গতকাল রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী লীগ বিএনপির পাল্টা পাল্টি সমাবেশ ঘিরে রাজপথ টান টান উত্তেজনা ছিল। নারায়ণগঞ্জ ঢাকার লাগোব জেলা হওয়ায় দুই দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে এখানকার রাজনীতিতেও উত্তেজনা কাজ করেছে। কিন্তু বিরোধী দল বিএনপি নেতাদের অভিযোগ রয়েছে ঢাকার সমাবেশে যেতে তাদের পথে পথে বেগাত সহ ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই দিক দিয়ে বিএনপি পরিবহন না পেলেও ক্ষমতাসীন দলের আওয়ামী লীগের নেতারা বাস ট্রাক সহ সকল ধরনের পরিবহন সেবা নিয়ে আওয়ামী লীগের ৩ সহযোগি সংগঠনের শান্তি সমাবেশে যোগদান করেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের কোন বেগাত পেতে হয় নাই। এমনকি তাদের কোন ভোগান্তি পোহাতে হয় নাই।
এদিকে রাজনৈতিক দলের সমাবেশকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে মানুষেল চলাচলের ক্ষেত্রে। সমাবেশের জন্য আগে থেকেই সব বাস রিজার্ভ করে রেখেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ফলে সাধারণ জনগণ পড়েছেন মারাত্মক ভোগান্তিতে। বাস না পেয়ে বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। মানুষকে হেটে চলাচল করতে হয়েছে। তাছাড়া দূরপাল্লার যে সকল বাস চলাচল হয়েছে তাতে প্রশাসেনর তল্লাশীতে হেনস্থার স্বিকার হতে হয়েছে জনগণকে। এই ভোগান্তি যেন দেখার কেউ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে বন্ধন, উৎসব, হিমাচল, শীতল, মৌমিতা, আনন্দা, বোরাক, অনাবিলসহ কয়েকটি পরিবহনের বাস ঢাকায় চলাচল করে। শুক্রবার সকাল থেকে এসব বাসের কাউন্টারগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। সড়কে তেমন কোন বাস চলাচল দেখা যায় নাই। এজন্য নগরবাসি বলছে ঢাকা আওয়ামী লীগ বিএনপি সমাবেশের জন্য বাস চলাচল বন্ধ। কিন্তু খবর নিয়ে দেখা যায় আসলে নারায়ণগঞ্জের সকল বাস ক্ষমতাসীন দল রিজার্ভ করে রেখেছে।
অপরদিকে বাস মালিক সমিতির কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রায় দেড় শতাধিক বাস রিজার্ভ করেছে রাজনৈতিক দল। আর এসকল পরিবহনের অধিকাংশ বাসই রিজার্ভ করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এতে নিয়মিত যাত্রী পরিবহনের বাসের সংকট দেখা দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি দিদারুল ইসলাম জানান, ‘আমি যে তিনটি পরিবহনের দেখাশোনা করি সেখানকার ৭৫টি বাস রিজার্ভ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে দেড় শ’র বেশি হবে।’
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে আওয়ামী লীগ তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘাটি। আমাদের জেলা থেকে প্রায় ৭শ’ বাসে করে নেতা কর্মীরা এসেছে। বিএনপি জামাত সহ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যারা দেশকে ধ্বংস করতে চায় তাদের আমরা ছাড় দিব না। আমাদের পূর্ব পুরুষ ৭১ এর স্বাধীনতার সময় স্লোগান দিয়েছে বীর বাঙালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর। আর আজকে আমরা স্লোগান দিয়েছি বীর বাঙালী ঐক্য গড় বাংলাদেশ রক্ষা কর। দেশকে রক্ষার জন্য শেখ হাসিনাকে দরকার। তিনি আরও বলেন, আমি যখন ছাত্রলীগে ছিলাম তখন আজকের মত স্লোগান দিয়েছি। এজকে ৬২ বছর বয়সে এসে আমরা মনে হচ্ছে আমি ২৫ বছরের যুবকে ফিরে গেছি।এসময় তিনি স্লোগান দিয়ে রাজপথ কম্পন ধরান।
মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, অর্ধলক্ষাধিকরে বেশি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা কর্মীরা এমপি শামীম ওসমানের নেতৃত্বে যোগদান করেন। ‘নারায়ণগঞ্জ থেকে সমাবেশে যোগ দিতে আমরা ৩৫০টি বাস ও ১৫০ ট্রাক ভাড়া করেছি।
অন্যদিকে, সমাবেশের জন্য একটি বাসও আগে থেকে রিজার্ভ করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন বিএনপি। এনিয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, ‘আমরা ৩-৪ দিন আগে থেকে বাস রিজার্ভের জন্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের কারনে আমাদের দেয়া হয় নাই। আর এজন্য আমাদের নেতাকর্মীরা অটোরিকশায় ভেঙে ভেঙে, পিকআপে, ট্রাকে, বাসে বিভিন্নভাবে সমাবেশে যোগদান করেছে। এছাড়া বাস পরিবহনের মালিকরা এখন ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রনে চলে। তাই তারা আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে হ্যা বলে আর বিএনপি রিজার্ভ করতে গেলে আমাদের ক্ষেত্রে না বলে।


