সাম্প্রতিক সময়ে এসে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসেনর এমপি একেএম শামীম ওসমান বার বার নারায়ণগঞ্জে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে বসতে চাইলেও কোনো মতেই আইভী তার সাথে বসতে চান না এবং এক সাথে মঞ্চে উঠতে চান না। তবে এরই মাঝে একবার আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে আইভী ও শামীম ওসমান ওসমানী স্টেডিয়ামে এক মঞ্চে উঠলেও সেটা ছিলো একেবারেই মেয়রের অনিচ্ছা সত্ত্বেও।
এছাড়া বিগত এক যুগে তাদেরকে আর কখনোই এক মঞ্চে দেখা যায়নি। মেয়র কেনো কোনো মতেই শাীম ওসমানের মুখোমুখী হতে চাইছেন না। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ শহরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে আইভী ও শামীম ওসমান এক মঞ্চে উঠার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আইভী আসেননি। যদিও আইভী বিগত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ্য বলে জানিয়েছেন।
তবে বাস্তবতা হলো মেয়র আইভী কোনো মতেই এমপি শামীম ওসমানের সাথে এক মঞ্চে উঠতে চাননা। কিন্তু কেনো? কেনো তিনি কখনোই শামীম ওসমানের মুখোমুখী হতে চাননা? তার কারন অনেকে। মেয়র আইভী ও তার অনুসারীদের মতে কয়েকটি কারন নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো।
আইভীর সাথে সিটি নির্বাচনে হারার পর গোটা শহরে আইভীর অশ্লীল পোষ্টার লাগানো হয়েছিলো :
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও মেয়র আইভী। ওই নির্বাচনে অনেক নাটকীয়তার পর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন শামীম ওসমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন আইভী। কিন্তু সেই নির্বাচনে আইভীর কাছে এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে যান শামীম ওসমান। কিন্ত সেই পরাজয়ের জ্বালা ভুলতে পারেননি শামীম ওসমান।
পরে দেখা যায় হঠাৎ এক রাতে গোটা সিটি করপোরেশন এলাকায় আইভীর অশ্লীল পোষ্টার দিয়ে ছেয়ে ফেলা হয়। আইভীপন্থীদের মতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে আইভীর বিরুদ্ধে খুবই কুরুচিপূর্ণ এবং নোংরা ভাষা ব্যবহার করে এসব ব্যানার পোষ্টার লাগানো হয়। তখন নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মাঝে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এতে আইভীর কোনো ক্ষতি হওয়াতো দূরের কথা আরো লাভ হয়। আইভীর প্রতি নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের সহানুভুতি আরো বেড়ে যায়।
বরং উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হন শামীম ওসমান। তবে ওই সময় মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে যে ধরনের কুরুচিপূর্ণ আর নোংরা পোষ্টার লাগানো হয়েছিলো সেটা এখানে লিখনীর ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাই আইভী সেটা ভুলে যাননি এবং কখনোই ভুলে যাওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি বহুবার অনেকের সাথে বলেছেন। কারণ শামীম ওসমানের সাথে ভোটে জিতাটা তার কোনো অপরাধ ছিলো না। তাই এমন একজন রুচিহীন মানুষের সঙ্গে তিনি কখনোই এক সাথে বসতে চান না বলে তার অনুসারী অনেকেই জানিয়েছেন এবং তিনিও বার বার বলে আসছেন।
আইভীর বরিুদ্ধে বার বার দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন শামীম ওসমান:
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে একজন দুর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধি হিসাবে প্রমান করার জন্য শামীম ওসমান সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। তিনি আইভীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে একর পর এক অভিযোগ করেছেন। এমন কি তিনি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়েও আইভীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেছেন। শামীম ওসমানের অনুগত পত্রিকাগুলিতে এসব আবার ফলাও করে রিপোর্ট হয়েছে। ফলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইভীর বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির অভিযোগ গুলো ব্যাপক তদন্ত করেছে।
কিন্তু তারা কোনো দুর্নীতি খুঁজে পাননি। প্রমান হয়েছে আইভীর সাথে দুর্নীতির দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে দুদক তদন্ত শেষে পরিস্কার ভাবেই বলেছে মেয়র আইভী কোনো রকম দুর্নীতির সাথে জড়িত নন। কিন্তু শামীম ওসমানের এই আচরন ভুলতে পারছেন না মেয়র। মেয়রের অভিযোগ সংসদ সদস্য শামীম ওসমান অযথাই মেয়রকে দূর্ণীতিবাজ, চোর বানানোর জন্য এমন কোনো অপচেষ্টা নেই যা তিনি করেন নাই। এ কারেনও আইভী শামীম ওসমানের সাথে এক সাথে বসতে চান না বলে তার অনুসারীরা জানান।
শেখ রাসেল পার্ক নির্মানে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে বাধা দানের অভিযোগ :
নারায়ণগঞ্জ শহরবাসীর জন্য বিনা মূল্যে এখন একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে শেখ রাসেল পার্ক। আর এই শেখ রাসেল পার্ক নির্মানে নানা ভাবে বার বার বাধা দিয়েছেন সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। মেয়র আইভী যেহেতু রেলওয়ের জায়গায় এই দৃষ্টিনন্দন পার্কটি নির্মান করেছেন তাই রেলওয়ে মন্ত্রী থেকে শুরু করে সচিব সহ এই মন্ত্রনালয়ের সকল পর্যায়ে যোগাযোগ করে এই পার্কটি নির্মানে বাধা দিয়েছেন মেয়র আইভী। কিন্তু এ বিষয়ে মেয়র ছিলেন অবিচল অদম্য। তিনি কোনো মতেই এই পার্ক নির্মানে থামেননি।
একবার রেলওয়ে মন্ত্রী এসেও কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আইভী সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও রেলওয়ে মন্ত্রীকে এই পার্ক নির্মানের সুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে শেষ পর্যন্ত পার্কটি নির্মান করতে সক্ষম হয়েছেন। এমন কি পার্কটিকে তিনি শহীদ শেখ রাসেলের নামে নামকরন করে শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে নন্দিত একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রে পরিনত করেছেন। গাছগাছালি আর পাখপাখালিতে ভরা এই পার্কটি এখন গোটা নারায়ণগঞ্জ শহরবাসীর জন্য মনোরম এক সুন্দরতম স্থান। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ গিয়ে বিশ্রাম নেন। ভোরে শরীর চর্চা করেন। কিন্তু শামীম ওসমানের নির্মম বাধাদানকে ভুলতে পারছেন না মেয়র আইভী।
আইভীকে এবং তার পিতাকে জামায়াত শিবিরের সহযোগী বানানোর চেষ্টা :
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার আইভী এবং তার পিতা প্রয়াত জননেতা আলী আহম্মদ চুনকাকে বার বার জামায়াত শিবিরের সহযোগী বানানোর চেষ্টা করেছেন শামীম ওসমান। অথচ এই শহরের রাজনীতিতে শামীম ওসমানের পিতা একেএম শামসুজ্জোহা এবং আইভীর পিতা আলী আহম্মদ চুনকা ছিলেন কিংবদন্তি তুল্য জননেতা। আইভী কখনোই শামসুজ্জোহাকে কটুক্তি করে কোনো বক্তব্য দেননি। কিন্তু শামীম ওসমান আইভীকেতো ছাড়েনই নাই বরং আলী আহম্মদ চুনকাকেও ছাড় দেন নাই।
বরং জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর মাওলানা মঈন উদ্দিন আহম্মদকে ফতুল্লা থানায় গ্রেফতার করার পর তার বক্তব্য দিয়ে একটি নাটক সাজিয়েছিলেন। মাওলানা মঈনুদ্দিনকে ধরে নিয়ে থানার ভেতর তার বক্তব্য রেকর্ড করেন যাতে তিনি বলেন এক সময় আইভীর পিতা আলী আহম্মদ চুনকার সাথে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিলো। আইভীর সাথেও তাদের সম্পর্ক রয়েছে। তাকে দিয়ে আরো অনেক কথা বলিয়ে তা রেকর্ড করে অডিও ক্লিপিং আকারে সোসস্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেয়া হয়।
