# ঢাকা-১৭ আসনে হিরো আলমের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ভোট পেয়েছে
# সিটি নির্বাচনগুলিতেও চরমোনাই ও জাকের পার্টির চেয়ে কম ভোট পেয়েছে
সারা দেশে জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। তাই আগামী সংসদ নির্বাচন যদি নুন্যতমও অবাধ ও সুষ্ঠু হয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলক হয় তাহলে বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির দুই এমপি। কারণ সর্বশেষ ঢাকা-১৭ আসনে যে নির্বাচন হলো সেই নির্বাচনে জাতীয়পার্টির প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে তার জামানত হারিয়েছেন। তিনি হিরো আলমের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ভোট পেয়েছেন। মাত্র এক হাজার ভোট পেয়েছেন তিনি।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা একেবারেই কম ভোট পেয়েছে। কোথাও চতুর্থ বা পঞ্চমও হয়েছে। এমন কি জাকের পার্টিও প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চেয়েও কম ভোট পেয়েছে। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন জাতীয় পার্টি কাগজে কলমে জাতীয় সংসদদের বিরোধী দল হলেও বাস্তবে তারা বিগত পনেরো বছর ধরে সরকারের দালালী করে এসেছে। আর এ কারণেই এক সময়কার জনপ্রিয় এই দলটিকে বাংলাদেশের মানুষ একেবারেই প্রত্যাখান করেছে। তাই কোথাও ভোটে দাঁড়িয়ে এখন আর তারা ভোট পাচ্ছেন না।
তাই আগামী নির্বাচনে এই দলটির সোচনীয় পরাজয় ঘটবে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। যা কিনা এরই মাঝে প্রমাণিত হয়ে গেছে। তাই নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির যে দুইজন এমপি রয়েছেন আগামী নির্বাচন সুষ্টু হলে যেকোনো প্রার্থীর সাথে তাদের শোচনীয় পরাজয় ঘটতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। এবং এ বার্তা এরই মাঝে একেবারে পরিস্কার হয়ে গেছে। তাই নির্বাচন সুষ্টু হলে লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে একেএম সেলিম ওসমান এমপি এবং লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি কোনো মতে জিততে পারবেন না বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে এসে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার বিরোধী বক্তব্য রাখছেন জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এখন যে বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে তিনি এরই মাঝে পরিস্কার করেছেন যে তিনি আর কোনো পাতানো নির্বাচনে অংশ নিতে চান না। কারন সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলিতে তাদের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, জাকের পার্টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কিন্তু এমন কোনো হলো?
দেশেতো তিনটি দল মোটামুটি জনপ্রিয় দল হিসাবে পরিচিত ছিলো। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরে ভোট ব্যাংক ছিলো জাতীয় পার্টির। লাঙ্গল ছিলো নৌকা আর ধানের শীষের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিক। তাই জিএম কাদের সহ জাতীয় পার্টির নেতারা আরো আগেই বুঝতে পেরেছেন আওয়ামী লীগের সাথে জোট করে তাদের কি ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বিগত দুটি বিতর্কিত নির্বাচনে তারা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করায় দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়ার জন্য মানুষ জাতীয় পার্টিকেও দায়ী করছে।
এতে জাতীয় পার্টির বেশ মোটা দাগে ক্ষতি হয়েছে বলে খোদ জিএম কাদের সহ তার দলের নেতাকর্মীরাই মনে করছেন এবং এ কথা বলছেন। তাই এ সময়ে এসে দেশের রাজনীতিতে ঘুরে দাড়াতে চায় জাতীয় পার্টি। তারা আর আওয়ামী লীগের সাথে থাকতে চায় না। তাই সময় মতো তারা সরকার বিরোধী আন্দোলনেও সামিল হবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি যদি সরকার বিরোধী আন্দোলন নিয়ে মাঠে নামে তাহলে কি করবেন নারায়ণগঞ্জের দুই জাতীয় পার্টির এমপি?
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মাঝে দুটি আসন জাতীয় পার্টির এমপিদের দখলে রয়েছে। এগুলো হলো নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন। এই দুই আসনের এমপি হলেন যথাক্রমে একেএম সেলিম ওসমান এবং লিয়াকত হোসেন খোকা। তাই এই মুহুর্ত্বে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলের মাঝে এই প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে যে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গ ত্যাগ করেন তাহলে নারায়ণগঞ্জের এই এমপিরা কি করবেন?
তারা যদি আগামী নির্বাচনে অংশ নেন এবং তাদের প্রতিক লাঙ্গলও থাকে তার পরেও কারচুপির নির্বাচন না হলে তারা জিততে পারবেন না বলেই সবকিছু এখন পরিষ্কার হচ্ছে। কারণ আগামী নির্বাচন আর বিগত দুটি নির্বাচনের মতো হবে না। বিএনপি আগামী নির্বাচনে না এলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সাথে নির্বাচন করে তাদেরকে জিততে হবে। সেই ক্ষেত্রে ফলাফল যে কি হবে সেটাতো এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার।এদিকে দুই এমপির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলি জানিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন দুই এমপি।
সূত্র জানায়, এমপিরা জানেন শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মূল ধারা তথা জিএম কাদের যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গ ত্যাগ করেন তাহলে রওশন এরশাদ থেকে যাবেন আওয়ামী লীগের সাথে। তখন এই দুই এমপি কি জিএম কাদেরের সঙ্গে থাকবেন নাকি রওশন এরশাদের সঙ্গে যাবেন সেটা সময় এলেই বুঝা যাবে।
তবে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন এই মুহুর্তে সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের অনুকুলে নেই। কারন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা বিশ্ব এবার যেভাবে সরকারকে চেপে ধরেছে বিগত পনেরো বছরে এমনটি দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রতো রীতিমতো ভিসা নীতি দিয়ে কঠোর অবস্থা নিয়েছে।
তবে যে যাই বলুক না কেনো বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতি পরিস্থিতি চরম ঘোলাটে আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তি যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচন চাইছে। আর সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিটি এ দেশের সাধারণ জনগনেরও দাবি। তাই এই ন্যায়সঙ্গত দাবিটির শক্তি অনেক বেশি। ফলে সরকারও আগামী নির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ ও সুষ্টু করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যাক্ত করেছেন।
যার ফলে জাতীয় পার্টির এমপিরাও এ বিষয়টি অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে অনেকে মনে করেন। তাই সার্বিক পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে জাতীয় পার্টির এই দুই এমপির জয়ী আসা বেশ কঠিন হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এলাকায় দুই এমপির কিছুটা ব্যাক্তিগত ইমেজ রয়েছে। কিন্তু জাতীয় পার্টি বা লাঙ্গল প্রতীকের ভোট ব্যাংক যেখানে গিয়ে নেমেছে এতে এই দুই এমপির নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ বলে এরই মাঝে ম্যাসেজ পরিষ্কার হয়েছে। এস.এ/জেসি


