Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনএফ এর সাবেক নেতা টিপুর অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে সমালোচনার ঝড়

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৩, ০৭:৩৪ পিএম

বিএনএফ এর সাবেক নেতা টিপুর অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে সমালোচনার ঝড়
Swapno

 

# বানরের হাতে আতর তুলে দিয়েছেন সাখাওয়াত, মাশুল গুনতে হবে তাকেই

 

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক আবু আল ইউসুফ খান টিপু দলের কেন্দ্র থেকে দেয়া মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের খবরে বিএনপির ভেতরে তোলপাড় চলছে। বইছে সমালোচনার ঝড়। নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত একটি সহযোগী পত্রিকায় গত কয়েকদিন টিপুর এই অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে ধারাবাহিক রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছে। এরই মাঝে এডভোকেট আবুল কালামপন্থী নেতারা এই অর্থ ক্যালেংকারীর তদন্ত দাবি করেছেন।

 

টিপুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হলো বিএনপির কর্মসূচি পালনের নামে দলটির কেন্দ্র থেকে টিপু আট লাখ টাকা অনুদান আনেন। কিন্তু সেই টাকা দলের স্বার্থে খরচ না করে নিজে আত্মাসাৎ করেন। তাই তার এই অর্থ কেলেঙ্কারির কারনে মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানও বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

 

এদিকে আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব করা নিয়েও শুরুতেই ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। এই মহানগরে বিএনপির নব্বই শতাংশ নেতাকর্মী মনে করেন দলের এতো বড় পদের যোগ্যতা টিপুর নেই। তার অতীত ইতিহাস পুরোটাই বিএনপির বিরুদ্ধে। দলের প্রবীন এবং প্রয়াত বহু নেতাকে এই টিপু নানা ভাবে নাজেহাল করে এসেছে।

 

প্রয়াত রফিক কমিশনার, জাহাঙ্গীর কমিশনার, বর্ষিয়ান নেতা মজিদ কমিশনার, দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, সাবেক এমপি এডভোকেট আবুল কালাম, প্রবাসী নেতা এটিএম কামাল এবং এমন কি খোদ দলের বর্তমান আহ্বায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সহ বহু নেতা কর্মী এই টিপুর দ্বারা নাজেহাল হয়েছেন। তাই এক সময় সে পাকনা টিপু, বেয়াদব টিপু ইত্যাদি বিশেষনে ভুষিত হয়েছিলেন।

 

তাকে পাকনা টিপু না বললে এখনো অনেকেই তাকে চিনেন না। তবে এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান তার মতো একজন আত্বঘাতী ব্যক্তিকে এতো বড় পদে বসানোর কারনে তাকে এখন খেসারত দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে এই দলের সর্ব স্থরের নেতাকর্মী সমর্থকরা। কারন টিপু এক সময় সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে বেশ জোরালো ভাবে অভিযোগ তুলেছিলেন যে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নাকি সাখাওয়াৎ দুই কোটি নিয়েছে শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের কাছ থেকে।

 

একদিন নয়, দুদিন নয়, দিনে পর দিন বেশ জোরালো ভাবে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছে টিপু। আর সাখাওয়াতকে যে ওই নির্বাচনে ওসমান পরিবার সহযোগীতা করেছে এটাও সত্য বলে মনে করেন এই শহরের অনেকে। কিন্তু দুই কোটি টাকা দেয়ার গল্প কেউ বিশ্বাস করে নাই। টিপু তার এই বক্তব্যের কোনো জোরালো প্রমান দিতে পারেন নাই।

 

কিন্তু তার পরেও সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে এতো বড় অভিযোগ তোলার পর সেই সাখাওয়াতই আবার কিভাবে তাকে কোলে তুলে নিলেন সেই প্রশ্ন আরো আগেই উঠেছে বেশ বড় করে। তাই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন এই ভুলের জন্য অবশ্যই পস্তাতে হবে সাখাওয়াতকে। কারন তিনি বানরের হাতে আতর তুলে দিয়েছেন। আর বানর আতর পেলে সেই আতর কোথায় নিয়ে লাগায় সেই প্রবাদতো অনেকেরই জানা।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলায় টিপু একজন বিএনপি বিন্যাসী ব্যক্তি হিসাবেও পরিচিত। কারন এই জেলায় তিনিই বিএনএফ গঠন করেছিলেন। আর এই বিএনএফের আহ্বায়ক হয়েছিলেন তিনি নিজে। এছাড়া বরাবরই টিপু আতাতের রাজনীতি করে এসেছেন। তিনি যখন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন তখন প্রতিপক্ষ দলের সাথে আতাতের কারনে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো।

 

তাকে বহিষ্কার করে তখন জাকির খানকে বানানো হয়েছিলো জেলা ছাত্রদলের সভাপতি। মূলত টিপুকে বহিষ্কার করার কারনেই তখন ছাত্রদল সাংগঠনিক ভাবে বিশাল শক্তি অর্জন করেছিলো। তাই টিপুর হাতে যখনই নেতৃত্ব যায় তখনই দলে সাংগঠনিক শক্তি হারায় বলে মনে করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। কারন তার আচরনে তার সাথে কেউ রাজনীতি করতে চায় না।

 

তাই টিপুর কারনেই মহানগর বিএনপিতে দলের একটি বড় অংশের সমর্থন হারিয়েছেন সাখাওয়াত। আগামী দিনগুলিতে এই টিপুর কারনে তাকে আরো অনেক বড় খেসারত দিতে হবে বলে মনে করেন এই জেলায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাই এই মুহুর্তে টিপু অর্থ কেলেঙ্কারির দায় সাখাওয়াতকেও বহন করতে হবে বলে মনে করেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী সমর্থকরা। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন