২৭ জুলাই শক্তিমত্তার জানান দিতে চায় মহানগর বিএনপি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৩, ০২:৪৭ পিএম
এবার আগামী ২৭ জুলাই রাজধানীতে বিএনপির মহাসমাবেশ সফল করার জন্য আবারও ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। গতকাল মহানগর বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন খান এবং সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
তার জানিয়েছেন এবার তার স্মরন কালের বৃহত্তম মিছিল করবেন কেনোনা যতো দিন যাচ্ছে ততোই বিএনপির কর্মসূচিগুলিতে ব্যাপক ভাবে গণসম্পৃক্ততা বাড়বে। এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই স্বৈরাচার সরকার বিএনপির আন্দোলনের ভয়ে আবারও নতুন করে ধরপাকর শুরু করেছে।
কিন্তু আমরা আরো আগে থেকেই এবার সকল প্রকারের প্রতিবন্ধকতা প্রতিহত করে আন্দোলন সফল করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। কারন ফ্যাসীবাদীরা সব সময়ই দমন পীড়ন চালিয়ে অবৈধ ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এই সরকারও বিগত পনেরো বছর ধরে আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তায় রাস্ট্র ক্ষমতায় টিকে আছে।
কিন্তু আমি এবার দ্ব্যার্থহীন ভাষায় বলতে পারি এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার এরই মাঝে সারা দেশের জনগন বিএনপির আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে। বিশেষ করে দেশের তরুন সমাজ যারা নাকি বিগত পনেরো বছর ধরে কোনো নির্বাচনেই ভোট দিতে পারছে না। এবার তারা জেগে উঠেছে।
তারা তাদের অধিকার আদায় করার জন্য মাঠে নেমেছে। তাই সরকারের যদি শুভ বুদ্ধির উদ্বয় হয় তাহলে তারা নির্বাচনকালিন কেয়ারটেকার সরকার ব্যাবস্থায় ফিরে যাবে। অন্যথায় তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের বিদায় ঘটবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন আমরা এরই মাঝে ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছি।
কেন্দ্র থেকে যখনই যে কর্মসূচি ঘোষনা দেবে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেই কর্মসূচি পালন করার জন্য ঝাপিয়ে পরবো ইনশাআল্লাহ। আগামী ২৭ জুলাই ঢাকার মহাসমাবেশেও নারায়ণগঞ্জ মহানগর থেকে থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ যোগ দেবে ইনশাআল্লাহ।
জানতে চাইলে এডভোকেট সাখাওয়াৎ আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের প্রায় সব মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার তথা ভোটের অধিকার ফিরে পাবার জন্য সোচ্চার হয়ে উঠেছে। শিগগিরই বিএনপির কেন্দ্র থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, সচিবালয় এবং নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি আসছে। আমাদের এবারের আন্দোলনে সর্ব স্থরের জনগন যোগ দিচ্ছে।
কারন ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকার গোটা দেশটাকে একটি জেলখানায় পরিনত করেছে। দেশের মানুষের ভোটের অধিকারতো দূরের কথা কোনো রকম স্বাধীনতা নেই। ব্যাবসায়ী নামক একটি লুটেরা চক্রকে দিয়ে সারা দেশে এই সরকার লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। সরকার সমর্থক ব্যাবসায়ীদের কারনেই আজ বিশ টাকার বদলে আশি টাকা কেজি দরে চাল খেতে হচ্ছে।
অথচ শেখ হাসিনা কথা দিয়েছিলো দশ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। দেশে এখন ছয়শ থেকে আটশ টাকা কেজির নিচে কোনো মাছ পাওয়া যায় না। তাই গরীব মানুষ মাছ খেতে পারনা। এক কেজি গরুর মাংসের দামও আটশ টাকা। এছাড়া এই লুটেরাদের লুটপাটের কারনে ঘরে ঘরে মানুষকে অর্ধহারে অনাহারে থাকতে হচ্ছে।
তাই আবারও যদি এই লুটেরা সরকার রাস্ট্র ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশে দূর্ভিক্ষ লেগে যাবে। তাই বিএনপির আন্দোলনে এখন সর্ব স্থরের জনগন ঝাপিয়ে পরছে। ফলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এই সরকারের পতন ঘটবে বলে আমরা মনে করি। আমরা কেন্দ্র থেকে ঘোষিত যেকোনো কর্মসূচি সফল করার জন্য সব সময় প্রস্তুত রয়েছি। তাই আগামী ২৭ জুলাইয়ের সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ মহানগর এলাকা থেকে পঞ্চাশ হাজার লোক যোগ দেবে ইনশাআল্লাহ।
এদিকে একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তিনি বলেন কেন্দ্রে থেকে আমাদেরকে সর্বাত্বক আন্দোলনের সর্বাত্বক প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন এখন থেকে আর কোনো নির্দেশের অপেক্ষায় থাকা যাবে না। হাতে আর সময় নেই। এরই মাঝে চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে।
তাই এখন থেকে একের পর এক কর্মসূচি আসতে থাকবে। তাই প্রত্যেকটি কর্মসূচি জনগনকে সঙ্গে নিয়ে সফল ভাবে পালন করতে হবে। কেন্দ্র থেকে আমাদেরকে বলেছেন দেশে শিগগিরই একটি গণঅভ্যুথ্যান হবে। কেনোনা সরকার বেশ ভালো করেই জানে কোনো রকম আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয় এবং তারপর নির্বাচন হয় তাহলে এই সরকার দশটি আসনও পাবে না।
তাই তারা এখন বিএনপিকে বাদ দিয়েই নির্বাচন করতে চাচ্ছে। কিন্তু দেশের জনগন সরকারের এই খায়েশ এবার আর পূরন হতে দেবে না। মানুষ তাদের সকল প্রকার গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরবে ইনশাআল্লাহ। তাই ক্ষমতা ছেড়ে পালাবে সরকার। তাই সবাইকে গ্রেফতার এড়িয়ে রাজপথে থেকে এ দেশকে স্বৈরশাসকের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
কেন্দ্রের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। তাই আগামী ২৭ তারিখের মহাসমাবেশও সফল করার জন্য আমরা প্রস্তত রয়েছি। আমরা নারায়ণগঞ্জ মহানগর থেকে বিশাল মিছিল নিয়ে মহাসমাবেশে যোগ দেবো ইনশাআল্লাহ। এন.হুসেইন রনী /জেসি


