আগামী নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠ এখন টান টান উত্তেজনা। কর্মসূচি নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি রাজপথে দখলে রয়েছেন। কেউ কাউকে কোন ভাবে ছাড় দিচ্ছে না রাজপথে।
পাল্টা পাল্টি কর্মসূচি দিয়ে গত বছর থেকে রাজনীতির মাঠ গরম রেখেছে এই দুই দল। তবে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগি সংগঠন রাজপথে থাকার পাশা পাশি সাংগঠনিক ভাবেও দল গুছিয়ে নিচ্ছেন। একদিকে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অপর দিকে সাংগঠনিক ভাবে দলকে গুছিয়ে ঢেলে সাজাচ্ছে।
তারই ধারাবাহিকতায় সকল জল্পনা কল্পনা শেষে দীর্ঘ ১৯ মাস পর ৩১ জুলাই জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই সম্মেলনে কমিটি ঘোষনা না হওয়ায় জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদ প্রত্যাশীরা হতাশ হন। এদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নাম নিলেই সবার আগে উঠে আসে সাংসদ শামীম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর নাম।
ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় রাজনীতিতে এই দুই জনপ্রতিনিধির ব্যপক প্রভাব রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান অনুসারীদেরকে উত্তর মেরু হিসেবে জানেন। তাদের বিপরীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী অনুসারীদের দক্ষিন মেরু হিসেবে চিনে থাকেন।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় কমিটি থেকে শুরু করে মনোনয়নে এই জনপ্রতিনিধির প্রভাব বিস্তার রয়েছে। তাদেরকে বাদ দিয়ে দলের হাই কমান্ডও অন্য চিন্তা করতে পারেন না। তাই এবার মেয়র আইভী এবং এমপি শামীম ওসমানের সমন্বয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হতে যাচ্ছে। আর এ নিয়ে জোরালো ভাবে শহর জুরে আলোচনা হচ্ছে।
এখানকার নতুন কমিটিতে যারা আসতে চাচ্ছে তারাও উত্তর দক্ষিন মেরুর জনপ্রতিনিধিদের অনুসারী। জানাযায়, জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনকে সফল ভাবে সম্পন্ন করেন। এছাড়া সভাপতি সেক্রেটারি পদ প্রত্যাশী নেতারা বিশাল মিছিল নিয়ে কেন্দ্রী নেতাদের নজর কাড়েন।
তবে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগে নতুন কমিটিতে কারা আসছে তা নিয়ে নেতা কর্মীদের মাঝে ব্যপক আলোচনা উঠেছে। আর এনিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উত্তর দক্ষিন মেরুর পদ প্রত্যাশী নেতারা দৌর ঝাপ করছেন। কিন্তু কারা কমিটিতে আসছে তা নিয়ে জটিল সমী করণ তৈরী হয়েছে।
এই সমীকরণে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদে জুয়েল হোসেন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া তিনি এর আগেও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সাথে এবার সভাপতি পদে আসার জন্য সৈয়দ সাদিম হোসেন, মারুফুল ইসলামও রয়েছেন।
তবে এখানে শহরের ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির উত্তর মেরুর এমপি শামীম ওসমান অনুসারী হিসেবে পরিচিত জুয়েল হোসেন।অপরদিকে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে উত্তর মেরুর চেয়ে দক্ষিন মেরুর পাল্লা ভাড়ি। এখানে তিন জন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রয়েছেন।
তার মাঝে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটিতে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব্ পালন করেছেন কায়কোবাদ রুবেল। এছাড়া দীর্ঘ ১৯ মাস মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগকে শক্তিশালী করার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করেছে। সেই সাথে রুবেল সাধারণ সম্পাদক পদে তৃনমূলের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন।
তার সাথে দক্ষিন মেরু থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা যুবলীগের তথ্য গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক তাহের উদ্দিন সানিওয় রয়েছেন। তিনিও কোন অংশে পিছিয়ে নেই। তাছাড়া মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন প্রধান দুলালও সম্মেলনে একই পদে প্রার্থী হয়েছেন।
যদিও তাকে নিয়ে দলের মাঝে বিতর্ক রয়েছে। তাই এই দিক দিয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগে সাধারণ সম্পাদক পদে কায়কোবাদ রুবেল তৃনমূল নেতা কর্মীদের কাছে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে তার সখ্যতাও রয়েছে। সম্প্রতি তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। দলীয় কর্মসূচিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন।
উল্লেখ্য ২০২২ সনের ১৬ জানুয়ারি এখানকার জেলা মহানগর সকল থানা ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে তখন স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিলুপ্ত কমিটির দায়িত্বরত ব্যক্তিরা নৌকার পক্ষে কাজ না করায় এই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। আর এজন্য দের বছরের বেশি সময় এখানে কমিটি বিহীন হয়ে থাকে। তবে এই দের বছরে দলীয় কার্যক্রম বন্ধ ছিলনা।
জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদপ্রত্যাশী নেতারা নিজেদের মত করে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। সেই সাথে নেতা দলীয় কর্মসূচিতে নেতা কর্মীদের চাঙ্গা রেখেছেন। বিগত দিনে যারা দলকে ধরে রেখেছেন তাদের নেতৃত্বে যেন কমিটি আসে এই প্রত্যাশা তৃনমুল নেতা কমীদের। এন. হুসেইন রনী /জেসি


