# জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ একই অভিযোগ তুলছেন
চলামান আন্দোলন সংগ্রামের অংশ হিসেবে বর্তমানে দফায় দফায় দলীয় কর্মসূচিতে ঢাকামুখী অবস্থান করছে বিএনপি। জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি যখন ৫/৬ মাস তখনই রাজপথে ক্রমেই তৎরপতা বাড়াচ্ছে বিএনপি। বছর খানেক আগে শুরু করা দেশ ব্যাপী নানা কর্মসূচির পর এবার মহা-সমাবেশের ও ১ দফা দাবির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এগুলোর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় বিএনপি।
আর বিএনপির চেয়ারপার্সনকে ছাড়া এই প্রথমবার মহা-সমাবশের ডাকা হলে ও এই কর্মসূচিকে সরকার বিরোধী আন্দোলনের টানিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছে দলটির হাইকমান্ড। সেই লক্ষে ২৮ জুলাইয়ের মহা-সমাবেশে বড় জমায়েত ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের সমর্থন টানতে মরিয়া বিএনপি। কিন্তু ১০ ডিসেম্ববর বিএনিপর বিভাগীয় সমাবেশের মতোই করেই এই মহা-সমাবেশের দিকে ও তাকিয়ে আছে অনেকে।
এছাড়া যখনই কোন কর্মসূচির ডাক আসে তখনই পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সেই লক্ষ্যে হিসেবেই এবার ও জেলা বিএনপির আওতাধীন রূপগঞ্জ থানা, সোনারগাঁও থানা, আড়াইহাজার থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা বর্তমানে আতঙ্কে রয়েছে। কারণ দফায় দফায় সকল নেতাকর্মীদের বাড়িতে চলছে পুলিশ তল্লাশী। যা নিয়ে বর্তমানে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজমান।
কিন্তু নেতাকর্মীদের মাঝে দীর্ঘদিন দফায় দফায় আন্দোলনের কারণে যে উজ্জ্বীবিতভাব সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে কোন পুলিশ মহড়ায় ও নেতাকর্মীদের মাঝে ভয় না থাকলে ও সমাবেশ সফলের লক্ষ্যে সতর্কতা অবলম্বন করছে সকলেই দাি নেতাকর্মীদের। এদিকে আবার ঢাকার রাজপথে থাকছে বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের ও কর্মসূচি যাকে ঘিরে উত্তেজনার আকাঙ্ক্ষা ও হতে পারে অনেকের ধারণা।
কিন্তু সব শেষে বিএনপির নয়াপল্টনে কর্মসূচি পালন করেত না দেওয়ার কারণে বিএনপির মহা সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৭ তারিখের সমাবেশ ২৮ তারিখে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এখানো স্থান সঠিক করা হয়নি। কিন্তু এদিকে নেতাকর্মীদের দাবি, যতই কিছু হোক না কেন নয়া পল্টনেই মহাসামবেশ পালন করবে তারা।
এদিকে ঢাকার লাগোয়া জেলা নারায়ণগঞ্জ হওয়ায় বর্তমানে এই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের উপরে চড়াও হয়ে উঠেছে সরকার দলীয় পুলিশ বাহিনী। একের পর এক কর্মী বা নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। যাকে ঘিরে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে উত্তেজনা বিরাজমান রয়েছে। অপরদিকে সকলের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতির কারণে এগুলোকে নৈমিত্তিক কাহিনী বলে এড়িয়ে যাচ্ছে। গ্রেফতার ও তল্লাশী বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, মহা-সমাবেশকে কেন্দ্র করে বর্তমানে আমাদের মহানগরে গ্রেফতার চলছে বিকলে আমাদের সদর থানার ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গ্রেফতার হয়েছে, বন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বাবুল হোসেন, মহানগর যুবদলের ১০ নং ওয়ার্ডে সেক্রেটারি মন্জুর হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল সিদ্ধিরগঞ্জের সহ-সভাপতি মোট -৪ জন মহানগর বিএনপির আওতাধীন থেকে গ্রেফতার হয়েছে।
আর এগুলো করে প্রমান হচ্ছে এই প্রশাসন পুরোপুরি আওয়ামী লীগের একটি প্রশাসন। আর এর মাধ্যমেই বুঝা যায় এই প্রসাশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব না। আর বিরোধী দলকে দমন করার জন্যই এই প্রশানকে সাজানো হয়েছে। আর আওয়ামী লীগের নির্দেশ অনুযায়ী হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানী করা হচ্ছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমানে এই সরকারের পুলিশ বাহিনী আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশী করে যাচ্ছে। যার কারণে অনেক নেতাকর্মী কর্মসূচি সফলের লক্ষ্যে নিজ বাসভবন রেখে অন্য জায়গায় অবস্থান করছে। এছাড়া ও বিকেলে আড়াইহাজার থানা বিএনপির সভাপতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে আবার সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক শহিদ সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আর গতকাল তারাব থেকে একজন, আড়াইহাজার থেকে দুইজন, ভুলতা থেকে ১ জন এমন করে অনেক জায়গায় গ্রেফতার চলছে। কিন্তু বিএনপি বর্তমানে চলমান কর্মসূচিতে রয়েছে। যার কারণে আমি মনে করি এই গ্রেফতার পরোয়ানা বিএনপিকে কিছু করতে পারবে না। বিএনপির জনশ্রোতে সব ভাসিয়ে দেওয়া হবে।