তখন আইভী বলেছিলেন এই নাটকের লেখক শামীম ওসমান, পরিচালক ওসি মঞ্জুর কাদের আর অভিনেতা মাওলানা মঈনুদ্দিন। তবে মাওলানা মঈনুদ্দিন কারাগার থেকে জামিন পাওয়ার পর এসে তিনি বলেছিনে তার কথা এডিট করে সোস্যাল মিডিয়ায় ছাড়া হয়েছে। কারন তিনি শামীম ওসমানের পিতা শামসুজ্জোহার নামও বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন আলী আহম্মদ চুনকা এবং শামসুজ্জোহা উভয়ের সঙ্গেই তাদের বেশ ভালো সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু অডিও ক্লিপিং থেকে শামসুজ্জোহার অংশটি বাদ দেয়া হয়েছে।
কিন্তু বঙ্গবন্ধুর একজন সহকর্মী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আস্থাভাজন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংঘটক হওয়ার পরেও আইভীর পিতা আলী আহম্মদ চুনকাকে যেভাবে আক্রমন করা হয়েছে সেটি মেনে নিতে পারেননি মেয়র আইভী। তাই কোনো মতেই আর তিনি শামীম ওসমানের মুখোমুখী হতে চান না বলে আরো আগেই জানিয়েছেন মেয়র আইভী।
বিগত নির্বাচনের আগে আইভীকে মসজিদ, মন্দির ও মাদ্রাসার জমি দখকারী হিসাবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা:
মেয়র আইভীর অভিযোগ মতে বিগত নির্বাচনের আগে আইভীকে ঘায়েল করার জন্য সাম্প্রদায়িক উস্কানী দিয়েছিলন শামীম ওসমান। তিনি তখন হিন্দু এবং মুসলিম উভয় ধর্মের লোকদের মাঠে নামিয়েছিলেন। দেওভোগে মন্দিরের পুকুর দখল, ডিআইটি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার প্রোপাগান্ডা, চাষাঢ়ার বাগে জান্নাত মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা এবং জমি দখলের অভিযোগ এবং মাসদাইর কবরস্থানের মসজিদ ও মাদ্রাসা ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ তোলা হয়েছিলো মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে।
তখন অনুগত কিছু হিন্দু নেতা এবং মুসলিম মাওলানাকে মাঠে নামিয়েছিলেন শামীম ওসমান। তবে এই ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত ভাবে ব্যর্থ এবং সমালোচিত হয়েছিলেন শামীম ওসমান। বরং তার হয়ে যারা মঠে নেমেছিলেন নারায়ণগঞ্জের আপামর জনসাধারনের কাছে তারা নাজেহাল হয়েছেন এবং হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন। কিন্তু শামীম ওসমানের এমন আচরন আজও মেনে নিতে পারেননি আইভী।
শ্মশানের মাটি শামীম ওসমানের পূর্ব পুরুষদের কবরস্থানে দেয়ার অভিযোগ :
ওই সময় মেয়র আইভী তার মাকে হারিয়েছিলেন। শোকে কাতর ছিলেন তিনি। হঠাৎই শামীম ওসমান একদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে মাসদাইর কবরস্থানে গিয়ে হাজির হন। তিনি তখন অভিযোগ করেন শ্মশানের মাটি তুলে এনে তার পূর্ব পুরুষদের কবরে দেয়া হয়েছে। এটা নিয়ে হুলস্থুল কান্ড বাধিয়ে দেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো কবরস্থান এবং শ্মশানের পাশে যে পুকুরটি রয়েছে এই পুকুরটি বাধাই করার জন্য খনন করা হচ্ছিলো। ফলে মাটি তুলে পুকুরের পাশে রাখা হয়েছিলো।
কিন্তু শ্মশানের মাটি এনে ওসমান পরিবারের কবরে কেউই দেয়নি। পরে বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু এই অভিযোগ করে মা হারানোর শোকে কাতর আইভীকে তখন যথেষ্ঠ হয়রানী করা হয়েছিলো। এটা আইভী সহজে ভুলে যাবেন অনেকেই এটা মনে করেন না। কারন মেয়র আইভীর মতে পূরো ঘটনাটিই ছিলো মনগড়া এবং মেয়রকে বিব্রত করার জন্য।
বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে আইভীর উপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা :
নরায়ণগঞ্জ শহরে শামীম ওসমানের উপস্থিতেই তার অনুসারীরা শহরের সায়াম প্লাজার সামনে মেয়র আইভীর উপর নির্মম হামলা চালিয়েছিলো। মেয়র আইভীর অভিযোগ ওই দিন তাকে হত্যা করার চেষ্টা চালানো হয়েছিলো। আইভী চেযেছিলেন অন্তত বঙ্গবন্ধু সড়কটির ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে। ফলে তখন ফুটপাত দিয়ে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছিলেন মেয়র আইভী। তখন তিনি নারায়ণগঞ্জের মুরুব্বীগন সহ বহু মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেটে সায়াম প্লাজার সামনে আসলে সেখানে তার উপর হামলা চালানো হয়।
তখন শামীম ওসমানের অনুসারী নিয়াজুল পিস্তল বের করলে আইভী সমর্থকরা তাকে বেদম প্রহার করে। আর শামীম ওসমান সমর্থকরা তখন আইভীর উপর ইট বৃষ্টি নিক্ষেপ করে। প্রায় আধা ঘন্টা ধরে চলে এই লড়াই। তখন ইটের আঘাতে মেয়র আইভী রাস্তায় পরে যান এবং গুরুতর আহত হন। এতে তিনি অনেকদিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নেন।
কিন্তু এই ঘটনার জন্য শামীম ওসমানকে দায়ী করে আইভী বলেন নারায়ণগঞ্জবাসীর পায়ে হাঁটার অধিকার কেড়ে নিতে শামীম ওসমান সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে এই শহরে বহিরাগত এবং অবৈধ হকারদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেদিন আইভীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিলো। তাই তিনি শামীম ওসমানকে ক্ষমা করবেন না এবং তার সাথে এক মঞ্চে উঠবেন না বলেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে তার অনুসারীরা জানান।
তানভির মুহম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ড:
নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার তানভির মুহম্মদ ত্বকীর পিতা এবং ত্বকী মঞ্চের নেতৃবৃন্দ বছরের পর বছর ধরে এই হত্যাকান্ডের জন্য ওসমান পরিবারকে দায়ী করে আসছেন। তাদের মতে ত্বকী হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়ার মূল কারন হলো এই ওসমান পরিবার। কারন তারা হত্যা করেছে বলেই বিচার হচ্ছে না। অন্য কেউ হত্যা করলে নিশ্চয়ই এতোদিনে ত্বকী হত্যার বিচার হয়ে যেতো।
আর এখানে আইভীর মতামত হলো তিনি যখন সিটি নির্বাচনে শামীম ওসমানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন তখন ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বী রাতদিন একাকার করে আইভীর জন্য কাজ করেন। ওই নির্বাচনে রাব্বী আইভীর পক্ষে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। রাব্বী তার অনুগত সাংস্কৃতিক কর্মীদেরকে আইভীর পক্ষে মাঠে নামান। মূলত এ কারনেই নির্বাচনের পর রাব্বীর পুত্র ত্বকীকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। ফলে বিষয়টি মেয়র আইভীর বিবেকে দারুন ভাবে নাড়া দেয়।
আইভী মনে করেন রাব্বী যদি আইভীর হয়ে মাঠে না নামতেন তাহলে হয়েতো তার এই মেধাবী পুত্রকে এভাবে জীবন দিতে হতো না। ফলে মেয়র আইভী রফিউর রাব্বীর প্রতি তীব্র সহানুভুতি পোষন করেন এবং যথারীতি বছরের পর বছর ধরে ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে এসেছেন। অনেকের মতে মূলত ত্বকী হত্যার বিচার চাওয়ার কারনেই শামীম ওসমান এভাবে বার বার আইভীর উপর জুলুম চালিয়ে এসেছেন। কিন্তু অদম্য আইভী কিছুতেই শামীম ওসমানের কাছে নতি শিকার করেননি। এবং আজও টিকে আছেন।
মূলত আলোচিত এসব কারণ ছাড়াও আরো এমন বহু কারন রয়েছে যা কিনা আইভীকে রাজনৈতিকভাবে শামীম ওসমানের কাছ থেকে বহু দূরে ঠেলে দিয়েছে। ফলে আইভী মনে করেন শামীম ওসমান সুযোগ পেলেই তার ক্ষতি করতে এক মুহুর্ত্বও দেরী করবেন না। ফলে আইভী কোনো মতেই শামীম ওসমানের সাথে এক মঞ্চে উঠতে চান না বলে জানা গেছে। এস.এ/জেসি


