শান্তি সমাবেশ ঘিরে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আ.লীগে ব্যাপক প্রস্তুতি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৩, ০৮:০১ পিএম
# সবচেয়ে বড় শান্তি সমাবেশ করতে চাই : শওকত আলী
# সিদ্ধিরগগঞ্জ থেকে ১০০ বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে যাবে : মুজিবুর রহমান
নারায়নগঞ্জ-৪ আসন তথা ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চল নারায়নগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবসময়ই আলোচিত। এবার ঢাকার শান্তি সমাবেশে চমক দেখাতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আ’লীগ। একদিকে সরকার হটানোর লক্ষ্যে ১ দফা কর্মর্সূচি নিয়ে বিএনপির চলো চলো , ঢাকা চলো স্লোগানকে ধারন করে ঢাকায় মহাসমাবেশ অন্যদিকে আ’লীগের গুরুত্বপূর্ন ৩ সংগঠন যথাক্রমে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের শান্তি সমাবেশ।
গুরুত্বপূর্ণ এ দুই দলের কর্মসূচী ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন। বিএনপির জোরালো কর্মসূচির বিপরীতে আ’লীগও শান্তির লক্ষে শান্তি সমাবেশ করে রাজপথ দখলে রেখেছে। ২৭ জুলাই দু দলেরই কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও ১ দিন পিছিয়ে তা ২৮ জুলাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপি তাদের সকল প্রস্তুতি গ্রহন করেছে বলে জানান গেছে। তবে আ’লীগের এ শান্তি সমাবেশ ঘিরে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করতে দেখা গেছে নারায়নগঞ্জ-৪ এর সংসদীয় এলাকা প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের আওতাধীন ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে।
ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের একাধিক আ’লীগ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এমপি শামিম ওসমান তার সংসদীয় আসনের সকল নেতাকে এ সমাবেশ সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এবং সকলেই এই নির্দেশনা মোতাবেক সমাবেশ সফল করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। শান্তি সমাবেশ মূলত সহযোগী অঙ্গ সংগঠনগুলোর হলেও আ’লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীকে যোগদানের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শান্তি সমাবেশ এর লক্ষ এবং এর প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শওকত আলী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে কেউ যেনো কোনো অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, জনগনের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার লক্ষে আমরা মাঠে থাকতে চাই। সেই লক্ষে এই শান্তি সমাবেশ। আমরা জনসমাগমের মাধ্যমে স্মরনকালের সবচেয়ে বড় শান্তি সমাবেশ করতে চাই।
আমরা যে যেভাবে পারি, নৌকায় হোক, বাসে হোক, হেঁটে হোক, আমরা সমাবেশে যাবো। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরা শেখ হাসিনার শান্তি সমাবেশে অংশগ্রহন করবে কারন উন্নয়নের যে ধারা অব্যাহত আছে সে ধারা যেনো অব্যাহত থাকে, ব্যাহত না হয়। জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে যেনো আবার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসতে পারে সেটার নিশ্চয়তা দিতে শান্তি সমাবেশে শান্তির লক্ষে অংশগ্রহন করা হবে।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী জানান, শান্তি সমাবেশ মূলত শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে করা হবে। বিএনপি বিগত দিনগুলোতে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে তার প্রতিবাদে ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করার আদর্শ বুকে ধারণ করে আমরা ফতুল্লা থানা যুবলীগ শান্তি সমাবেশে যোগদান করবো। এমপি সাহেব ইতিমধ্য আমাদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সে নির্দেশনা মোতাবেক শান্তি সমাবেশ সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহন করেছি।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের ১ নং কার্যকরী সদস্য আবু শরিফুল হক জানান, এই সমাবেশের নামকরনের মধ্যে দিয়েই শান্তি সমাবেশের মূল লক্ষ্যে। আমরা জানেন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমরা যেসব উন্নয়ন ভাবতে পারি নাই প্রত্যাশা করতে পারি নাই সে ধরনের উন্নয়ন হয়েছে আর এই উন্নয়নের মাধ্যমেই এ দেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিনত হয়েছে।
এ উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখার জন্য এবং বিএনপির জামাতের নৈরাজ্যে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যেতা। বিএনপির যে আন্দোলন গুলো দেয় তারা কিন্ত ব্যর্থ কেন ব্যর্থ তাদের আন্দোলনের প্রতি জনগনের কোন সমর্থন নেই। যেহেতু বিএনরি আন্দেলন জনগন সমর্থন নেয় না সমর্থন নেই সেহেতু তারা তাদের আন্দোলন বাস্তবায়ন করার জন্য তারা সহিংসতা নৈরাজ্যে করতে পারে বিধায় আমরা শান্তি সমাবেশ করবো। আমাদের সাংসদ জননেতা শামীম ওসমান সাহেব যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেই অনুযায়ী আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি।
নারায়ণগঞ্জের মধ্যে রাজনৈতিক বা জনসমর্থন বলেন জনপ্রিয়তা বলেন সেটা শামীম ওসমান সাহেব সারা বাংলাদেশের মধ্যে বিখ্যাত। আর ওনার যেটা কর্মী সমর্থন সেটা ফতুল্লা থেকে সবচেয়ে বেশি যায়। সেই হিসেবে আমরা ব্যাপক ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউকে ফলো করে না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন হয়েছে, স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি, ভাষা পেয়েছি।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এবং আমরা উন্নয়নের একটা ধারায় চলে এসেছি। আপনারা জানেন বিএনপি আন্দোলনের নামে অরাজকতা গাড়িতে আগুন নানান সহিংসতা করেছে। আমরা আর এই ধরনের সহিংসতা হতে দেবো না। তাদের অরাজকতা প্রতিহত করবো।
এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বিপুল পরিমান লোকজন ঢাকা যাবে। এমপি শামিম ওসমান এ বিষয়ে আমাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা এ শান্তি সমাবেশ সফল করার লক্ষে গতকাল ও মিটিং করেছি। আজ ও করছি। সিদ্ধিরগগঞ্জ থেকে মিনিমাম ১০০ বাস ঢাকার উদ্যেশ্যে যাবে। আমরা মূলত কেউ যেনো সমাবেশ এর নামে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড না করতে পারে সে লক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শান্তি সমাবেশে যোগদান করবো। কেউ যদি অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তবে সেটা যেভাবে পারি প্রতিহত করবো। এস.এ/জেসি


