ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে বাধা শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৩, ০৯:৪৩ পিএম
# শামীম ওসমান নির্দেশ দিলে কমিটি হবে : কেন্দ্রীয় নেত্রী শাহানারা
# নির্বাচনের আগে কমিটির বিকল্প নেই : শফিক
# দলীয় কোন্দলে কমিটি আটকে রয়েছে তৃণমুল
ঢাকার লাগোয়া হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ আন্দোলন সংগ্রামে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে আসছে। আগামী নির্বাচনে দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য এখানকার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা যে কোন আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে তাদের দাবী। আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপি বা অন্যান্য ছোট বড় রাজনৈতিক দলগুলো কোনভাবেই পিছিয়ে থাকতে নারাজ এ নারায়ণগঞ্জে। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগি সংগঠন নারায়ণগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগকে শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্রীয় একাধিক টিম মাঠে নেমে কাজ করেন।
ইতোমধ্যে জেলার ফতুল্লা এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বাদে সকল থানা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন শেষ করে এখন জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের সময়ের জন্য প্রহর গুনছেন। কেননা সকল জল্পনা কল্পনা কাটিয়ে আগামী ৩১ জুলাই জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও ভেন্যু নিয়ে উত্তর দক্ষিন মেরুর টানা হেচড়া চলছে। উত্তরের শামীম ওসমান অনুসারীরার চাচ্ছে ওসমানি স্টোডিয়ামে সম্মেলন হোক, তার বিপরীতে দক্ষিন মেরুর মেয়র আইভীর অনুসারীরা চাচ্ছে শেখ রাসেল পার্ক মাঠে হোক। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত জানাবেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমান টানা ২য় বারের মত জনপ্রতিনিধি হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি। ফতুল্লা শিল্প এলাকার জন্য সারাদেশে পরিচিত। এছাড়া এই আসনের এমপি শামীম ওসমানকে সকলে সারাদেশে চিনেন। এমনকি দেশের গন্ডি পেরিয়ে তিনি এখন দেশের বাইরেও পরিচিত। কেননা সম্প্রতি সাংসদ শামীম ওসমানকে আমেরিকা প্রবাসী বিএনপি সমর্থকরা লাঞ্ছনা করেন। যা রীতিমত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তাছাড়া তার খেলা হবে ডায়লগ দেশ পেরিয়ে ভারতেও ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাংসদ হিসেবে জানেন স্থানীয় বিরোধী দল থেকে শুরু করে খোদ দলীয় নেতারা। কিন্তু সাংসদ শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ সবচেয়ে দুর্বল হয়ে আছে। একই সাথে দেড় বছর অতিবাহিত হতে যাচ্ছে ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি নেই। যদিও ইতোমধ্যে জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে এই দুই থানার সম্মেলন ছাড়াই।
আর এতে করে এখানকার পদপ্রত্যাশী নেতারা হতাশ হয়ে রয়েছেন। তাছাড়া দলীয় গঠনতন্তু অনুযায়ী জেলার মহানগর সম্মেলনের আগে সকল থানা এবং ওয়ার্ডের সম্মেলন হতে হবে। কেন্দ্র থেকেও এমন নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার এমপি শামীম ওসমান হওয়ায় এখানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হচ্ছে না। কেননা এখানকার নেতৃবৃন্দ তার নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। এমনকি তাকে না জানিয়ে যেন এখানে সম্মেলন কিংবা কমিটি না দেয়া হয় এমন নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানান খোদ সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেত্রী।
তবে সিদ্ধিরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন হলেও কোন কমিটি ঘোষনা হয় নাই এতে করে পদপ্রত্যাশী নেতারা হতাশ হয়ে রয়েছে। একই ভাবে ফতুল্লা থানা ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠনের কোন আলোচনা নেই। এখানেও নতুন নেতৃত্বে আসা কর্মীরা হতাশ হয়ে আছে।
যদিও ফতুল্লার সকল ইউনিয়ন থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন থেকে শুরু করে কমিটি গঠনের দায়িত্ব নিয়েছেন এখানকার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল্লা বাদল এবং সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নাই। মাঝখানে দায়িত্ব নিয়ে তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। উপরের নেতৃবৃন্দের কারনেই সংগঠন শক্তিশালী হতে পারে না বলে তাদের অভিমত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সনের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন জেলা মহানগর এবং থানা উপজেলা সকল স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে বিলুপ্ত হওয়ার পর ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এখনো কমিটি বিষয়ে তেমন কোন আলোচনা নেই। সিদ্ধিরগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ডের সম্মেলন হলেও কোন কমিটি ঘোষনা হয় নাই।
