিসি চ্যানেলে দেয়া বক্তব্যে ওই ঘটনায় শামীম ওসমান বলেন, মাত্র আমেরিকায় পৌঁছেছি। আমি আমার এক ছোটভাইকে নিয়ে মাত্র সেখানে চা খেতে গিয়েছিলাম। আমরা দুইজনই সেখানে ছিলাম। সেখানে বোধহয় বিএনপির কোন প্রোগ্রাম ছিল। ৫০/৬০ জন ছিল বাইরে দাঁড়িয়ে। আমাকে দেখা মাত্রই তারা অশালীন ভাষায় গালাগালি করছিল। তাতে আমার কিছু এসে যায়না। আমি ভাল কিছু আশাও করিনা। যেই মুহুর্ত্বে তারা শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাজে কথা বলেছে আমার পক্ষে এটা মেনে নেয়া সম্ভব হয় নাই।
সেক্ষেত্রে আমি সেখানে তাদের কাছে গেলেও আমি উত্তেজিত না হয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এখান থেকে তাদের অনেকেই বুঝেছে যাদের বাবা-মা ভাল। আমি তাদের বলেছি, আমার ছেলের বয়স তোমাদের সমান। রাস্তায় দাঁড়িয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার করছো মানুষ কী বলবে। মানুষ তোমাদের বাপ-মাকে নিয়ে কথা বলবে। একথা বলার পর কয়েকজন চুপ হয়ে গেছে। তারপর কয়েকজন আমার ভদ্র আচরণকে দুর্বলতা ভেবেছে।
আমার সাথে কিন্তু আর কেউ ছিলনা। জ্যাকসন হাইটে যারা ব্যবসা করেন তারা আমার কথাও শুনেছেন তাদের কথাও। একটা সময় তারা ব্যাপকভাবে এটার প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদের এক পর্যায়ে তারা প্রতিরোধ করে ক্ষেপে যান। তখন তারা ওখান থেকে পালিয়ে চলে যান। পালাতে বাধ্য হন বলবো। এই ঘটনায় বেশ কিছু উত্তেজনা ছড়িয়ে গেছে। আমি সবাইকে শান্ত হতে বলবো। এস.এ/জেসি


