Logo
Logo
×

রাজনীতি

টাকা ফেরত চাওয়ায় আবার শাসালো মন্তু-সজলের সহযোগী রাসেল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৩, ০৮:২৬ পিএম

টাকা ফেরত চাওয়ায় আবার শাসালো মন্তু-সজলের সহযোগী রাসেল
Swapno

 

# পদের লোভে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছি : তানভীর

 

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলকে ঘিরে একে একে করে অভিযোগের পাহাড় জমা হচ্ছে। যার কারণে বলা চলে বিতর্ক যেমন পিছ‚ ছাড়ছে না মহানগর যুবদলের। সংগঠনের আহ্বায়ক মমতাজউদ্দিন মন্তু ও সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম সজল মহানগর যুবদলের কমিটি নিয়ে অর্থ স্বার্থের লড়াইয়ে এতোটাই লিপ্ত ছিলেন যে তাদের একের পর এক ঘটনার মুখোশ উন্মোচন হওয়া শুরু করেছে। এবার মহানগর যুবদলকে ঘিরে পাওয়া গেল আরেকটি অভিযোগ।

 

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য পদে স্থান দেওয়া প্রলোভন দেখিয়ে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মমতাজউদ্দিন মন্তুুর অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে বর্তমানে যুবদল থেকে বেড়িয়ে কয়েকদিন একটি পদস্থ হয়েছে। সে নেতার নাম রাসেল বেপারী তিনি বন্দর ২১ নং ওয়ার্ডের এক বিএনপির কর্মী তানভীরের নিকট দীর্ঘ ৫ থেকে ৬ মাস পূর্বে হতে মহানগর যুবদলের সদস্য পদের প্রোলোভন দেখিয়ে তার নিকট হতে ত্রিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে সেই রাসেল বোপারীর বিরুদ্ধে।

 

কিন্তু এবার দীর্ঘ ৫/৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর এবার সেই কর্মী আর যুবদলে আসতে চাচ্ছে না। সেই ধারবাহিকতায় গতকাল ২০ জুলাই মহানগর বিএনপির শোক র‌্যালীর পরে তার নিকট টাকা চাইলে রাসেল বোপারী সরাসারি অস্বীকার করে। আর বলে বেশি কথা বললে তোকে মাদক ব্যবসায়ী হিসিবে চিহ্নিত করে দিবো। পরে দুই জনের মধ্যে এক সময় তক্কাতকি জোরালো হতে দেখা গেলে সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা তা আটকায় ও শান্ত হতে বলে।

 

পরে মহানগর বিএনপির মূল নেতৃবৃন্দরা কি হয়েছে জানতে চাইলে তানভীর সকল বিষয় খুলে বলে। আর তারা ও একটি সলিউশন দেয় এই ঘটনা তদন্ত করে একটি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু দলীয় নেতৃবৃন্দের দাবি, দীর্ঘদিন অর্থ কেলেংকারী হিসেবে নাম উঠেছে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের আর এবার এই রাসেল বোপারী মন্তুুর ঘনিষ্ট লোক হওয়ায় আবারও তাদের দিকেই উঠছে আঙ্গুল।

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর মমতাজউদ্দীন মন্তুুকে আহ্বায়ক এবং মনিরুল ইসলাম সজলকে সদস্য সচিব করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ৫ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর যুবদলের সুপার ফাইভ কমিটি গঠন করা হয়। মহানগর যুবদলে মন্তূ-সজল নেতৃত্বে আসার পর থেকেই নানা রকম বিতর্কে জড়িয়ে মহানগর যুবদলকে একটি বিতর্কিত সংগঠনে রূপ দেয়। যার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মন্তু-সজলের নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা চলমান ছিল এবং তাদের অযোগ্য নেতৃত্ব অপসারণের দাবি উঠছিল।

 

কারণ তাদের উপর নেতৃত্বের ভার দেয়ার দীর্ঘ ১৭ মাস অতিক্রম করলেও একাধিকবার মহানগর যুবদলের কমিটি পূর্ণাঙ্গের নির্দেশ দিলে খসড়া কমিটিতে নেতাদের পদের প্রলোভন দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেয়ার একাধিকবার অভিযোগ উঠছে। যার কারণে ৮১,৭১ বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও সর্বশেষ ৩১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ও ব্যর্থ হয়েছে মন্তু-সজল। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থানে দেওয়া কথা বলে ইতিমধ্যে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বিভিন্ন নেতাকর্মীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

 

আর এ বিষয়ে কেন্দ্র কয়েকবার লিখিত অভিযোগ ও জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্ত এবার ভিন্ন কায়দায় সহযোগী দিয়ে টাকা আদান প্রদান করেছে তারা এমনই দাবি বিভিন্ন নেতাকর্মীদের। রাসেল বেপারী দীর্ঘদিন যাবৎ বন্দর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক রানার সাথে যুবদলে আসতো সেখান থেকেই মন্তুও সাথে ঘনিষ্টতা প্রকাশ পায়। তার পরবর্তীতে তিনি সদস্য পদস্থ করার প্রলোভন দেখিয়ে এমন কর্মকান্ড ঘটায়।

 

এ বিষয়ে তানভীর যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাকে মহানগর যুবদলের সদস্য পদের রাখার কথা বলে দীর্ঘ ৫/৬ মাস আগে সাবেক যুবদল নেতা ও বর্তমান ২২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাসেল বেপারী আমার কাছ থেকে ৩০,০০০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। আর আমি পদের প্রলোভন পেয়ে তার হাতে টাকা দেয়। তিনি আরো বলেন, সেই রাসেল বেপারী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মমতাজউদ্দিন মন্তু সাহেবের আস্থাভাজন হিসেবেই পরিচিত।

 

দীর্ঘদিন হয়ে যাওয়ার কারণে আমি আর যুবদলের কমিটিতে না থাকার কথা বলে রাসেল বেপারীর কাছ থেকে টাকা চাই। আর তিনি সরাসরি অস্বীকার করে। আর আমাকে মাদকের সাথে যুক্তের কথা বলে পুলিশে দেওয়ার হুমকি ও প্রদান করে। পরবর্তীতে আমাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা দেখে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এসে আমাদের শান্ত করে আর মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের নিকট নিয়ে যায়। আর তারা আমাকে আশ্বাস দেয় ঘটনা যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে এটার একটা ব্যবস্থা আমরা অতি দ্রুতই নিবো।

 

এ বিষয়ে রাসেল বেপারী যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা নামে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে আমি এই কাজ কখনো করি নাই। আর যারা এই গুজব ছড়াচ্ছে তারা মাদকের বিভিন্ন স্পটের সাথে জড়িত। এছাড়াও যারা তাদের বাচ্চাকাচ্চার দুধ কিনতে পারে না। আমি এমন লোকের কাছ থেকে কিভাবে টাকা নেই এটা আমার বুঝে আসে না। আমার নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন