ধারাবাহিক কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত না.গঞ্জ জেলা বিএনপি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৩, ০১:২৭ পিএম
এবার আগামী ২৭ জুলাই রাজধানীতে বিএনপির মহাসমাবেশ সফল করার জন্য আবারও ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। গতকাল জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবন্দের সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই স্বৈরাচার সরকার বিএনপির আন্দোলনের ভয়ে আবারও নতুন করে ধরপাকর শুরু করেছে। তাই আমি আরো অনেক আগেই আমার দলের নেতাকর্মীদের বলেছিলাম আপনারা প্রস্তুত থাকুন বাহিরে রাত কাটানোর জন্য।
কারন ফ্যাসীবাদীরা সব সময়ই দমন পীড়ন চালিয়ে অবৈধ ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এই সরকারও বিগত পনেরো বছর ধরে আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তায় রাস্ট্র ক্ষমতায় টিকে আছে। কিন্তু আমি এবার দ্ব্যার্থহীন ভাষায় বলতে পারি এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার এরই মাঝে সারা দেশের জনগন বিএনপির আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে।
বিশেষ করে দেশের তরুন সমাজ যারা নাকি বিগত পনেরো বছর ধরে কোনো নির্বাচনেই ভোট দিতে পারছে না। এবার তারা জেগে উঠেছে। তারা তাদের অধিকার আদায় করার জন্য মাঠে নেমেছে। তাই সরকারের যদি শুভ বুদ্ধির উদ্বয় হয় তাহলে তারা নির্বাচনকালিন কেয়ারটেকার সরকার ব্যাবস্থায় ফিরে যাবে।
অন্যথায় তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের বিদায় ঘটবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন আমরা এরই মাঝে ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছি। কেন্দ্র থেকে যখনই যে কর্মসূচি ঘোষনা দেবে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেই কর্মসূচি পালন করার জন্য ঝাপিয়ে পরবো ইনশাআল্লাহ। আগামী ২৭ জুলাই ঢাকার মহাসমাবেশেও নারায়ণগঞ্জ থেকে লক্ষাধিক মানুষ যোগ দেবে ইনশাআল্লাহ।
জানতে চাইলে একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেন, ফতুল্লার প্রায় সব মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার তথা ভোটের অধিকার ফিরে পাবার জন্য সোচ্চার হয়ে উঠেছে। আমাদের এবারের আন্দোলনে সর্ব স্থরের জনগন যোগ দিচ্ছে।
কারন ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকার গোটা দেশটাকে একটি জেলখানায় পরিনত করেছে। দেশের মানুষের ভোটের অধিকারতো দূরের কথা কোনো রকম স্বাধীনতা নেই। ব্যাবসায়ী নামক একটি লুটেরা চক্রকে দিয়ে সারা দেশে এই সরকার লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। সরকার সমর্থক ব্যাবসায়ীদের কারনেই আজ দশ টাকার বদলে আশি টাকা কেজি দরে চাল খেতে হচ্ছে।
ছয়শ থেকে আটশ টাকা কেজির নিচে কোনো মাছ পাওয়া যায় না। এক কেজি গরুর মাংসের দামও আটশ টাকা। এছাড়া এই লুটেরাদের লুটপাটের কারনে ঘরে ঘরে মানুষকে অর্ধহারে অনাহারে থাকতে হচ্ছে। তাই আবারও যদি এই লুটেরা সরকার রাস্ট্র ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশে দূর্ভিক্ষ লেগে যাবে।
তাই বিএনপির আন্দোলনে এখন সর্ব স্থরের জনগন ঝাপিয়ে পরছে। ফলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এই সরকারের পতন ঘটবে বলে আমরা মনে করি। আমরা কেন্দ্র থেকে ঘোষিত যেকোনো কর্মসূচি সফল করার জন্য সব সময় প্রস্তুত রয়েছি। তাই আগামী ২৭ জুলাইয়ের সমাবেশে ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে পঞ্চাশ হাজার লোক যোগ দেবে ইনশাআল্লাহ।
এদিকে একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম। তিনি বলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন আমাদেরকে সর্বাত্বক প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন এখন থেকে আর কোনো নির্দেশের অপেক্ষায় থানা যাবে না।
হাতে আর সময় নেই। এরই মাঝে চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। তাই এখন থেকে একের পর এক কর্মসূচি আসতে থাকবে। তাই প্রত্যেকটি কর্মসূচি জনগনকে সঙ্গে নিয়ে সফল ভাবে পালন করতে হবে। তিনি আমাদেরকে বলেছেন দেশে শিগগিরই একটি গণঅভ্যুথ্যান হবে।
কেনোনা সরকার বেশ ভালো করেই জানে কোনো রকম আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে যদি তত্বাবদায়ক সরকার গঠন করা হয় এবং তারপর নির্বাচন হয় তাহলে এই সরকার দশটি আসনও পাবে না। তাই তারা এখন বিএনপিকে বাদ দিয়েই নির্বাচন করতে চাচ্ছে। কিন্তু দেশের জনগন সরকারের এই খায়েশ এবার আর পূরন হতে দেবে না।
মানুষ তাদের সকল প্রকার গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরবে ইনশাআল্লাহ। তাই ক্ষমতা ছেড়ে পালাবে সরকার। তাই সবাইকে গ্রেফতার এড়িয়ে রাজপথে থেকে এ দেশকে স্বৈরশাসকের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। তার নির্দেশনা মোতাবেক আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।
তাই আগামী ২৭ তারিখের মহাসমাবেশও সফল করার জন্য আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আমরা সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বিশাল মিছিল নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্বে মহাসমাবেশে যোগ দেবো ইনশাআল্লাহ। এন.হুসেইন রনী /জেসি