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু যুগের চিন্তাকে বলেন, ইতিমধ্যে মহা-সমাবেশকে কেন্দ্র করে ফতুল্লা থানা বিএনপির অনেক নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ মহড়া দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনো কোন গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। আর এটা ও কোন নতুন কিছু না এই সরকারের পুলিশ বাহিনীরর আমাদের সকল দলীয় কর্মসূচি এলেই তারা তাদের তল্লাশী কর্মসূচি অবহৃত রাখে যেটার আমরা তীব্র নিন্দ্রা ও প্রতিবাদ জানাই। আর তারা যতই আমাদের নিয়ে তালা বাহানা করুক আমরা আমাদের এই মহা সমাবেশ নয়া-পল্টনেই করবো আর সফল ও করবো।
সোনারগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, মহা-সমাবেশকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন যাবৎই অমাদের সোনারগাঁও থানা এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশী করছে পুলিশ। আর গতকাল সোনারগাঁ থানার আওতাধীন ২জন বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। এছাড়াও আমাদের নয়াপল্টনে সমাবেশ করার জন্য পারমিশন দিচ্ছে না এই সরকার। কিন্তু আমরা এই নয়া পল্টনেই সমাবেশ পালন করবো যে কোন মূল্যেই।
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন যুগের চিন্তাকে বলেন, রূপগঞ্জ বিএনপিকে মহা সমাবেশে যাওয়া থেকে দাবিয়ে রাখতে বর্তমানে পুৃলিশের তল্লাশী চলছে। ইতিমধ্যেই সকল নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করছে পুলিশ।
গতকাল আমাদের জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক সোলেমান মিয়াকে গ্রেফতার করেছে ভিবি পুলিশ। আজকের মধ্যে আরো নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করার সম্ভবনা রয়েছে। কিন্তু আমরা আশাবাদী কোনভাবেই আমাদের দাবিয়ে রাখা যাবে না। সমাবেশ সফল করবোই আমরা।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহা-সমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের পুলিশ বাহিনী আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশী চালিয়ে যাচ্ছে। যেই আতঙ্কে কেউ নিজ বাসভবনে ও অবস্থান নিতে পারছে না।
এমনকি ইতিমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আওতাধীন ১০ নং ওয়ার্ড থেকে ১ জন ও ৩ নং ওয়ার্ড থেকে ২ জন মোট ৩জন বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে এই পুলিশ। কিন্তু কোনভাবেই আমাদের দাবিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। আমরা আগামীকালের মহা-সমাবেশে জনস্রোত সৃষ্টি করবো।
বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণ যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমানে মহা-সমাবেশেকে কেন্দ্র করে আমরা যাতে সকল নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকায় মহা-সমাবেশ সফল না করতে পারি সেই লক্ষ্যে সরকারের পুলিশ বাহিনীরা গতকাল বন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের অনেক নেতাকর্মীর বাসায় তল্লাশী চালিয়েছে, আবার আরেক বিএনপি নেতা কাশেম ভাইকে গ্রেফতার করতে এসেছিল কিন্তু এলাকাবাসী পুলিশকে অনুরোধ করেছে যে সে অনেক অসুস্থ তাকে যাতে গ্রেফতার না করে সেই লক্ষে তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।
অপর দিকে আরেক বিএনপি নেতা বাবুল ভাইকে গ্রেফতার করে কোর্টে চালান দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা বর্তমানে এই মামলা গায়েবী গ্রেফতারিকে ভয় করি না আমরা বিগত দিন থেকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ আমরা যে কোনভাবেই এই মহা-সমাবেশ সফল করবো।
সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা যুগের চিন্তাকে বলেন, আগামী মহা-সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতি মধ্যেই আমাদের সদর থানা বিএনপির আওতাধীন কয়েকটি নেতাকর্মীর বাড়িতে পুলিশের অভিযান অবহৃত রয়েছে। আর আমাদের জানা মতে ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহজালাল সরদারকে সন্ধ্যায় গ্রেফতার করেছে এই বাকশাল পুলিশ। এছাড়া আর কাউকে এখনো গ্রেফতার করেছে কিনা এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। আর যতই বাধা আসুক মহা-সমাবেশকে আমরা ব্যাপকভাবে পালন করবো ইনশাআল্লাহ। এস.এ/জেসি