তাছাড়া এখানকার থানা কমিটি হবে তাও জানেন না স্থানীয় নেতারা। তবে অভিযোগ রয়েছে খোদ দলের একটি অংশ শামীম ওসমান অনুসারীরা চায় তাদের বলয়ের কর্মীদের নেতাদের রাখতে। অপর দিকে মেয়র বলয়ের লোকদের মাইনাস করতে চায় এমন অভিযোগ রয়েছে। তবে তারাও কোন ভাবে ছাড় দিবে না। তাই দুই মেরুরু টানা টানিতে এখানে আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেই বললেই চলে।
জানা যায় সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদে আসার জন্য স্থানীয় নেতা কর্মীদের চাঙ্গা রেখে যাচ্ছেন শফিকুল ইসলাম শফিক। তিনি দলীয় কেন্দ্রীয় নেতাদের সহযোগিতা করে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এখানে ইতোমধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগকে শক্তিশালী ভাবে সাজানোর জন্য মাঠে নেমে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাই আগামী নির্বাচনের আগে এখানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন। তার সাথে আরও জহিরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলামা রাজু, সিব্বির আহমেদ, মানিক মাস্টারও এখানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদে আসার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
কিন্তু এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের ধারে কাছেও নেই ফতুল্লা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। তারা অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। এখানকার ৫টি ইউনিয়নের মাঝে ২ টিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হয়েছে। কাশিপুর এবং এনায়েত নগর ইউনিয়নের কমিটি হয়েছে। বাকি ৩টিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হওয়ার কোন আলোচনা নেই। এছাড়া ফতুল্লার স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে কারা আসবে তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত তেমন আলোচনা নেই। এখানে নতুন নেতৃত্ব তৈরী না হওয়ায় আগামী নির্বাচনের নৌকার প্রার্থীকে পস্তাতে হতে পারে বলে মনে করেন খোদ দলীয় নেতা কর্মীরা।
কেননা তারা কার নেতৃত্বে কিভাবে মাঠে নেমে তৃনমূল পর্যায়ে ঘরে ঘরে গিয়ে নৌকার জন্য ভোট চাইবে তারও তেমন কোন নির্দেশনা পায় নাই দলীয় নেতা কর্মীরা। এছাড়া ফতুল্লা নেতৃত্বে যারা আসতে চায় অন্যান্য কমিটি ঘোষনা না হওয়ায় তারাও এখানে হতাশ হয়ে নিরব রয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনের দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে হলে তারা দ্রুত কমিটি দেয়ার দাবী জানান।
সিদ্ধিরগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডের সম্মেলন সফল ভাবে শেষ করেছি। সেই সাথে এখানে স্বেচ্ছাসেবক লীগকে শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। তবে সিদ্ধিরগঞ্জে ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি ঘোষনার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে নাম চেয়েছে।
কিন্তু তাদের মাঝে একাধিক নাম দেয়া নিয়ে বিভেদ তৈরী হওয়ায় এখনো নাম দিতে পারছে না। আর এতে করে আমাদের কমিটি গুলো আটকে রয়েছে। তবে আমরা চাই এখানে দ্রুত কমিটি ঘোষনা হোক। সেই সাথে অতি দ্রুত থানা সম্মেলন করা হোক। আগামী নির্বাচনে দলীয় নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করতে হলে কমিটি বিকল্প নেই।
সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জানান, দলকে শক্তিশালী করতে হলে কমিটির প্রয়োজন রয়েছে। সেই সাথে আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলকে পরাজিত করতে সঠিক নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে এখন থেকে মাঠে নেমে আমাদের প্রস্তুত নিতে হবে। আর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোন কমিটি নেই। যা মেনে নেওয়া যায় না। তাছাড়া কমিটি না থাকায় এখানে সাংগঠনিক ভাবে দল দুর্বল হয়ে রয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি কাজী এড. শাহানারা জানান, আমি সিদ্ধিরগঞ্জের সকল ওয়ার্ডের সম্মেলন শেষ করেছি। এখন থানা সম্মেলন বাকি। এই আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছে তিনি আসলে তাকে জানিয়ে যেন সম্মেলন কিংবা কমিটি দেয়া হয়। তিনি যদি বলেন, এই সপ্তাহে সিদ্ধির স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হবে আমি তাতেই প্রস্তুত রয়েছি। আমার অবস্থান থেকে কোন সমস্যা নেই। তিনি যখন বলবে তখনই কমিটি হয়ে যাবে।
কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান সাচ্চু বলেন, আমরা অবগত রয়েছি। আমাদের কাছে কমিটির জন্য তালিকা রয়েছে। জেলা মহানগরের সম্মেলন হোক। বাকি গুলো ঘোষনা হয়ে যাবে। এস.এ/জেসি


