পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে মাঠে গিয়াসউদ্দিন-শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৩, ০৯:১১ পিএম
# গতকাল ঢাকায় দুই দলের কর্মসূচিতে মিছিল নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন দুই নেতা
# আগামী দিন গুলিতে আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি
ঢাকায় গতকাল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দল পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করেছে। বিএনপি পল্টনে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিশাল মহাসমাবেশ করেছে। আর বিপরিতে আওয়ামী লীগ বাইতুল মোকার্রম মসজিদের উত্তর গেইটে তারুন্যের শান্তি সমাবেশ করেছে। তবে দুটি সমাবেশেই যোগ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের দুই নেতা। এরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং একই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। জানা গেছে দুই নেতাই নারায়ণগঞ্জ থেকে তাদেও নিজ নিজ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে গিয়াস উদ্দিন ও শামীম ওসমান এই জেলায় দুই দলের দুই আলোচিত নেতা। দুইজনেই দক্ষ সংগঠক। একবার ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হলে গিয়াস উদ্দিনের কাছে শামীম ওসমান প্রায় ত্রিশ হাজার ভোটের ব্যাবধানে হেরে গিয়েছিলেন। তাই এই দুই নেতার মাঝে আরো আগে থেকেই রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি অংশগ্রহনমূলক হয় তাহলে আবারও গিয়াস উদ্দিন ও শামীম ওসমানের মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জবাসী সবাই। সেই ক্ষেত্রে ফলাফল যে কি হবে সেটা এখনই বুঝা যাচ্ছে।
এদিকে গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির হাল ধরার পর থেকে এই জেলায় সাংগঠনিক ভাবে খুবই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বিএনপি। দলটির আভ্যন্তরিন সূত্রগুলি জানিয়েছে গিয়াস উদ্দিন আহবায়কের দায়িত্ব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দল গুছানোর কাজে হাত দেন। তিনি জেলার সব কয়টি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা এবং পৌর কমিটি গঠন করে ফেলেন। ফলে পনেরো বছর পর কেবল মাত্র জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছাড়া বাকী সব কমিটি গঠন করতে সক্ষম হন তিনি। যার ফলে এই মুহুর্তে বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ঢল নামে এবং তাদের সঙ্গে যোগ দেন সাধারন মানুষও। যার ফলে গতকাল নারায়ণগঞ্জ থেকে সবচেয়ে বড় মিছিল নিয়ে পল্টনের সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন গিয়াস উদ্দিন। প্রত্যক্ষ্যদর্শীদের মতে প্রায় লাক্ষাধিক লোক এই মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। এতে পল্টনের পূর্ব দিকে প্রায় এক কিলোমিটার জুরে ছিলো নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মী সমর্থকদের অবস্থান।
অপরদিকে গতকাল আওয়ামী লীগের যুব সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানও। তিনি নিজে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে ষাইট হাজার লোক তার নেতৃত্বে বাইতুল মোকাররম পূর্ব গেইটের আওয়ামী লীগের এই যুব সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।
এদিকে গতকাল মহাসমাবেশ থেকে বিএনপি নতুন কর্মসূচি ঘোষনা দিয়েছে। তারা সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রাজধানীর প্রবেশ মুখ গুলিতে অবস্থান ধর্মঘট করবেন। তাই অনেকে বিএনপির এই কর্মসূচিকে কার্যত ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি হিসাবে অবহিত করেছেন। এতে আজ শনিবার রাজধানীতে কোনো গাড়ি প্রবেশ করায় বিঘ্ন সৃষ্টি হবে বলেই অনেকে মনে করেন। তবে রাজনৈতি পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন বিএনপি বর্তমান সরকার পতনের এক দফা দাবিতে লাগাতার কর্মসূচির দিইে যাচ্ছে। এতে আগামী দিনগুলিতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে পরবে বলে অনেকে মনে করেন। কারন বিএনপির এই কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচিযে আওয়ামী লীগ ঘোষনা করবে এতে কারোই কোনো সন্দেহ নেই। তাই সরকার যদি বিএনপির দাবি মেনে না নেয় তাহলে মারাত্বক সংঘাতের দিকে দাবিত হবে দেশের সার্বিক রাৈিজতক পরিস্থিতি। তাই বিএনপির আজকের অবস্থান কর্মসূচির বিপরিতে আওয়ামী লীগও যে মাঠে নামবে এতে অনেকের মাঝেই কোনো সন্দেহ নেই। তাই শামীম ওসমানও মাঠে নামেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারন গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেবে বলে জানা গেছে।


