Logo
Logo
×

রাজনীতি

না.গঞ্জে কোন দিকে জাপা’র রাজনীতি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৩, ০৮:৪৬ পিএম

না.গঞ্জে কোন দিকে জাপা’র রাজনীতি
Swapno

 

# জলা উপজেলা নেতৃবৃন্দের মধ্যে অভিভাবক শূন্যতা রয়েছে বলেও অনেকের দাবি

 

 

নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারকেই জেলা আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নীতি নির্ধারক বলে মনে করা হয়। নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে সর্ব মহলে পরিচিত আলহাজ্ব একেএম শামীম ওসমান। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির দূর্গ নির্মাণ করেছিলেন প্রয়াত সাংসদ একেএম নাসিম ওসমান। তাঁর জীবদ্দশায় যেভাবে জেলা জাতীয় পার্টির ভীত মজবুত করেছিলেন তিনি বর্তমানে সেই ভতি আর নেই বলেও অনেকের মন্তব্য।

 

নাসিম ওসমান  বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির হয়ে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের ১৮ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য নাসিম ওসমানকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে পারভীন ওসমান নির্বাচন করবেন বলে একটি কথা চাউর ছিলো।  

 

কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাসিম ওসমানের ভাই সেলিম ওসমানকে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এরপর থেকে এই আসনটিতে সেলিম ওসমানই জাতীয় পার্টির এমপি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে জেলা জাতীয় পার্টির মধ্যে দুটি ধারা বিদ্যমান রয়েছে বলে জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দের মন্তব্য। তবে জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দকে নিজের বলয়ে নিতে পারভীন ওসমান আগে থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

 

ইতিমধ্যে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে পদ পেয়েছেন পারভীন ওসমান। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দল থেকে মনোয়ন চাইবেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত পারভীন ওসমান মনোনয়নের দৌড়ে কতোটা টিকে থাকবে এ নিয়েও বিস্তর আলোচনা রয়েছে। তবে জেলা উপজেলা নেতৃবৃন্দের মধ্যে অভিভাবক শূন্যতা রয়েছে বলেও অনেকের দাবী।

 

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের সঙ্গে মহাজোটের শরীক দল ছিল জাতীয় পার্টি। ওই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিম ওসমান। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসন থেকে মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নাসিম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসন থেকে জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচিত হন।

 

২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান মৃত্যুবরণ করলে ওই বছরের ২৬ জুন উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই উপনির্বাচনে আবারো জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয় আওয়ামীলীগ। উপ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছোট ভাই সেলিম ওসমান। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক এমপি এস এম আকরামকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসন ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয় আওয়ামীলীগ। ওই নির্বাচনেও এই দু’টি আসন থেকে আওয়ামীলীগ কোন প্রার্থী দেয়নি। যদিও এই দু’টি আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিল কমপক্ষে ২০ জন আওয়ামীলীগ নেতা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো এই দু’টি আসন থেকে নির্বাচিত হন সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকা।

 

যদিও বিরোধী দলের সাংসদ তারা তবে উভয়েই সরকার ঘরানার বলেই সর্বমহলে পরিচিত। প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান যেভাবে যেভাবে জাতীয় পার্টির নেতাদের সুখে দুঃখে পাশে থেকে কাজ করেছেন অদৃশ্য কারনে এখন জেলা জাতীয় পার্টির নেতাদের দৈন্যদশা চলছে বলে অনেক জাতীয় পার্টি নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির একজন নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির দুইজন সাংসদ। তবে এর মধ্যে ওসমান পরিবারের অন্যতম রাজনৈতিক পুরোধা নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর এখন অনেকটা অভিভাবক শূণ্য হয়ে আছে কর্মীরা। সাংসদ সেলিম ওসমান দানবীর হিসেবে খ্যাত। তবে রাজনীতি অন্য বিষয়।

 

অপর দিকে প্রয়াত নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমান যদিও কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য তাকে নেতাকর্মীরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে অনেক সময় দেখা করতে পারেন না। তিনি বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। অপরদিকে জেলা জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দও কোন সিদ্ধান্ত তার কাছ থেকে নিয়ে কার রোষানলে পড়েন এ নিয়েও অনেক সময় নেতৃবৃন্দ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন।

 

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির অবিসংবাদিত নেতা। তিনি জাতীয় পার্টিকে এই জেলায় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর শক্তহাতে জেলা জাতীয় পার্টির হাল ধরেছেন নাসিম ওসমানের ভাই সেলিম ওসমান।

 

তাঁর বলিষ্ট নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবী করেন। সানু আরো বলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে নারায়ণগঞ্জে পারভীন ওসমান, সাংসদ সেলিম ওসমান, সাংসদ লেয়াকত হোসেন খোকাসহ বেশ কয়েকজন। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা অভিভাবক শূন্যতায় নয়। পারভীন ওসমানও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এস.এ/জেসি

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন